লবণ নিয়ে গুজব সরকারকে বিব্রত করতে, বলছেন ব্যবসায়ীরা

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-19 20:58:33 BdST

bdnews24
লবণের দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে গুজব ছড়ানোর পর ঢাকার কারওয়ান বাজারে লবণ কিনতে ভিড় করেন ক্রেতারা।

লবণের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার কথা জানিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় দুই ব্র্যান্ড এসিআই ও মোল্লা সল্ট বলছে, সরকারকে বিব্রত করতেই লবণ সংকটের গুজব ছড়ানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। তাই দাম বাড়ারও কোনো কারণ নেই।

দাম বেড়ে যাওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়ায় সোমবার গোপালগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজারসহ কয়েকটি জেলায় লবণ কেনার হিড়িক পড়ে যায়। মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারা দেশেই লবণ নিয়ে এই হুজুগ দেখা দেয়, কোনো কোনো জায়গায় লবণের আপত সংকটও দেখা দেয়।

এই প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে লবণের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার কথা জানিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর কেউ গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বাস্তবে লবণের কোনো সংকট তৈরি হয়েছে কি না জানতে চাইলে মোল্লা সল্টের মহাব্যবস্থাক আবদুল মান্নান মঙ্গলবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা অবাক হয়েছি, কী হচ্ছে দেশে! পেঁয়াজের পর লবণ নিয়ে সরকারকে বিব্রত করতেই সারা দেশে গুজব ছড়ানো হয়েছে।

“এটা খুবই দুঃখজনক। একটি গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশে লবণের সংকট দেখা দিয়েছে বলে গুজব ছড়িয়েছে। যার ফলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশি দামে লবণ বিক্রি হয়েছে। অনেকে দাম আরও বেড়ে যাবে ভেবে বেশি করে কিনেছে।

“আমরা পরিষ্কার করে বলছি, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত লবণ মজুদ আছে। দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই।”

বাংলাদেশে লবণ বাজারজাতকারী আরেক বড় প্রতিষ্ঠান এসিআই গ্রুপ। এসিআই সল্ট নামে লবণ রয়েছে তাদের।

এসিআই গ্রুপের কনজ্যুমার প্রডাক্টসের পরিচালক সৈয়দ আলমগীর বলেন, “অযথাই আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। মানুষকে বোকা বানিয়ে এক শ্রেণির লোক গুজব ছড়িয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়ে বাড়তি টাকা কামানোর পাঁয়তারা করেছে।

“তাড়াতাড়ি লিখে দেন, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত মজুদ আছে। দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই।।”

 

আলমগীর জানান, এখনও দেশে মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ খোলা লবণ বিক্রি হয়। প্যাকেটজাত যে লবণ বিক্রি হয় তার ৩০ শতাংশ এসিআই সরবরাহ করে। বাকিটা মোল্লা সল্টসহ অন্যরা সরবরাহ করে।

বর্তমানে শুধু টেকনাফ থানায় যে পরিমাণ লবণ জমা আছে, তা দিয়ে বাংলাদেশের আগামী ছয় মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানা লবণ চাষী ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সেক্রেটারি মোহাম্মদ হোসাইন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত বছর চাষীরা লবণের দাম না পাওয়ার কারণে বেশিরভাগ চাষী লবণ জমা রেখে দিয়েছেন। এখন নতুন মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু চাষীরা দাম না পাওয়ায় গত বছরের জমানো লবণই বিক্রি করতে পারছে না।

“কারণ এক বছর জমা রাখার পরেও এখন প্রতি মণ লবন বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়। এক মণ লবণের উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০০ টাকা।”

তার কথার সত্যতা পাওয়া যায় টেকনাফের লবণ চাষী মো. জাহিদ হোসেনের কথায়।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত বছর আমরা দুইজন মিলে প্রায় ৫০ কানি বর্গা জমিতে লবণ চাষ করেছিলাম। দাম না পাওয়ার কারণে কিছু লবণ বিক্রি করে শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ করি।

“আর অর্ধেকের বেশি প্রায় ৫ হাজার মণ লবণ বর্ষাকালে বিক্রি করলে দাম পাওয়া যাবে, এই আশায় স্টক করে রাখি। এখন বর্ষাকাল চলে গিয়ে পরের মৌসুম শুরু হচ্ছে। কিন্তু আমার লবণ বিক্রি করতে পারছি না। কারণ ব্যবসায়ীরা চাচ্ছে ১৯০ টাকায় মণ যেখানে আমার উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৩০০ টাকা।”