পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

অবৈধ সম্পদ: সাবেক ডিআইজি মিজান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে আরও দুজনের সাক্ষ্য

  • আদালত প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2022-01-24 23:05:40 BdST

bdnews24
অবৈধ সম্পদের মামলায় সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে হাই কোর্টের নির্দেশে গ্রেপ্তারের পর দিন মঙ্গলবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে হাজির করা হয়।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী, ভাই এবং ভাগ্নেসহ চারজনের বিরুদ্ধে আরও দুজনের সাক্ষ্য নিয়েছে আদালত।

এ মামলায় আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত। এ নিয়ে আলোচিত এ মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হল।

সোমবার ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে কর অঞ্চল-৪ এর সহকারী কর কমিশনার রিয়াসাদ আজিজ ও এশিয়ান সি ফুড লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুর রহমান সাক্ষ্য দেন।

আদালতের বিচারক আসাদ মো. আসিফুজ্জামান তাদের সাক্ষ্য নেওয়ার পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

তিন কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তিন কোটি সাত লাখ পাঁচ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে গত বছর ২৪ জুন মিজানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক।

মামলায় ডিআইজি মিজান ছাড়া অপর আসামিরা হলেন-তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না ওরফে রত্না রহমান, ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান এবং ভাগ্নে মাহমুদুল হাসান।

মাহমুদুল রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালের ২৬ আগস্ট তিনি সেখানে এসআই হিসেবে যোগ দেন।

২০২০ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আসিফুজ্জামান এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মিজানুর রহমান তার ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানের নামে ২৪ লাখ ২১ হাজার ২২৫ টাকায় শুলশান-১ এর পুলিশ প্লাজা কনকর্ডে ২১১ বর্গফুট আয়তনের একটি দোকান বরাদ্দ নেয়।

মিজানুর রহমান নিজে নমিনি হয়ে তার ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানের নামে ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর একটি ব্যাংকে এফডিআর অ্যাকাউন্ট করে ৩০ লাখ টাকা জমা করেন।

তবে দুদক অনুসন্ধান শুরু করলে সে টাকা ভাঙ্গিয়ে সুদে আসলে ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার ৫৭ টাকা তুলে ফেলেন। 

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিজানুর রহমান তার স্ত্রী রত্না কাকরাইলে ১৭৭৬ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক ফ্ল্যাট ক্রয়ে ২০১১ সালে চুক্তিনামা করে বিভিন্ন সময় ১ কোটি ৭৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫০ টাকা নির্মাণ কোম্পানিকে পরিশোধ করেন। পরে ২০১৬ সালে ফ্ল্যাটটি ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানের নামে দলিল রেজিস্ট্রি করেন।

এ মামলায় মিজান গতবছরের ১ জুলাই হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করলে তা নাকচ হয় এবং হাই কোর্ট বেঞ্চ তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়।

তার ভাগ্নে মাহমুদুল হাসান ৪ জুলাই একই আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠায় গত বছরের জানুয়ারিতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মিজানুর রহমানকে।

তার বৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চলার মধ্যেই দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৬ জুলাই আরেকটি মামলা হয়। এই মামলায় মিজান-বাছির দুইজনই আসামি। ঘুষকাণ্ডের পর এনামুল বাছিরও সাময়িক বরখাস্ত হন।

ঘুষের মামলায় পুলিশের বরখাস্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান এবং দুদকের বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে দুদক।

আরও পড়ুন

মিজান-বাছিরের সর্বোচ্চ সাজা চাইল দুদক  

ডিআইজি মিজানের স্ত্রী ও ভাইকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা  

ডিআইজি মিজানের ভাগ্নেকে জামিন দেয়নি ভার্চুয়াল  হাই কোর্ট  

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলা