২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ: পাইকাররা খুশি, উদ্যোক্তারা শঙ্কিত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-08-14 00:25:39 BdST

স্থানীয় শিল্পে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সাধারণ মানুষ ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা কতটা উপকৃত হতে পারেন- এসব বিষয়ে অস্পষ্টতার মধ্যেই দেশে প্রথমবারের মত কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করে মানুষ যে দাম পাচ্ছে, সেটা ‘যৌক্তিক না’। মানুষ যেন ন্যায্য দাম পায় তা নিশ্চিত করতেই সরকারের এ পদক্ষেপ।

রপ্তানির সুযোগ হলে আর ট্যানারিগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না- এই আশায় কাঁচা চামড়ার পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

কিন্তু চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা উৎপাদন শিল্প ও প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানি হলে দেশে এসব শিল্পের কাঁচমালের সহজলভ্যতা কমে যাবে, তাতে হুমকির মুখে পড়বে পুরো শিল্প।

বাংলাদেশে সারা বছর যে সংখ্যক পশু জবাই হয়, তার অর্ধেক হয় এই কোরবানির মৌসুমে। সরকারি হিসাবে এবারেও প্রায় সোয়া কোটি পশু জবাই করা হয়েছে।

কোরবানি যারা দেন, তাদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া কিনে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন পাইকারদের কাছে। পাইকাররা সেই চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণের প্রাথমিক কাজটি সেরে বিক্রি করেন ট্যানারিতে।

এ সময়ই সবচেয়ে বেশি চামড়া সংগ্রহ করেন ট্যানারি মালিকরা। ন্যূনতম কোন দামে তারা সেই চামড়া কিনবেন তা ঈদের আগে ঠিক করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

কিন্তু সোমবার ঈদের বিকাল থেকেই চামড়ার দাম পড়ে যাওয়ার খবর আসতে থাকে। ফড়িয়া আর  মৌসুমীরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নামমাত্র দামে চামড়া কিনেও পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে না পেরে শঙ্কিত হয়ে ওঠেন, কারণ সংগ্রহ করা চামড়া সংরক্ষণের নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা তাদের থাকে না।    

অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ চামড়ার বাজার দিনাজপুরের রামনগরে কাঁচা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বাজারে ফেলে চলে যান মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি) জানায়, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় লাখখানেক পশুর চামড়া সড়কে ফেলে দিয়ে গেছেন, সেগুলো সরিয়ে এখন মাটিতে পুঁতে ফেলতে হচ্ছে।

আড়তদারদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা না পাওয়ায় অনেকেই চামড়া কিনতে পারেননি। ফলে বাজারে চামড়ার দাম পড়ে গেছে। উল্টোদিকে ট্যানারি মালিকরা অভিযোগ করছেন, আড়তদাররাই ‘সিন্ডিকেট করে’ মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের ঠকাচ্ছে।

এর মধ্যেই বিএনপির তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়, কাঁচা চামড়ার দাম নামিয়ে দিয়ে ‘পাশের দেশে পাচার’ করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে, আর এর পেছনে রয়েছে ‘ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার সিন্ডিকেট’।

এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিবৃতিতে কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।”

এবার ঈদের আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গতবছর কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার যে দাম সরকার ঠিক করে দিয়েছিল, এবারও সেটাই রাখা হয়েছে।

সে অনুযায়ী ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি ব্যবসায়ীদের। আর খাসির কাঁচা চামড়া সারাদেশে ১৮-২০ এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকা দরে কেনাবেচা হওয়ার কথা।

কিন্তু তা হচ্ছে না জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নির্ধারিত মূল্যে কোরবানির পশুর চামড়া  ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে না। এ বিষয়ে চামড়া শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট  বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীগনকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

কাঁচা চামড়ার গুণাগুণ যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য স্থানীয়ভাবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চামড়া সংরক্ষণের জন্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাওয়া হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

‘এই ঘোষণা আগেই আসা উচিৎ ছিল’

কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এতে আমরা লাভবান হব।”

তিনি দাবি করেন, বহু বছরের বকেয়া জমতে জমতে ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের পাওনা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। গত তিন বছরে এ নিয়ে দেড় ডজন মামলাও হয়েছে। কিন্তু বকেয়া টাকা আদায় করা যায়নি।

“তাই আমরা বিনিয়োগও করতে পারছি না। এজন্য এবার চামড়ার দাম কম। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চামড়ার দাম আরও কমে যাবে।”

এখন সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দেওয়ায় পাইকার ও আড়তদাররা কতটা লাভবান হবেন- সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও টিপু বলেন, “আগে চামড়া রাস্তায় পড়ে থাকত, ন্যায্য দামে বিক্রি হত না। এখন আড়তদাররা ট্যানারির কাছে বিক্রির আশায় বসে না থেকে নিজেরাই সেটা রপ্তানি করবে।”

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের দাবি করেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের কয়েক বছরের বকেয়া বাবদ প্রায় ৫০ কোটি টাকা পাওনা। ঈদের আগে তারা ‘অল্প কিছু’ টাকা দিলেও তা দিয়ে খুব বেশি চামড়া কেনা সম্ভব হয়নি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত আগে জানালে এবং কোরবানির আগে বকেয়া পরিশোধে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিলে এ অবস্থা হত না।”

‘রপ্তানি এত সহজ না’

আড়তদারদের পাওনা বকেয়া থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ বলেন, “আমরা যদি তাদের বকেয়া টাকা না দিয়ে থাকি, তাহলে তারা ব্যবসা করছে কীভাবে।”

তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালের আগে ট্যানারি ব্যবসায়ীরা চামড়া ব্যবসায়ীদের শতভাগ বকেয়া পরিশোধ করে দিয়েছেন। এখন সাভারে স্থানান্তরের ফলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ট্যানারি উৎপাদনে যেতে পারেনি।

“তাই কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের কিছু টাকা বকেয়া হয়েছে। কিন্তু সেজন্য তো চামড়ার দাম কমিয়ে দেওয়ার কারণ নেই।”

পাল্টা অভিযোগ করে তিনি বলেন, “কাঁচা চামড়ার আড়তদাররা সস্তায় কেনার জন্য সিন্ডিকেট করে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের ঠকাচ্ছে। তারা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া কেনে। আমাদের কাছে যখন বিক্রি করে তখন সরকার নির্ধারিত দামেই বিক্রি করতে চাইবে।”

সরকারের সিদ্ধান্ত ট্যানারি শিল্পের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে চাননি ট্যানারি মালিক সমিতির এই নেতা।

বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে সরকারে সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেবেন জানিয়ে শাহিন বলেন, “চামড়া নিয়ে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা চলছে। আর কাঁচা চামড়া রপ্তানি এত সহজ না। এটা আগে কখনো রপ্তানি হয়নি।”

শিল্প ‘ধ্বংস হয়ে যাবে’

দেশের চামড়াজাত পণ্য উপাদনের সঙ্গে জড়িত শিল্প দেশীয় চামড়ার ওপরই নির্ভরশীল। ফলে কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিলে তাদের শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার অ্যান্ড লেদারগুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট দিলজাহান ভুইয়া।

তিনি বলেন, “আমরা হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলেছি। দেশের চামড়া দিয়ে আমরা বড়জোড় তিন থেকে চার মাস চালাতে পারি। বাকি সময় কারখানা বন্ধ রাখতে হয়। এর ওপর কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিলে এ খাত ধ্বংস হয়ে যাবে।”

বাংলাদেশ থেকে কাঁচা চামড়া কখনো রপ্তানি না হলেও এক সময় ওয়েট ব্লু (আংশিক প্রক্রিয়াজাত) চামড়া রপ্তানি হত। দেশীয় শিল্প সংরক্ষণের কথা মাথায় রেখে নব্বইয়ের দশকে তাও রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এখন কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দিলে তা চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পের ওপর আঘাত হয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেন দিলজাহান ভুইয়া।

এ শিল্পের উদ্যোক্তাদের অর্থ সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের প্রচণ্ড আর্থিক সংকট চলছে। ব্যাংক ঋণও পাচ্ছি না। আমরা যদি সিন্ডিকেটই করব, তাহলে পানির দামের চামড়া কিনবো না কেন? আসলে আমাদের কাছে অর্থ নেই।” 

# বাংলাদেশের ২২০টি ট্যানারি থেকে বছরে প্রায় ২৫০ কোটি বর্গফুট কাঁচা চামড়া (হাইড ও স্কিন) প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এর মধ্যে ৬৩ দশমিক ৯৮ শতকাংশ গরুর চামড়া।

# এরপর ছাগলের চামড়া ৩২ দশমিক ৭৪ শতাংশ ও মহিষের চামড়া ২ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং ভেড়ার চামড়া রয়েছে ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। উৎপাদিত প্রক্রিয়াজাত চামড়ার মধ্যে ৭৬ শতাংশের বেশি রপ্তানি করা হয়।

# বাংলাদেশ ৯৩টি বড় নিবন্ধিত জুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বছরে প্রায় ৩৭ কোটি ৮০ লাখের বেশি জোড়া জুতা তৈরি করে। প্রক্রিয়াজাতকৃত চামড়া এখন প্রধানত সাভারের ট্যানারিগুলোতে তৈরি করা হয়।

# জুতা উৎপাদনে বিশ্ববাজারের ১ শতাংশের কম অংশীদার বাংলাদেশের অবস্থান ২০১৬ সালে ছিল আট নম্বরে। তবে ২০১৪ সাল থেকে চার বছরে এ খাতের সার্বিক রপ্তানি ৮ শতাংশ কমে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ১০৯ কোটি ডলারে (মোট রপ্তানির ৩.৫৪%) নেমেছে।

মনোপলি

বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার অ্যান্ড লেদারগুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের শঙ্কার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আভাস দেন।

তিনি বলেন, “আমরা রপ্তানির ঘোষণা দিয়েছি। দেখি না, যদি দেখি স্থানীয় শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাহলে রপ্তানি স্লো করে দেব।”

সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, “রপ্তানি করতে আমরাও যে খুব উৎসাহী তা নয়। আমাদের লক্ষ্য মানুষ যেন ন্যায্য দাম পায়।”

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সিন্ডিকেট’ করে চামড়ার দাম কমালে কাঁচা চামড়া রপ্তানির বাজার যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, সেই হুঁশিয়ারি ব্যবসায়ীদের আগেই দেওয়া হয়েছিল।

“আমরা ব্যবসায়ীদের বলেছিলাম, মনোপলি যেন না হয়। মনোপলি হলে বাজার উন্মুক্ত করে দিতে হবে। আমরা সেটাই করেছি।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “চামড়ার কি একদম দাম নেই? তারা মানুষের কাছ থেকে পানির দামে কিনবে?”

এখন ঈদের একদিন পর চামড়া যখন একবার বা দুইবার হাতবদল হয়ে গেছে, সরকারের এই সিদ্ধান্তে ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব কি না- এ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি মন্ত্রীর কাছে।

স্বল্প সময়ের মধ্যে রপ্তানি শুরু করার পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত কি না- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “একদম স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্ভব না। তবে লবণ দিয়ে চামড়া রেখে দিলে রপ্তানি করা যাবে।”