২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫

তৃতীয় আইসিটি এক্সপো শুরু ১৮ অক্টোবর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2017-10-11 16:44:04 BdST

bdnews24

হার্ডওয়্যার শিল্প বিকাশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে ঢাকায় তৃতীয়বারের মতো হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো’।

বঙ্গব্ন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এই আইসিটি এক্সপো পরিকল্পনামন্ত্রী  আ হ ম মুস্তফা কামাল উদ্বোধন করবেন বলে কথা রয়েছে।

বুধবার সকালে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের আইসিটি এক্সপোর বিস্তারিত তুলে ধরে এক্সপোর আয়োজক বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

আয়োজনটি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মার্কেট সাইজ ও পার্চেজ ক্যাপাসিটির দিক থেকে বাংলাদেশের আইটি মার্কেট পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম। ২ বিলিয়ন ডলারের হার্ডওয়্যার মার্কেটের পাশাপাশি ১ বিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যার মার্কেট রয়েছে।

“বিশ্বের যেকোনো মাল্টিন্যাশনাল হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার কোম্পানির কাছে আকর্ষণীয় ডেসটিনেশন হল বাংলাদেশ। দুটি খাতে আমাদের সাফল্য তুলে ধরতে প্রতিবারের মতো এবারও আমরা আয়োজন করছি আইসিটি এক্সপো।”

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের হার্ডওয়্যারের আমদানি কমাতে নতুন কর্মপন্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে পলক বলেন, “বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির অংশগ্রহণে দেশে এখন ১ বিলিয়ন ডলারের লোকাল ইলেকট্রন্ক্সি মার্কেট তৈরি হয়েছে। এটা না হলে কিন্তু ডিভাইসগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করতে হত; ১ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে চলে যেত।

তিনি বলেন, “প্রথম আইসিটি এক্সপো থেকে হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি তৈরিতে বাধা কোথায় সেই ধারণা আমরা নিয়েছি। হার্ডওয়্যার ইকুইপমেন্ট উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানি প্রবণতা আরও কমিয়ে আনতে হবে।”

আইসিটি এক্সপোর দ্বিতীয় দিন ১৯ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করবে পেইপ্যাল। অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমটির যাত্রা শুরু এই আনুষ্ঠানিকতা হবে আইসিটি এক্সপোতেই।

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানান পলক।

পেইপ্যাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পেইপ্যাল ইতোমধ্যে তাদের একজন প্রতিনিধি বাছাই করেছে। বাংলাদেশ থেকে কত পরিমাণ ডাটা কিভাবে ট্রান্সফার হচ্ছে, তা তিনি পরীক্ষা করবেন। সোনালী, রূপালী, ডাচ বাংলা, সোশাল ইসলামী ব্যাংকসহ নয়টি ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। নয়টি ব্যাংকের যেকোনো ব্রাঞ্চ থেকে পেইপ্যালের টাকা ট্রানজাকশন করতে পারবেন আইটি উদ্যোক্তারা।”

ইতোমধ্যে সরকারের আইসিটি বিভাগ পেইপ্যালের মাধ্যমে সাত শতাধিক পরীক্ষামূলক ‘সফল ট্রানজাকশন’ করেছে বলে জানান পলক।

পরে অনুষ্ঠানে এবারের আইসিটি এক্সপোর বিস্তারিত তুলে ধরেন বিসিএস সভাপতি আলী আশফাক।

তিনি জানান, ‘মেক ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে এবারের আয়োজনটি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পুরোটা জুড়েই হবে।

পুরো প্রদর্শনীকে লোকাল ম্যানুফেকচারস, আইওটি ও ক্লাউড, প্রডাক্ট শোকেস, ইনোভেশন, মিট উইথ ইন্টারন্যাশনাল ম্যানুফেকচারারস, ডিজিটাল লাইফস্টাইল, মেগা সেলস, সেমিনার, বিটুবি ম্যাচমেকিং ও হাই-টেক পার্ক এরকম ১০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে।

১৩২টি প্যাভিলিয়ন ও স্টলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্প, কর্মসূচি ও উদ্যোগ উপস্থাপন করা হবে।

তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, রাশিয়া ও জাপানসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, উৎপাদক ও উদ্যোক্তারা এই আইসিটি এক্সপোতে অংশ নেবেন।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হবে তিন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

দর্শনার্থীদের জন্য ডিজিটাল সেবা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গেমিং, সেলফি, কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাও থাকছে এবারের প্রদর্শনীতে।

মেলা চলাকালীন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রবেশ করা যাবে।

অনুষ্ঠানের শেষ দিনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সেরা প্রকল্পগুলোকে দেওয়া হবে অ্যাওয়ার্ড।

প্রদর্শনীর খবর দেশে বিদেশে ছড়িয়ে দিতে চালু করা হয়েছে www.ictexpo.com-bd ওয়েবসাইট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ প্রদর্শনী নিয়ে থাকছে নানা আয়োজন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের পাশাপাশি কন্ট্রোলার অব সার্টিফায়িং অথরিটিজ (সিসিএ) এ আয়োজনের সহযোগী। বেসিস, বিএসিসিও, সিটিও ফোরাম, ই-ক্যাব এই রয়েছে সহযোগী হিসেবে।