পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

পাঠ্যবইয়ে ‘ভুল’: এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে তলব

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-09-26 22:02:35 BdST

bdnews24

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের বিভিন্ন পাঠ্যবইয়ে ‘ভুল তথ্য’ ও ‘ইতিহাস বিকৃতি’র ব্যাখ্যা জানতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক (এনসিটিবি) বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা এবং একজন সদস্যকে তলব করেছে হাই কোর্ট।

আগামী ১০ নভেম্বর তাদের হাই কোর্ট হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। 

এ সংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে ‘দায়সারা’ ও ‘দায়িত্বহীন ভুল’ এবং জাতির সংগ্রামের গৌরবজ্জ্বল ইতিহাসের ‘বিকৃতি’ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

সেই সঙ্গে এসব ‘ভুল’ ও ‘বিকৃতি’ সংশোধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ভুল ও বিকৃতিসহ এসব পাঠ্যবই ছাপানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। 

চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব, ন্যাশনাল কারিকুলাম এন্ড টেক্সটবুক বোর্ডের চেয়ারম্যান, সদস্য (কারিকুলাম), সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের এর জবাব দিতে হবে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আলমগীর আলম গত ৬ সেপ্টেম্বর এ রিট অবেদনটি করেছিলেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আলী মুস্তফা খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

আইনজীবী আলী মুস্তফা খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের মোট ১১টি পাঠ্য বইয়ে ৫২টি ভুল ও বিকৃতি চিহ্নিত করেছেন আবেদনকারী। পাঠ্য বইয়ে এসব ভুল-বিকৃতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। যে কারণে আদালত এনসিটিবি চেয়ারম্যান ও একজন সদস্যকে তলব করেছেন এবং রুল জারি করেছেন।”

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, চারু পাঠ; সপ্তম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, সপ্তবর্ণা, গণিত;  অষ্টম শ্রেণির আনন্দপাঠ, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নীতি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র নিয়ে মোট ১১টি পাঠ্য বইয়ের ‘ভুল ও বিকৃতি’ তুলে ধরা হয়েছে রিট আবেদনে। 

সেখানে প্রথমেই বলা হয়েছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র বইটির কথা।

এনসিটিবি অনুমোদিত এস এস পাবলিকেশনস থেকে প্রকাশিত এ বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শিরোনামে দুর্নীতি দমন কমিশনকে ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, এই তথ্য বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইটির মোট ১১টি ভুল ও বিকৃতি তুলে ধরা হয়েছে আবেদনে।

এ বইয়ের ১৫৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ১৯৭০ সলের সাধারণ নির্বাচনে ও প্রাদেশিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ‘একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে’। এক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ সংখাগরিষ্ঠতা লেখা উচিত। 

১৫৭ পৃষ্ঠায় যুক্তফ্রন্টকে ‘চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে হবে পাঁচটি, কারণ খিলাফতে রব্বানী নামের একটি রাজনৈতিক দল যুক্ত ফ্রন্টের অংশ ছিল। এ দল থেকে শাহেদ আলী নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ বইয়ের ১৯৩ পৃষ্ঠায় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতে ‘চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি’ লেখা অছে। হবে, ‘চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, ও মা আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি/ সোনার বাংলা।’

তাছাড়া একাদশ অধ্যায়ের ১৯৫ পৃষ্ঠায় মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ কুষ্টিয়া মেহেরপুরে লেখা আছে। বর্তমানে মেহেরপুর স্বতন্ত্র একটি জেলা। 

একই অধ্যায়ের ২০৭ পৃষ্ঠায় যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনির জায়গায় হবে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনি। আর প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদকে ‘প্রধান করে’ এর পরিবর্তে হবে ‘অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি’ করে।

নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়- বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় ‘শেখ মুজিব’ লেখা হয়েছে। আবেদনকারীর বলেছেন, বর্তমানে সব ক্ষেত্রে তার নামের অগে ‘বঙ্গবন্ধু’ লিখতে হবে।

এ পাঠ্য বইটির ২২ পৃষ্ঠায় ‘মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি’ লেখা হয়েছে। হবে ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি’। 

এ বইয়ের ১১৪ পৃষ্ঠায় সিটি করপোরশনে ‘ডেপুটি মেয়র’ আছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সিটি করপোরেশনে ডেপুটি মেয়রের কোনো পদ নেই।

এছাড় ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ের তৃতীয় পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো এক সাহসী, ত্যাগী, ও দূরদর্শী নেতার ‘আবির্ভাব’ হয়।’

আবেদনে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু হঠাৎ ‘আবির্ভূত’ কোনো নেতা নন। তিনি তিলে তিলে বাঙালি জাতির নেতা হয়ে উঠেছেন।

অষ্টম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ে ১৩ পৃষ্ঠায় ‘মাইল’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ‘কিলোমিটার’ শব্দটি ব্যবহার করতে বলেছেন আবেদনকারী।