পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে ঢাবি শিক্ষক সমিতি

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-10-19 21:30:02 BdST

কুমিল্লা ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি।

‘সাম্প্রদায়িকতা রুখে দিয়ে সম্প্রীতির বাংলাদেশ’ গড়ার আহ্বান জানিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে এ মানববন্ধন হয়।

এর আগে সোমবার সমিতির নেতারাসহ শিক্ষকদের ২২ জনের একটি প্রতিনিধি দল কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছিলেন।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। তবে মাঝে মধ্যেই এ ধরনের ধিকৃত ঘটনা আমাদের দেখতে হয়। এটা এই জাতির জন্য খুবই দুর্ভাগ্য এবং দুঃখজনক।”

কুমিল্লা ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতার দাবি জানিয়ে উপাচার্য বলেন, “কারা এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া এখন জরুরি কাজ। এটি যদি না করা হয় তাহলে ভবিষ্যতেও নানা সময়ে এই অপশক্তি আমাদের অসাম্প্রদায়িক, সম্প্রীতির বন্ধনকে নষ্ট করার অপতৎপরতায় লিপ্ত হবে।”

অধ্যাপক মীজানুর রহমান বলেন, “সাম্প্রদায়িক হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এসব ঘটনা নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘটে আসছে। কিন্তু কোনো হামলার বিচার হয় না। এসব ঘটনা ঘটলে হাজার হাজার লোকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, এতে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।”

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রহমত উল্লাহ বলেন, “যা কিছু ঘটছে, তা একটি অশনি সঙ্কেত। সর্ষের মধ্যে ভূত রয়েছে। এই সর্ষে হচ্ছে রাজনীতি ও অর্থনীতি। এই ঘটনার পর এখনও কোনো তদন্ত কমিটি গঠন হয়নি। এখনও সেখানে ধ্বংসস্তূপ রয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-আহ্বায়ক আবদুর রহিম, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম, নোয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এম ওয়াহিদুজ্জামান, নীল দলের আহ্বায়ক মুহাম্মদ সামাদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মিহির লাল সাহা, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর, টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানসহ শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের শৈল্পিক প্রতিবাদ

শিক্ষক সমিতির কর্মসূচির পর অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে 'দেখতে কি পাও, পুড়ছে বাংলা...' শীর্ষক একটি প্রতিবাদী নাট্য পরিবেশন করা হয়।

পরিবেশনার সময়ে বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক  ইসরাফিল সাহিন, সাইদুর রহমান লিপন, মোহাম্মদ আহসান খান ও নাভেদ রহমান উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশানাটির মুখ্য তত্ত্বাবধায়ক তানভির নাহিদ খান বলেন, “ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ নয়, বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জন্ম হয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। সব ধর্ম, বর্ণের মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণে মহান মুক্তিযুদ্ধে মরণপণ লড়াই করে এই রাষ্ট্রের  স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

“তবে সম্প্রতি দুর্গোৎসব সারাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনা এই বাংলার হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে হুমকির মুখে ফেলে, অসাম্প্রদায়িক এই রাষ্ট্রকে সংকটাপন্ন করেছে।”

বিভাগের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান লিয়ন বলেন, “আমাদের দেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। 'সকল ধর্ম, সকল জাতি সম অধিকার' মুক্তিযুদ্ধের এই মূল প্রতিপাদ্য নিয়ে আমরা বসবাস করি। যখন এর ব্যত্যয় ঘটে তখন রচিত হয় অন্যায়। এটা নিজ মাতৃভূমি তথা আপন জনের সাথে অন্যায়।”