২২ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

সামিটের এলএনজি জাতীয় গ্রিডে, সঙ্কট নিরসনের আশা

  • ফয়সাল আতিক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-04-30 21:39:31 BdST

bdnews24

সব আশঙ্কাকে পেছনে ফেলে নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই সামিট গ্রুপের আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

সোমবার রাত ১০টায় মহেশখালী উপকূলে সামিটের ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট(এফএসআরইউ) থেকে এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া শুরু হয়েছে।

গত ২০ এপ্রিল এক লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে সামিটের এই জাহাজ (এফএসআরইউ) মহেশখালী উপকূলে পৌঁছে।

দেশে গ্যাসের সঙ্কট নিরসনে সরকারের পাশাপাশি এটিই বেসরকারি পর্যায়ে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে দেশে চলমান গ্যাস সঙ্কটের আপাতত সুরাহা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি সংস্থা রূপান্তরিত প্রকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সামিট গ্রুপ ও এক্সিলারেট এনার্জি মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। অসমাপ্ত সংযোগ লাইন তৈরি হলে এই সরবরাহ আরও বাড়বে।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে বর্তমানে নিজস্ব কূপ থেকে আসা প্রকৃতিক গ্যাসের পরিমাণ ২৭০০ এমএমসিএফডি। এর সঙ্গে এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ থেকে আসছে চারশ’ থেকে সাড়ে চারশ এমএমসিএফডি গ্যাস।

তবে সামিট আর এক্সিলারেট এনার্জির দৈনিক এক হাজার (৫০০+৫০০) এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ ৩৫০০ এমএমসিএফডির লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারলে বর্তমান সংযোগে কলকারখানা ও বাসাবাড়িতে বিদ্যমান সঙ্কট আর থাকবে না বলে জিটিসিএল ও পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

সারা দেশে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত জিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মোহাম্মদ আল মামুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সামিটের এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পর বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা যাচ্ছে। মূল গ্রিডেও ২৭০ এমএমসিএফডি গ্যাস যোগ করা যাচ্ছে।

“চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা ৩৩০ এমএমসিএফডি। এর বাইরে কুমিল্লা, ফেনী অঞ্চলে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় ৯০ এমএমসিএফডি। বাকি গ্যাস চলে আসছে নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জসহ অন্যান্য অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রে। বর্তমানে এভাবেই এ অঞ্চলে গ্যাসের রেসনিং চলছে,” বলেন আল মামুন।

সামিট গ্রুপের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একমাস আগেই তারা জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সংযুক্ত করতে পেরেছেন।

সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের এখন আশ্বস্ত হওয়ার সময়। গ্যাস ও বিদ্যুৎ এখন তাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানে সহজলভ্য হবে। সামিট দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করবে, যা ব্যবসায়ীদের এই আস্থা অর্জনে সহায়তা করবে।