২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

ঈদের আগে ব্যাংকে দীর্ঘ লাইন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-08-08 21:02:07 BdST

bdnews24

কোরবানির ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে ব্যাংকগুলোতে ভিড় করেছেন গ্রাহকরা, যাদের বেশিরভাগই টাকা তুলেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ফার্মগেইট, মগবাজার, কারওয়ানবাজার ও মতিঝিল এলাকায় বিভিন্ন ব্যাংকে গিয়ে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। টাকা জমা দেওয়ার চেয়ে টাকা তোলার লাইনই দীর্ঘ। সেবা পেতে ঘণ্টা পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন।

এদিন ব্যাংকিং আওয়ার শেষ হওয়ার পরেও গ্রাহকদের সেবা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে ব্যাংকগুলোতে অনেক বেশি গ্রাহকের উপস্থিতি ছিল, অন্যান্য দিনের তুলনায় দশগুণ বললেও কম বলা হবে না। আমরা ব্যাংকিং আওয়ারের পরেও তাদের সেবা দিয়েছি।

“আমাদের ব্যাংকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত গ্রাহক ঢুকেছে, যদিও ব্যাংকিং শেষ হয়ে যায় ৪টায়। আজকে আমাদের যত সময়ই লাগুক যারা ব্যাংকে ঢুকেছে আমরা তাদের সেবা দিয়েছি।”

দুপুরে সিটি ব্যাংকের মগবাজার শাখায় গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চাকরিজীবী মারুফ আহমেদের সঙ্গে কথা হয়।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত পৌনে এক ঘণ্টা যাবৎ লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। যখন এসেছিলাম আমাকে ১১০ নম্বর সিরিয়াল দেওয়া হয়েছিল তখন সিরিয়াল চলছিল ৫৫ নম্বর, এখন সিরিয়াল চলছে ৯৭ নম্বর। আমার সামনে আরও ১৩ জনের সিরিয়াল পড়ে আছে। আমি টাকা তুলতে এসেছি।”

সিটি ব্যাংকেরই কারওয়ানবাজার শাখায় টাকা তুলতে গিয়ে দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ার কথা জানান মো. শওকত উদ্দিন।

এই চাকরিজীবী বলেন, “গ্রামের বাড়িতে এবার কোরবানি দিব। সেজন্য টাকা নিয়ে বাড়িতে যাব।”

ব্যবসায়ী মীর রায়হান সিদ্দিকের সাথে দেখা হয় মতিঝিলের ইস্টার্ন ব্যাংকের দিলকুশা শাখায়।

“আজকে একটা চেক জমা দিতে এসেছি, সাথে টাকাও তুলব। ব্যাংকে ঢুকেছি সোয়া ১১টায় এখন বাজে ১২টা আমার সামনে এখনো অনেক মানুষ। কখন শেষ হবে জানি না,” বলেন তিনি।

এদিক টাকা তোলার চাপ বেশি ছিল বলে জানান সিটি ব্যাংকের কাওরানবাজার শাখার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার আল ফাহাদ হোসেন।

তিনি বিকালের দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে গ্রাহকদের অনেক চাপ। এর মধ্যে টাকা উঠানোর চাপটাই সবচেয়ে বেশি। সাথে আছে স্যালারি ডিসবার্সমেন্টের চাপ।

“আজকে খেতেও যেতে পারিনি। ঈদের আগে এ রকমই হয়ে থাকে। যেহেতু অনেক মানুষই ঢাকা থেকে চলে যাবে এবং ঈদের আগে শেষ লেনদেন করবে তাই আমরা আজকে যতক্ষণ সময় লাগুক সেবা দিয়ে যাব।

ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান আনিস এ খান।

ব্যাংক মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগের চেয়ে আমরা দ্বিগুণ নিরাপত্তা বাড়িয়েছি। প্রতিদিন আমাদের নিজস্ব একজন অফিসার এটিএম বুথ চেক করে আসবেন।

“আমরা চাই, ঈদের সময় যেন গ্রাহকের কোনো সমস্যা না হয় এবং নিরাপত্তায় কোনো ত্রুটি যেন না থাকে।”