২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫

শফিউল খুন: এখন র‌্যাবের দেখানো পথেই পুলিশের তদন্ত

  • রাজশাহী প্রতিনিধি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2014-11-26 22:48:21 BdST

প্রথমে ভিন্ন মত জানালেও এখন র‌্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা ‘ব্যক্তিগত আক্রোশকে’ কারণ হিসেবে ধরেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এ কে এম শফিউল ইসলাম হত্যার তদন্তে এগোচ্ছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে র‌্যাবের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত জানানোর দুদিন পর বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, “র‌্যাবের হাতে আটক ছয়জন ব্যক্তিগত কারণ থাকার যে তথ্য দিয়েছে, তদন্ত সেদিকেই এগোচ্ছে।”

তবে এই হত্যার সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা এবং জামায়াতে ইসলামীর যোগসূত্র থাকার যে সন্দেহ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিলেন তারা, সেসবও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

র‌্যাব ছয়জনকে আটকের পর ব্যক্তিগত আক্রোশে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের দিকটি নির্দেশ করলে গত সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ কমিশনার শামসুদ্দিন বলেছিলেন, ব্যক্তিগত কোনো কারণ তাদের তদন্তে পাওয়া যায়নি।

“ঘটনার পর পুলিশ ব্যক্তিগত, পেশাগত ও জঙ্গি ইস্যুকে সামনে রেখে তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত কোনো বিষয় পাওয়া যায়নি।”

“তবে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য থেকে পেশাগত বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আর জঙ্গি ইস্যুতে তদন্তে ছাত্রশিবিরের জড়িত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।”

ওই দুটি বিষয়কে সামনে রেখে এক-দুইদিনের মধ্যেই অধ্যাপক হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনের কথা সেদিন বলেছিলেন শামসুদ্দিন।

গত সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ শামসুদ্দিন

বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।”

গত ১৫ নভেম্বর দুপুরের পর ক্যাম্পাস সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজের বাসার কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয় লালনভক্ত অধ্যপক শফিউলকে।

শফিউল খুন হওয়ার পর ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ দাবি করেছিল ‘জামায়াত নিয়ন্ত্রিত’ জঙ্গিরা এই হত্যায় জড়িত।

পরে রাজশাহীর যুবদল এবং ছাত্রদল নেতাসহ ছয়জনকে আটকের পর গত রোববার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব দাবি করে, ‘ব্যক্তিগত অপমানের’ প্রতিশোধ নিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় এই ব্যক্তিরা।

র‌্যাবের হাতে আটকদের মধ্যে পাঁচজনকে মঙ্গলবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার জন্য রাজশাহীর আদালতে হাজির করেছিল পুলিশ। কিন্ত ‍তারা দোষ স্বীকার করতে রাজি হয়নি, যদিও র‌্যাব হেফাজতে তারা দায় স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার শামসুদ্দিন বলেন, “নিজেদের রক্ষা করার কৌশল হিসেবে তারা আদালতে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

“তারা আদালতে স্বীকার না করলে যে এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে না- তা নয়। তাদের ব্যাপারে আমাদের কাছে তথ্য প্রমাণ রয়েছে।”