পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

নবপত্রিকায় দেবী দুর্গার বন্দনা

  • গ্লিটজ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-10-12 20:58:19 BdST

শারদীয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গার বন্দনা হয়েছে নবপত্রিকায়; দেবীর পদজলে উপবাস ভেঙে নিজের, পরিবারের ও দেশের জন্য মঙ্গলকামনা করেছেন ভক্তরা।

ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মণ্ডল বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের মাধ্যমে সপ্তমী পূজা শুরু হয়। এর আগে চণ্ডিমন্ত্র পাঠ করে পুরোহিতকে পূজা পরিচালনা দায়িত্ব দেওয়া হয়; যাকে পুরোহিত বরণ বলা হয়। 

“দেবী দুর্গার চরণে ভক্তরা অঞ্জলি দিয়েছেন; দেবীর পদজলে উপবাস ভেঙে প্রার্থনা করেছেন। আমরা মনে করি, সপ্তমী পূজার মাধ্যমে সপ্ত বহ্মাণ্ডের পাপ তিরোহিত হয়।”

দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর দিন সকালে পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দেবী দুর্গার সামনে প্রার্থনারত পুণ্যার্থীরা। ছবি: কাজী সালাহউদ্দিন রাজু

দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর দিন সকালে পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দেবী দুর্গার সামনে প্রার্থনারত পুণ্যার্থীরা। ছবি: কাজী সালাহউদ্দিন রাজু

নবপত্রিকা হল নয়টি গাছের পাতা। এই নয়টি উদ্ভিদকে দেবী দুর্গার নয়টি বিশেষ রূপের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

একটি কলা গাছের সঙ্গে কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধান গাছ শ্বেত অপরাজিতা লতা দিয়ে বাঁধা হয়। তারপর লালপাড় সাদা শাড়ি জড়িয়ে দেওয়া হয় ঘোমটা দেওয়া বধূর আকার। লোকজ ভাষায় এই নবপত্রিকাকে বলা হয় ‘কলা বউ’।

দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল মন্দিরে পুণ্যার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় প্রসাদ। ছবি: কাজী সালাহউদ্দিন রাজু

দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল মন্দিরে পুণ্যার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় প্রসাদ। ছবি: কাজী সালাহউদ্দিন রাজু

তাতে সিঁদুর দিয়ে সপরিবার দেবীপ্রতিমার ডান দিকে দাঁড় করিয়ে পূজা করা হয় মহাসপ্তমীর সকালে। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, এসব ক্রিয়ানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাজের কৃষিসম্পদ, খনিজসম্পদ, বনজসম্পদ, জলজসম্পদ, প্রাণিজসম্পদ ও ভূমিসম্পদ রক্ষা করার জন্য সাধারণ মানসে বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়।

সোমবার ষষ্ঠী তিথিতে বেলতলায় বিহিতপূজার পর দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় হয় দেবীর বোধন, অর্থাৎ ঘুম ভাঙিয়ে দেবীকে মর্ত্যে আসার আহ্বান জানানো হয়।

দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর দিন সকালে ঢাকার রমনা কালী মন্দির মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভিড়। ছবি: কাজী সালাহউদ্দিন রাজু

দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর দিন সকালে ঢাকার রমনা কালী মন্দির মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভিড়। ছবি: কাজী সালাহউদ্দিন রাজু

এবার সপ্তমী মঙ্গলবার হওয়ায় হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী দুর্গা এসেছেন ঘোড়ায় চড়ে। আর শুক্রবার দশমীতে কৈলাসে দেবালয়ে ফিরবেন দোলায় চেপে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির, রমনা কালীমন্দির ও শ্রীমা আনন্দময়ী আশ্রম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, আগের দিনের তুলনায় মণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় মণ্ডপের প্রবেশ পথে স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে; মাস্ক পরার বিষয়টিও প্রবেশ পথেই নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ঢাকেরতালে তালে মঙ্গলবার সকালে পুরনো ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শুরু হয় মহাসপ্তমীর পূজা। ছবি: কাজী সালাহউদ্দিন রাজু

ঢাকেরতালে তালে মঙ্গলবার সকালে পুরনো ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শুরু হয় মহাসপ্তমীর পূজা। ছবি: কাজী সালাহউদ্দিন রাজু

এবার দেশজুড়ে ৩২ হাজার ১১৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে; গত বছরের তুলনায় এক হাজার ৯০৫টি মণ্ডপ বেড়েছে। ঢাকায় এ বছর দুর্গ পূজা হবে ২৩৮টি মণ্ডপে।

হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, দশভূজা দেবী দুর্গা অসুর বধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যলোকে আসেন। সন্তানদের নিয়ে পক্ষকাল পিতার গৃহে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে। আশ্বিন শুক্লপক্ষের এই ১৫টি দিন দেবীপক্ষ, মর্ত্যলোকে উৎসব।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে শুক্রবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের শেষ হবে। একটি বছরের জন্য ‘দুর্গতিনাশিনী’ দেবী ফিরে যাবেন কৈলাসে দেবালয়ে।