পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে শেষ বিদায়

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-12-01 17:52:37 BdST

আজীবন শিক্ষার দীপ জ্বেলে যাওয়া জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের অবদান স্মরণ করে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

বুধবার দুপুরে তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়ার পর প্রথমে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের পক্ষে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর শ্রদ্ধা জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে।

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, পররাষ্ট্র মন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রী, যুবলীগ সভাপতি, ছাত্রলীগ সভাপতি এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই জাতীয় অধ্যাপকের মরদেহে শ্রদ্ধা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক সমিতি এবং ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র।

ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার মারা যান অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিক্ষক ও গবেষকের বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত সবার কাছে রফিকুল ইসলামের জন্য দোয়া চান তার ছেলে বর্ষণ ইসলাম।

পরে কফিন নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে শায়িত হন এই ভাষাসংগ্রামী।  

১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা গ্রামে রফিকুল ইসলামের জন্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে লেখাপড়া শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাতত্ত্বে উচ্চশিক্ষা নেন।

তিনিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপক এবং নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক।

বাংলাদেশ যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে, তিনি ছিলেন সেই উদযাপনের জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি।

ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেওয়া রফিকুল ইসলাম সেই সময়ের দুর্লভ আলোকচিত্র ধারণ করেছেন নিজের ক্যামেরায়। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি জীবনও কাটাতে হয়েছে তাকে। বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের এই প্রত্যক্ষ সাক্ষী সেইসব ইতিহাস গ্রন্থিত করে গেছেন তার লেখায়।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে প্রথম গ্রন্থ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাসের প্রথম গ্রন্থটিসহ প্রায় ৩০টি বই তার হাত দিয়েই পেয়েছে বাংলাদেশ।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য রফিকুল ইসলাম ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসেরও উপাচার্য ছিলেন। ২০১৮ সালে সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক করে নেয়।

এক সময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা রফিকুল ইসলামকে গত ১৮ মে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছিল সরকার। আমৃত্যু তিনি সেই দায়িত্বে ছিলেন।

মাতৃভাষা সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন, বিকাশ, চর্চা, প্রচার-প্রসারে অবদান রাখায় এ বছর তাকে প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকে ভূষিত করা হয়।

স্বাধীনতা ও একুশে পদক পাওয়া শিক্ষাবিদ, গবেষক ও লেখক ড. রফিকুল ইসলাম বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও নজরুল একাডেমি পুরস্কারও পেয়েছেন।

আরও পড়ুন

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম: শিক্ষক, সংগ্রামী আর সাধকের প্রতিকৃতি  

রফিকুল ইসলাম: ‘মনে প্রাণে একজন শিক্ষক’  

শিক্ষক, গুরুজন ও অভিভাবককে হারালাম: প্রধানমন্ত্রী  

অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের চিরপ্রস্থান