পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

দক্ষিণায়নে অগ্নিকাণ্ড: মা-শিশুসহ দগ্ধ ৩ জন বার্ন ইন্সটিটিউটে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-10-27 17:16:31 BdST

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের জরুরি বিভাগে ফুপুর কোলে শুয়ে একটু পরপর চোখ মেলে চারদিক দেখার চেষ্টা করছে রাফিন নামের দুই বছরের শিশুটি। আগুনে ঝলসে গেছে তার মুখসহ শরীরের ৩০ শতাংশ। থেকে থেকে চোখ মেলে সে খুঁজছে তার মাকে। কিন্তু মা নেই তার কাছে। কারণ, অগ্নিকাণ্ডে তার মা উর্মির শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশই পুড়ে গেছে। তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন এইচডিইউতে।

ঢাকার গুলশানের ছয়তলা ভবন দক্ষিণায়নের দ্বিতীয় তলায় বুধবার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়েছে মালিহা আনহা উর্মি (৩২) ও তার শিশুপুত্র মসরুর মোহা. রাফিন (২)।

এই ঘটনায় দগ্ধ তারাসহ তিনজন এখন বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন। অন্যজন হলেন তাদের গৃহকর্মী মনি (৩৫)।

ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক আইয়ুব হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, উর্মির শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ, রাফিনের শরীরের ৩০ শতাংশ এবং মনির শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

রাজধানীর গুলশানের ১০৩ নম্বর সড়কের ছয় তলা আবাসিক ভবন দক্ষিণায়ণে বুধবার আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তা নিয়ন্ত্রণে আনে। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

বার্ন ইন্সটিটিউটের জরুরি বিভাগের সামনে উর্মির স্বজনরা আহাজারি করছিলেন।

উর্মির বাবা এস এম মহিউদ্দীন বুলবুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ছিলাম আমাদের ধানমণ্ডির বাসায়। খবর শুনে দৌড়ে এসেছি হাসপাতালে।

“ঘটনার সময় আমার মেয়ে উর্মি ফ্ল্যাটের দোতলায় তার বেডরুমে ছিল। তার কোলেই ছিল রাফিন। সেই রুমেই ছিল গৃহকর্মী মনি। হঠাৎ বিস্ফোরণের তারা তিনজনই দগ্ধ হয়।”

বুলবুল জানান, উর্মির স্বামী রফিকুল ইসলাম তখন বাসায় থাকলেও অন্য একটি কক্ষে ছিলেন।

রফিকুল একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। তিনি দগ্ধ না হলেও সামান্য আহত হয়েছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।

গুলশানে ভবনে আগুন, দগ্ধ ৭  

রাজধানীর গুলশানের ১০৩ নম্বর সড়কের একটি ছয় তলা আবাসিক ভবনে বুধবার অগ্নিকাণ্ড ঘটে। দোতলার একটি ফ্ল্যাটের প্রায় সব কিছুই আগুনে পুড়ে যায়। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুলশান ২ নম্বর সেকশনের ১০৩ নম্বর সড়কের ওই ভবনের দোতলায় বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা পৌনে ১টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

বারিধারা ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. ফরহাদুজ্জামান জানান, ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার চারটি কক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি কক্ষে এসি বিস্ফোরিত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

আর আগুনের তাপের কারণে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলাও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দ্বিতীয় তলায় থাকা কয়েকজন আহত ও দগ্ধ হয়েছে। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।