২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

রপ্তানির লক্ষ্য অর্জনে ‘তবে’ রাখল এফবিসিসিআই

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-08-08 18:21:30 BdST

bdnews24

নতুন অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য পাঁচ হাজার ৪০০ কোটি (৫৪ বিলিয়ন) ডলার নির্ধারণকে স্বাগত জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

তবে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলসহ (ইডিএফ) অন্য সব ব্যাংক ঋণের সুদের হার হ্রাস, বেসরকারি খাতে সহজলভ্য ঋণপ্রবাহসহ রপ্তানি খাতে আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ এই সংগঠনটি।

চলতি অর্থবছরে বিদেশে পণ্য ও সেবা রপ্তানি করে মোট ৫৪ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।

এর মধ্যে পণ্য খাতে ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে সাড়ে ৪৫ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাতে ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে সাড়ে আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের আশা করা হচ্ছে।

বুধবার বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম ২০১৯-১৯২০ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের এই লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন।

সরকারের এই লক্ষ্যকে স্বাগত জানিয়ে বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআই এক বিবৃতিতে বলেছে, বর্তমান বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি, সরকারের বানিজ্য সহায়ক নীতি, রপ্তানিকারকদের সরবরাহ দক্ষতা ও কারখানার নিরাপত্তা পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রেক্ষিতে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।

“তবে কাংখিত রপ্তানি লক্ষ্যঅর্জনের স্বার্থে উৎপাদন ব্যয় কমানো ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ইডিএফসহ অন্য ব্যাংক ঋণের সুদের হার হ্রাস, বেসরকারি খাতে সহজলভ্য ঋণপ্রবাহ, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ-এর ক্ষেত্রে নীতি সহায়তা, চট্টগ্রাম বন্দরসহ সব বন্দর, এয়ারপোর্ট প্যাসেঞ্জার এবং কার্গো অপারেশন ও ব্যবস্থাপনা, মাল্টিমোডাল কানেকটিভিটি, ট্রেড লজিস্টিকসের ব্যবস্থাপনা ও সেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, বৈদেশিক বাণিজ্যকে সহায়তার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বাণিজ্য সহায়ক (ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন) কার্যক্রম গ্রহন করেছে। ইজ অব ডুয়িং বিজনেস ও রপ্তানি উন্নয়নের স্বার্থে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করে এফবিসিসিআই।

এ বছর নতুন ১৩টি পণ্য রপ্তানি আয়ের বিপরীতে নগদ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং তৈরি পোশাক শিল্প খাতে ট্রেড ফ্যাসিলিটিজ সুবিধা পণ্য বহুমুখীকরণ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও উচ্চ রপ্তানি অর্জনে সহায়ক হবে।

“একইসাথে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের সকল সুবিধা ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা কাম্য।”

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৭-১৮  অর্থবছরের তুলনায় ২০১৮-২০১৯ বছরে দেশের সার্বিক রপ্তানি (পণ্য ও সেবা) আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। সেবা খাতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৬ দশমিক ০৬ শতাংশ।

“যা আশাব্যঞ্জক। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে এবং সব ধরনের নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা হলে ২০২১ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় ৬০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীতকরণের কাংখিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।”

বেসরকারি খাতের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে এফবিসিসিআই কাংখিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ভিশন ২০৪১ এর আলোকে রপ্তানি বৃদ্ধি, পণ্য বাজার সম্প্রসারণ ও উচ্চ মূল্যের পণ্য বহুমুখীকরণ এবং বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য ভারসাম্যের উন্নয়নে সরকারকে যথাযথ সহযোগিতা প্রদান করতে এফবিসিসিআই সবসময় প্রস্তুত।