পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

‘ক্ষতি পোষানোর’ পরিকল্পনা নিয়ে খুলছে ঢাবি

  • রাসেল সরকার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-10-16 17:14:56 BdST

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাড়তি ক্লাস নেওয়াসহ নিবিড় পাঠদানের পরিকল্পনা সামনে রেখে খোলা হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ।

‘স্বাস্থ্যবিধি’ মেনে রোববার থেকে চলবে সশরীরে পাঠদান ও পরীক্ষা। কোনো বিভাগ বা ইনস্টিটিউট চাইলে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ ক্লাস ভার্চুয়ালি নিতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় একাডেমিক কাউন্সিল প্রণীত ‘লস রিকোভারি প্ল্যান’ অনুসরণ করা হবে বলে জানান উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, পরীক্ষাসহ সেমিস্টার ৬ মাসের পরিবর্তে ৪ মাসে ও বার্ষিক কোর্স ১২ মাসের পরিবর্তে ৮ মাসে সম্পন্ন করা হবে। সিলোবাস সংকুচিত হবে না, অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা আছে। প্রয়োজনে শনিবারও ক্লাস নেওয়ার অনুমতি রয়েছে।

“আমাদের লক্ষ্য হলো মহামারীতে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া।”

সেজন্য এরই মধ্যে শরৎকালীন ও শীতকালীন ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোতে ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

মাকসুদ কামাল বলেন, ফল ঘোষণার ক্ষেত্রে সেমিস্টার পদ্ধতিতে ছয় সপ্তাহ ও বার্ষিক পদ্ধতিতে আট সপ্তাহের বেশি সময় নেওয়া যাবে না।”

স্বাস্থ্যবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রণীত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসেডিউরকে গুরুত্ব দিয়ে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, প্রায় সব শিক্ষার্থীই টিকার আওতায় এসেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের একাধিক সেকশনে বিভক্ত করে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

ঢাবির শরৎ ও শীতকালীন ছুটি বাতিল

বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট ফিরিয়ে আনছে করোনাভাইরাস  

পরীক্ষা ছাড়াই পরের সেমিস্টার, ঢাবি শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত যাত্রা  

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসায় অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে গত ৫ অক্টোবর প্রথম ধাপে  স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর এবং ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় ধাপে স্নাতক প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে উঠানো হয়।

এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বিজ্ঞান গ্রন্থাগারসহ বিভাগ-ইনস্টিটিউটের সেমিনার-লাইব্রেরিগু, পরিবহন সেবা সীমিত আকারে চালু করা হয় ।

রোববার থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য আগের মতো সব রুটের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন ম্যানেজার মো. আতাউর রহমান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের নিজস্ব বাস ছাড়াও বিআরটিসির যেসব বাস ব্যবহার করা হয়, তাদের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। আগের সূচি অনুযায়ীই নির্ধারিত সব রুটে বাস চলবে।”

২৩ অক্টোবর ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শেষে গ্রন্থাগারগুলো আগের মতো সপ্তাহে সাত দিন খোলা থাকবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক (ভারপ্রাপ্ত) নাসির উদ্দিন মুন্সী।

মানতে হবে যা

মহামারীকালে শ্রেণিকক্ষ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, পরিবহনে যাতায়াত,  হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা কীভাবে থাকবে,  রিডিং রুম, মসজিদ ও ক্যান্টিন কীভাবে ব্যবহার করবে, তা নিয়ে একটি এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসেডিউর) তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি।

শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সকলকে এই এসওপি মেনে চলতে নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

>> সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়মিত ও সার্বক্ষণিক নিয়মমাফিক নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরতে হবে। টিকা নেওয়ার পরেও সঠিক নিয়মে মাস্ক পরার পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

>> স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী পরস্পরের কাছ থেকে কমপক্ষে ১ মিটার (৩ ফুট)  শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

>> জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, সংবেদন হ্রাস, মাংসপেশীতে ব্যথা, মাথা ব্যথা, চোখ গোলাপী হয়ে যাওয়া বা গলা ব্যথাসহ অন্যান্য কোভিড ১৯ লক্ষণ থাকলে বাড়ি বা হলের কক্ষে অবস্থান করতে হবে এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রে বা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে কর্তৃপক্ষ।

>> প্রতিটি কাজের আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ভালোভাবে ধুতে হবে, হাত না ধুয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা যাবে না। করমর্দন এবং আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> যেখানে সেখানে কফ-থুথু ফেলা যাবে না, হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় হাতের কনুই-এর ভাঁজে বা টিস্যু দিয়ে মুখ ও নাক ঢাকতে হবে। প্রবেশ ও বহির্গমন পথে ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে এবং দৈহিক তাপমাত্রা পরিমাপ করতে হবে।

>> ক্লাসরুম, পরীক্ষার হল, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি ও অফিসসমূহে পর্যন্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পদ্ধতি ও নিয়ম (এসওপি) অনুসরণ করতে হবে।

>> পরীক্ষার হলে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করতে হবে।

>> কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ল্যাবরেটরির ধারণ ক্ষমতা, বসার ব্যবস্থা, কাজের বিন্যাস এবং যাতায়াতের পথযুক্ত নকশা তৈরি করতে হবে ও সর্বত্র প্রদর্শন করতে হবে।

>> গ্রন্থাগার ব্যবহারকারীদের যোগাযোগ সন্ধানের পদ্ধতি হিসেবে তাদের নাম এবং যোগাযোগ নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যবহারকারীদের বইয়ের তাকসমূহের কাছে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে না। গ্রন্থাগার কর্মীরা তাদের প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানে সহায়তা করবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ইস্যুকৃত পাঠ্য উপকরণগুলির নির্ধারিত সময় বর্ধিত করা হবে।

>> কোনো আবাসিক শিক্ষার্থীর দীর্ঘস্থায়ী কোনো অসুখ-বিসুখ (যেমন উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস প্রভৃতি) থাকলে তা আগেই হল প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। হলে অবস্থানকালে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থতা বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রের ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন এবং সংশ্লিষ্ট আবাসিক শিক্ষককে অবহিত করতে হবে।

>> কোনো শিক্ষার্থীর কোভিড-১৯ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে হাসপাতাল নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারী ব্যবস্থাপনার জন্য জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম যেমন- রোগ সনাক্তের জন্য ক্যাম্পাসে নমুনা সংগ্রহের বুথ স্থাপন, মৃদু লক্ষণ ও লক্ষণবিহীন কোভিড-১৯ রোগীদের আইসোলেশন, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং, কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হবে।

>> কোভিড-১৯ রোগীদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য ক্লাসরুম, ল্যাব, হল, ডাইনং রুম প্রভৃতি স্থানে প্রবেশকারীদের তালিকা লিখিত বা ইলেক্ট্রনিক উপায়ে সংরক্ষণ করতে হবে। ১৪ দিনের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট টিউটরিয়াল গ্রুপে/ক্লাসে/হলের ব্লকে কতজন কোভিড-১৯ শনাক্ত হলে তা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে, রোগতত্ত্ববিদদের সাথে পরামর্শ করে তা ঠিক করতে হবে।