পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

মুরাদকে ক্ষমা চাইতে হবে, নইলে আইনি ব্যবস্থা: কাজল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-12-06 22:41:31 BdST

bdnews24
মুরাদ হাসানের কুশপুতুল পোড়ায় লক্ষ্মীপুরের ছাত্রদল নেতারা।

খালেদা জিয়ার নাতনী জাইমা রহমানকে নিয়ে ‘অশ্লীল ও কুরুচিকর’ বক্তব্যের জন্য তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল।

দুই দিনের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বিএনপির এই আইনজীবী নেতা।

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুমকি দেন কাজল।

প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় এক আলোচনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়েকে নিয়ে বর্ণবিদ্বেষী এবং অবমাননাকর বক্তব্য করেন, যার সমালোচনা হচ্ছে।

এর মধ্যে এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে মুরাদের টেলিকথোপকথন সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, মুরাদকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

তার আগে দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে সংবাদ সম্মেলনে কাজল বলেন, “জাইমা রহমান সম্পর্কে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান যে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন, তা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

“আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি, প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার মুরাদ হাসান বিভিন্ন ব্যক্তি, বিশেষ করে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সম্পর্কে যথাবিহিত আচরণ করার ক্ষেত্রে মন্ত্রী হিসেবে তিনি যে সাংবিধানিক শপথ গ্রহণ করেছেন, তা লঙ্ঘন করে চলেছেন। জাতি হিসেবে এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।”

প্রতিমন্ত্রীর মতো একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে তার এসব মন্তব্য ‘জাতি হিসেবে আমাদের কলঙ্কিত করেছে’ বলে মন্তব্য করেন কাজল।

“ব্যারিস্টার জাইমা রহমান সম্পর্কে ডা. মুরাদ হাসান যে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে জাতির সামনে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

এই সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে সমিতির সম্পাদক বলেন, “আমাদের জানা মতে, একটি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হলেও ব্যারিস্টার জাইমা রহমান নিজে কোনো রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আইন পেশায় কর্মরত। স্বাভাবিকভাবেই তিনি দেশেও আইন পেশায় নিয়োজিত হবেন।

“সে হিসাবে তিনি আইনজীবী পরিবারেরই সদস্য। আমাদের দায়িত্ব অনুজদের জন্য নিরাপদ পেশাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা। প্রতিমন্ত্রী আমাদের তরুণ ব্যারিস্টার (জাইমা) সম্পর্কে যে লাগামহীন মন্তব্য করেছেন, তা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, সর্বদা পরিত্যাজ্য।”

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহসভাপতি মো. জালাল উদ্দিন, সহসম্পাদক মাহমুদ হাসান ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ, পারভীন কাওসার মুন্নী ও রেদওয়ান আহমেদ রানজীবসহ বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।