পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

শিমুর স্বামী নোবেল, তার বন্ধু ফরহাদ রিমান্ডে

  • আদালত প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2022-01-18 21:39:05 BdST

bdnews24
রাইমা ইসলাম শিমু হত্যার মামলায় তার স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল (বাঁয়ে) এবং স্বামীর বন্ধু আব্দুল্লাহ ফরহাদ রয়েছেন পুলিশ হেফাজতে।

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যার মামলায় তার স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল এবং স্বামীর বন্ধু আব্দুল্লাহ ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ইতোমধ্যে জানিয়েছে, দাম্পত্য কলহের জের ধরে নোবেল স্ত্রী শিমুকে হত্যা করার পর লাশ গুম করতে বন্ধু ফরহাদের সহায়তায় বস্তাবন্দি করে তা কেরানীগঞ্জে ফেলে এসেছিল।

তবে তাদের দাম্পত্য কলহের কারণ কী ছিল, তা এখনও জানা যায়নি।

শিমুর ভাই হত্যামামলা দায়ের করার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই চুন্নু মিয়া আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেককে ১০ দিন করে রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন।

ঢাকার বিচারিক হাকিম রাবেয়া বেগম দুই আসামি নোবেল ও ফরহাদের প্রত্যেককে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না বলে জানিয়েছেন ওই আদালতে পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন।

শিমুকে ‘শ্বাসরোধে’ হত্যার পর লাশ ভরা হয়েছিল বস্তায়  

স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকার গ্রিনরোড এলাকার বাসায় থাকতেন ৪০ বছর বয়সী শিমু।

শুটিংয়ের জন্য রোববার বাসা থেকে বেরিয়ে শিমু আর ফেরেননি উল্লেখ করে সোমবার কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন নোবেল।

এর মধ্যে সোমবার দুপুরে স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জের হজরতপুর সেতুর কাছে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশে বস্তাবন্দি এক নারীর লাশ উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। এটি যে শিমুর লাশ তখনও তা জানা যায়নি।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী রমজানুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, লাশটি দুটি বস্তায় ভরা ছিল। একটি চটের বস্তা পায়ের দিক থেকে আরেকটি মাথার দিক থেকে ঢুকিয়ে মাঝ বরাবর সেলাই করা হয়েছিল।

খুন করার পর লাশটি গাড়িতে করে নিয়ে আলিয়াপুর এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়, বলেন তিনি।

রাইমা ইসলাম শিমু।

রাইমা ইসলাম শিমু।

পুলিশ লাশ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেওয়ার পর রাতে সেখানে গিয়ে তা শিমুর বলে শনাক্ত করেন তার বড় ভাই শহীদুল ইসলাম খোকন।

তিনি হত্যাকাণ্ডের জন্য বোনজামাইকে দায়ী করে বলেন, ‘মাদকাসক্ত’ নোবেলের সঙ্গে শিমুর দাম্পত্য কলহ ছিল।

খোকন দাবি করেন, বাসাতেই শিমুকে খুন করে লাশ সরিয়ে নেওয়া হয় নোবেলের গাড়িতে।

খোকনের অভিযোগের পর সোমবার রাতেই নোবেল ও ফরহাদকে আটক করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নেওয়া হয়।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার মঙ্গলবার দুপুরে তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন।

তিনি বলেন, ‘পারিবারিক বিষয়াদি ও দাম্পত্য কলহের’ কারণে শিমুকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করেছে শিমুর স্বামী নোবেল এবং লাশ গুম করতে সহায়তা করেছেন নোবেলের বন্ধু ফরহাদ।

তিনি বলেন, “পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী নোবেলের সাথে (শিমুর) দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। দাম্পত্য কলহের জেরে গত ১৬ জানুয়ারি (রোববার) সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে যে কোনো সময় খুন হন শিমু।”

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, শিমুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল।