পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

রায়ের পর বেঙ্গালুরুতে নির্যাতিত সেই তরুণীকে ফেরত পাঠালো ভারত

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2022-05-22 01:00:17 BdST

ভারতের বেঙ্গালুরুতে নির্যাতনের শিকার সেই তরুণীকে বাংলাদেশের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে; তার সঙ্গে মানবপাচারের শিকার আরও তিন তরুণী ফেরত এসেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাদের ঢাকায় আনা হচ্ছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে তাদের রাখা হবে।

বাংলাদেশি ওই তরুণীতে ২০২১ সালে বেঙ্গালুরুতে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও দুই দেশেই ‘ভাইরাল’ হয়েছিল। এরপর উভয় দেশের পুলিশের তৎপরতায় নির্যাতনকারী ও মানবপাচার চক্রের অনেকেই গ্রেপ্তার হন।

বেঙ্গালুরুতে ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের ছবি প্রকাশ করেছিল আসাম পুলিশ

বেঙ্গালুরুতে ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের ছবি প্রকাশ করেছিল আসাম পুলিশ

শুক্রবার বাংলাদেশি ওই তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত টিকটক হৃদয় বাবুসহ ১১ বাংলাদেশির সাজা হয়েছে।

তাদের মধ্যে সাত জনকে যাবজ্জীবন এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে বেঙ্গালুরুর বিশেষ আদালত এ রায় দেয় বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- চাঁদ মিয়া, মোহাম্মদ রিফাকদুল ইসলাম (হৃদয় বাবু), মোহাম্মদ আলামিন হোসেন, রকিবুল ইসলাম, মোহাম্মদ বাবু শেখ, মোহাম্মদ ডালিম ও আজিম হোসেন।

তানিয়া খান নামের এক নারী আসামির ২০ বছর এবং মোহাম্মদ জামাল নামের একজনের পাঁচ বছরের দণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

আর ফরেনার্স অ্যাক্টের অধীনে নুসরাত ও কাজল নামে দুজনের ৯ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারে খালাস পেয়েছেন একজন।

২০২০ সালের মে মাসে বেঙ্গালুরুতে ২২ বছরের এক বাংলাদেশি তরুণীকে বিবস্ত্র করে শারীরিক নির্যাতনের পর দল বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। কয়েক দিন বাদে নির্যাতনের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

হৃদয় বাবু, যিনি টিকটক হৃদয় নামে পরিচিত

হৃদয় বাবু, যিনি টিকটক হৃদয় নামে পরিচিত

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি দেখার পর প্রথম পদক্ষেপ নেয় আসাম পুলিশ। ওই ভিডিও থেকে পাঁচ নিপীড়কের ছবি প্রকাশ করে তাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য টুইটারে পুরস্কারের ঘোষণা দেয় তারা। পরে ওই ঘটনায় বেঙ্গালুরু পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে টিকটক হৃদয় বাবুসহ দুজন পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গ্রেপ্তার হয় বলে তখন জানায় ভারতের পুলিশ।

ওই ঘটনায় ঢাকার হাতিরঝিল থানায় মানবপাচার ও পর্নগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন নির্যাতনের শিকার মেয়েটির বাবা। পরে ঢাকার পুলিশ হৃদয় বাবুর সহযোগীসহ অনেককেই গ্রেপ্তার করে; বেরিয়ে আসে মানবপাচারের আরও অনেক তথ্য।

বেঙ্গালুরুতে তরুণীকে নির্যাতন: হৃদয় বাবুসহ ১১ বাংলাদেশি দণ্ডিত  

বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের ভাইরাল ভিডিও: ঢাকায় মামলা, ভারতে গ্রেপ্তার ৬

ভুলিয়ে সীমান্ত পার, এরপর ‘টিকটক হৃদয়’ চক্রের নির্যাতন

ভারতে নির্যাতিত তরুণীর বাবা ভাবতেন, মেয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে  

‘টিকটক হৃদয়’ চক্রের শিকার আরেক কিশোরী ভারতে, বাবার মামলা

টিকটক হৃদয়ের সহযোগী অনিকসহ পাঁচজন রিমান্ডে

টিকটক হৃদয়ের হয়ে ‘কাজ করত’ অনিকের গ্রুপ, গ্রেপ্তার ৫

এত নারী পাচার কীভাবে হল?