পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

ভিসি ফরিদের পদত্যাগ দাবি শিক্ষক নেটওয়ার্কের

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2022-01-18 18:20:03 BdST

bdnews24
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে প্রত্যাখ্যান করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

এই সংগঠনে যুক্ত দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭ জন শিক্ষক মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার নিন্দা জানিয়ে এ দাবি করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা গণমাধ্যমে এ বিবৃতিটি পাঠান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ফরিদ বর্তমানে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। তার পদত্যাগের দাবিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন আন্দোলনে রয়েছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবার আন্দোলনের সূত্রপাত।

শনিবার ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা হলে ছাত্র-ছাত্রীরা রোববার উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে।

তাকে মুক্ত করতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা হলেও শিক্ষার্থীরা এখন উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে।

শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে বলা হয়, “শাবিপ্রবিতে যা ঘটেছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে কেবল যে উপাচার্য ব্যর্থ হয়েছেন, তাই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ওপরে হামলার নির্দেশ দিয়ে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন তিনি। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে উপচার্যের পদত্যাগ চাই।”

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করার নিন্দাও জানিয়েছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশে, বিশেষত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যারা পরিচালনা করেন, তারা আচার-আচরণে প্রায়শই শাসকের ভূমিকায় আবির্ভূত হন এবং শিক্ষার্থীরা যেন প্রজা, এমন আচরণ করেন।

“তাদের শাসন এক পর্যায়ে স্বৈরশাসনে রূপ নেয়, আন্দোলনকারীদের দমন করতে কখনো ক্ষমতাসীন দলের সংগঠন ছাত্রলীগ, কখনোবা পুলিশকে লেলিয়ে দেন তারা। অথচ উপাচার্য়-প্রভোস্ট এসব পদে শিক্ষকরাই থাকেন। নিজের পদ-গদি রক্ষার জন্য এরা শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত করতে পিছপা হন না।”

বিবৃতিদতাদের মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী,   জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মানস চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. সাদেকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহীন, 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল হক ভূঁইয়া, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও প্রোডাকশন কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান, গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আরিফুজ্জামান রাজীব, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক প্রিয়াংকা কুন্ডু।