পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

পাহাড়ি সংগঠনের নেতাকে জামিন না দিয়ে পুলিশে দিল হাই কোর্ট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-11-30 20:56:50 BdST

bdnews24

অর্থ পাচারের মামলার জামিন চাইতে আসা পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের সংগঠনের এক নেতার আবেদন খারিজ করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে হাই কোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের এ আদেশ দেয়।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সদস্য শংকদীস বড়ুয়ার আগাম জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয় আদালত।

জামিন আবেদনে পক্ষ-বিপক্ষের শুনানি তুলে ধরে আদালত আদেশে বলেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাঙামাটি মূখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে শংকদীসকে উপস্থাপন করার জন্য তাকে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হল।  

এর আগে ভার্চুয়ালি যুক্ত রাঙামাটির পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেনের কাছ থেকে আসামির বিষয়ে বক্তব্য শুনেন আদালত।

সিআইডির এসআই মেহেদী হাসান বাদি হয়ে ১৯ অক্টোবর রাঙামাটি সদর থানায় শংকদীস বড়ুয়ার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা করেন।

এ মামলায় আগাম জামিন নিতে হাই কোর্টে এসেছিলেন শংকদীস বড়ুয়া। 

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও তাপস কুমার বিশ্বাস। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

মানিক সাংবাদিকদের বলেন, শংকদাস বড়ুয়ার আগাম জামিন শুনানির সময় আদালত তার বিষয়ে রাঙামাটি পুলিশ সুপারের কাছে খবর নিতে মৌখিক নির্দেশ দেন। কথা বলে জানালে, আদালত পুলিশ সুপারকে জুম আইডির মাধ্যমে সংযুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেন। তখন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন জুম আইডির মাধ্যমে আদালতে যুক্ত হন। আদালত পুলিশ সুপারের কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে জামিন আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন। আর আসামিকে শাহবাগ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন।

তবে অর্থ পাচারের মামলায় ‘ইউপিডিএফ ও জেএসএসকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে দেখানো’ এবং পুলিশের কথার ভিত্তিতে সেগুলোর সঙ্গে জড়িত বিবেচনায় শংকদীস বড়ুয়াকে জামিন না দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন আইনজীবী তাপস।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, পুলিশ এফআইআরে ইউপিডিএফ ও জেএসএসকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে দেখিয়ে সেগুলোর সঙ্গে শংকদীস বড়ুয়ার সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সদস্য হওয়া তো দোষের কিছু না।

“পুলিশ বললেই কি একটা সংগঠন জঙ্গি সংগঠন হয়ে যায়? অথচ জেএসএসের সঙ্গে সরকারের শান্তি চুক্তি হয়েছে। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও মাদক আইনেও মামলা আছে। অথচ ওই দুই মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত।”

তাছাড়া শংকদীসের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তিনি। 

তাপস বলেন, “২০১৩ থেকে ২০২০ পর‌্যন্ত অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ মামলা হয়েছে গত মাসে। এসব যুক্তিতে আগাম জামিন চেয়েছিলাম। আদালত আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।”

মামলায় বলা হয়, শংকদীস বড়ুয়া মা-বাবা টিম্বার এন্ড সাপ্লাইয়ার ব্যবসার আড়ালে মূলত ইউপিডিএফ ও জেএসএস নামক দুটি সংগঠনের সদস্য হয়ে চাঁদাবাজি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, জনতা ব্যাংক লিমিটেড ও গ্রামীণ ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন শাখায় মোট ৯টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া যায়। এতে সর্বমোট ১৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২৪ টাকা উত্তোলন করে। তার মানি লন্ডারিংয়ের পরিমাণ আনুমানিক ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।