১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৫

জয়ের মন্তব্যে উৎসাহিত মৌলবাদীরা: জাফর ইকবাল

  • শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2015-05-13 16:25:17 BdST

bdnews24

ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করার পাশাপাশি সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য মৌলবাদীদের উৎসাহিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

সিলেটে অনন্তকে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যার একদিন পর তার প্রতিবাদে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে ওই মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, “হত্যাকাণ্ডকে স্পর্শকাতর বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় যে স্টেইটমেন্ট দিয়েছেন, তা মৌলবাদীদের জন্য একটা গ্রিন সিগনাল।

“মনে হচ্ছে, তোমরা (জঙ্গিরা) এভাবে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাও, সরকার কিছুই করবে না। একজন একজন করে মারা হবে, সরকার কোনো কথা বলবে না।”

অনন্ত যে ব্লগে লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন, সেই সাইটের পরিচালক অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ড নিয়ে তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যার অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানতে রয়টার্স কথা বলেছিল প্রধানমন্ত্রীপুত্র জয়ের সঙ্গে।

ঢাকায় স্বামীর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে বন্যার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জয় বলেছিলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি তার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য এতটাই নাজুক যে প্রকাশ্যে তার কিছু বলা স্পর্শকাতর ছিল, তাই তিনি ব্যক্তিগতভাবে অভিজিতের বাবাকে সহমর্মিতা জানিয়েছিলেন।

অভিজিৎকে ‘ঘোষিত নাস্তিক’ উল্লেখ করার পর রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে জয়কে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “আমরা (আওয়ামী লীগ) নাস্তিক হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। তবে এতে আমাদের মূল আদর্শের কোনো বিচ্যুতি হবে না। আমরা ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী।”

জাফর ইকবাল বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ছেলে যা বলেছেন, তা মানতে আমি রাজি না। আমি তীব্রভাবে এর প্রতিবাদ জানাই। এদেশে প্রত্যেকটা মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার আছে, তাদেরকে মেরে ফেললে তা সেনসিটিভ ব্যাপার হয় না।”

যুক্তরাষ্ট্রে থেকে লেখালেখির জন্য ধর্মীয় উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে থাকা অভিজিৎ গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফেরার পর বই মেলার বাইরে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অভিজিতের স্ত্রী বন্যাও ওই হামলায় নিজের একটি আঙুল হারান।

অনন্ত বিজয় দাশ

অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের দেড় মাসের মধ্যে ঢাকায় অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর দেড় মাসের মাথায় সিলেটে খুন হন ব্লগার অনন্ত।

এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গিদের সম্পৃক্ততার সন্দেহ পুলিশের। তবে অভিজিতের খুনিদের এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। ওয়াশিকুর হত্যাকাণ্ডের পর জনতা দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে পুলিশে ধরিয়ে দিলেও এখন তদন্তের অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। এর মধ্যেই খুন হলেন অনন্ত।

ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হলেও গণজাগরণ আন্দোলন শুরুর পর আরও কয়েকটি খুনে জড়িত কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের দাবি, সরকারের ব্যর্থতার কারণেই একের পর এক মুক্তচিন্তার মানুষ খুন হচ্ছেন।

অনন্ত দাশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষক জাফর ইকবাল বলেন, “তোমরা স্বীকার করে নাও সরকারের কাছ থেকে বিশেষ কিছু পাবা না।

“তোমরা যারা সত্যি কথা বল, তোমাদের যে কোনো সময় মেরে ফেলা হবে, আমাদের মেরে ফেলা হবে, সরকার কিছুই করবে না। নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিতে হবে।”

প্রশাসনের সমালোচনা করে এই শিক্ষক বলেন, “হত্যাকারীদের প্রশাসন ধরতে পারছে না, সেটা আমি বিশ্বাস করি না। এটা সরকারের ব্যর্থতা।”

প্রতিবাদী কর্মসূচি সিলেট শহরে

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচিতে জাফর ইকবাল ছাড়াও বক্তব্য রাখেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ইয়াসমীন হক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক শরীফ মো. শরাফউদ্দিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে এই কর্মসূচিতে প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক জাবেদ ইকবালের পরিচালনায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট নেতা ইসরাত রাহি রিশতা এবং সম্মিলিত সামাজিক-সাংস্কৃতিক-স্বেচ্ছাসেবী ও ক্রীড়া জোটের আহবায়ক গিয়াস বাবুও বক্তব্য রাখেন।

অনন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছিল সিলেট গণজাগরণ মঞ্চ। হরতালের পর শুক্রবার সংহতি সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে তারা।  

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অনন্ত বেসরকারি একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ছিলেন।   

সিলেটের সুবিদবাজার এলাকার বাসা থেকে মঙ্গলবার সকালে বের হওয়ার পর মুখোশধারী চারজন এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে অনন্তকে। আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা এই হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব স্বীকার করে টুইটারে বার্তা দিয়েছে।