পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

সেগুনবাগিচায় মাজারের সম্পদ ‘আত্মসাতের’ অভিযোগ

  • আদালত প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2022-01-23 15:49:40 BdST

bdnews24

ইজারার শর্ত ভেঙে ঢাকার সেগুনবাগিচার একটি মাজারের জায়গা আত্মসাত এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন চিশতি নিজামী।

তিনি বলেন, খানকা বাজমে চিশতিয়া নিজামিয়া পাঞ্জেরিয়া মাজারের সম্পদ ‘আত্মসাতের জন্য’ মো. ইয়ামিনুল হাসান চিশতি নিজামী নিজেকে পীর দাবি করে ব্যক্তি মালিকানার সম্পদ হিসাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।

এর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার কথা জানিয়ে কামাল বলেছেন, ইয়ামিনুল ওই খানকায় ‘ধর্ম চর্চা, নামাজে প্রবশে বাধা, মাজার জিয়ারতে বাধা দেওয়াসহ নানা রকম কাজ’ করে আসছেন; সেখানে আয় ব্যয়ের কোনো হিসাব নেই।

তিনি বলেন, “২০১১ সানের ১০ এপ্রিলে লিজ নবায়ন চুক্তির ৭ নম্বর শর্ত ভঙ্গ করে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে তারা। জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়াই সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে তিনটি পরিবার বসবাস করে আসছে।”

সংবাদ সম্মেলমে কামাল বলেন, খানকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন পীর সৈয়দ মোহাম্মদ ইয়াকুব হাসান চিশতি। তার মৃত্যুর পর থেকে সুফী ভাবাদর্শের প্রচলিত ধারাটির অবসান ঘটে।

“খানকার স্বকীয়তার অবসান ঘটিয়ে এক স্বার্থান্বেষী মুরিদের প্ররোচনায় খানকার জন্য বরাদ্দকৃত লিজ নেওয়া জমিটি ব্যক্তি মালিকানায় নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, পীর ইয়াকুব হাসান চিশতি তার দুই ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ ইউনুস হাসান চিশতি নিজামী ও সৈয়দ মোহাম্মদ ইয়াহিয়া হাসান চিশতি নিজামীকে রেখে মারা যান। খেলাফতপ্রাপ্ত অবস্থায় ইউনুস হাসান চিশতির মাজার শরীফ পরিচালনা করে আসছিলেন।

“তাদের বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর মাজার শরীফ চত্বরে তাদের দাফন করা হয়। পরে ইউনুস মারা গেলে তাকেও সেখানে কবর দেওয়া হয়। পরে দায়িত্ব নেন ইয়াহিয়া। জীবদ্দশায় তিনি বলে যান, মারা গেলে মাজার শরীফে বাবা-মায়ের পাশে যেন দাফন করা হয়।

“কিন্তু গত ডিসেম্বরে ইয়াহিয়ার মৃত্যুর পর তার ভাতিজা ইয়ামিনুল হাসান চিশতি মাজারের দায়িত্ব নেন। রেওয়াজ ভেঙে ইয়াহিয়ার মরদেহ মাজার শরীফে দাফনে বাধা দেন। এ বিষয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের স্মরণাপন্ন হলে সমাধানের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়।”

সংবাদ সম্মেলনে কামাল বলেন, ইয়ামিনুলরা ব্যক্তি মালিকানায় নামজারী দেখিয়ে মাজারের সম্পত্তির খাজনা পরিশোধ করেন। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক নামজারী বাতিল করে দেয় এবং ব্যক্তি মালিকানার বিষয়টিতে আপত্তি জানিয়ে মাজারের নামে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সংযোগের ব্যবস্থা করে।

“খানকার সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য চুক্তিপত্রের শর্ত ভেঙে ইয়ামিনুল হাই কোর্টে রিট করেন। এখনও এ বিষয়ে শুনানি হয়নি। রিটের কারণ, ইয়াহিয়া চিশতির দেহ যেন মাজারে দাফন করা না হয়। এতে উল্টো ইয়াহিয়াকে দাফনের উদ্যোগকেই লিজ চুক্তির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করা হয়।”

রিট আবেদনে প্রতিপক্ষ করা হয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও রমনা থানার ওসিকে। যেহেতু মাজারের বাইরে তাকে দাফন করা হয়েছে, সেহেতু রিটের ‘কার্যকারিতা নেই’ বলে দাবি করেন কামাল।

তিনি বলেন, “যদি রিটটি চলে, তবে আমরা পক্ষভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করব। আদালতের আদেশ মথা পেতে নেব।”

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইয়ামিনুল বলেন, “এটি মিথ্যাচার মাত্র। অনেকেই দরবারের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে। এখানে কোনও দানবাক্স পর্যন্ত নেই। ব্যবসায়িক উদ্দেশে মাজার ব্যবহার হচ্ছে কিনা দেখে যান।

“উনারা আমার বিরুদ্ধে জিডি করেছেন। সেটি তারা যেন প্রত্যাহার করে নেন।”