পেঁয়াজ নিয়ে খুব বিপদে আছি: বাণিজ্যমন্ত্রী

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-19 21:42:07 BdST

bdnews24

পেঁয়াজের দাম নাগালের মধ্যে আনতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, এটা নিয়ে ‘খুব বিপদে’ আছেন তিনি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, কার্গো বিমানে করে পেঁয়াজের প্রথম চালান বুধবার রাতে ঢাকা পৌঁছাবে। ওই পেঁয়াজ কিনে নেবে টিসিবি এবং ভর্তুকি মূল্যে সারা দেশে বিক্রি করা হবে।

এস আলম গ্রুপের ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ বিমানে করে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে টিপু মনশি বলেছেন, এর বাইরে তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ কিনে আনছে টিসিবি।

“টিসিবি কখনও প্রত্যক্ষভাবে কেনে না। কিন্তু এবার যত লোকসানই হোক তারা সরাসরি কিনছে। মন্ত্রণালয় থেকে লোক গেছে।”

বাণিজ্যমন্ত্রী পেঁয়াজ আমদানি নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানোর পর সাংবাদিকরা তাকে এ বিষয়ে নানা প্রশ্ন করেন।

মন্ত্রীরা কথা বলার পর পণ্যের দাম বেশি বেড়ে যায়, মানুষের আস্থা কেন অর্জন করতে পারছেন না- প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, “পেঁয়াজ নিয়ে খুব বিপদে আছি সেটা তো আপনাদের বলেছি। পেঁয়াজ নিয়ে তো পুরো কাহিনী আপনাদের বলেছি পদে পদে কীভাবে এগিয়েছি, পদে পদে কী কী সমস্যা হয়েছে। আপনাদের সবাইকে একটু পজিটিভ হতে হবে। আমি যেটা বলি সেটা রিয়েল মিন করে বলবেন।”

পেঁয়াজের মূল্য কারসাজিতে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “এত দাম হয়ত নাও হতে পারত। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি, আড়াই হাজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছি। আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি কীভাবে চাপে রেখে করা যায়। এটাও সত্যি কথা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি।”

মন্ত্রী বলেন, ১২ থেকে ১৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির পথে রয়েছে এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে দেশি পেঁয়াজ পুরোদমে উঠতে শুরু করবে। এরপর দাম কমা শুরু করবে।

নতুন দেশি পেঁয়াজের কেজি ১২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পেঁয়াজ ও চামড়া নিয়ে যে ঘটনা ঘটল, তা অনভিজ্ঞতার ফল কি না প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, “ভারত যে এভাবে পেঁয়াজ বন্ধ করে দেবে সেটা আমার অনভিজ্ঞতার কারণ নয়, এটি তারা আগে কখনও করেনি। এই মুহূর্তে এখন তাদের বাজারে দাম ১০০ রুপি, মিয়ানমারে ১৬০ টাকা, কখনো কখনো কোন জিনিস আমাদের কন্ট্রোলে থাকে না। আমাদের চেষ্টা থাকতে পারে, এর মাঝখানে বুলবুল এলো- এটাও আমার অনভিজ্ঞতা নয়। মিয়ানমার থেকে সে সময় চার দিনের মাল নিয়ে আসতে পারিনি।”

ব্যবসায়ীরা কি কথা শুনছে না প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “ব্যবসায়ীরা যদি মাল নিয়ে না আসতে পারে, এদেশে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। যত না সমস্যা তার চেয়ে বেশি প্রচারও করি, যাকে অপপ্রচার বলা হয়। কোনটা সত্য কোনটা অপপ্রচার তা আপনাদেরও দায় আছে।”

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর আবার উঠিয়ে নিতে পারে এ আশ্বাসে অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানিতে ঝুঁকি নেননি জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “তার বলেছিল ২৪ অক্টোবরের পর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দেবে, কিন্তু তা তারা করেনি। পরে ব্যবসায়ীরা অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করে।”

মিশর-তুরস্ক থেকে আনা পেঁয়াজ কত দামে পাওয়া যাবে, নতুন পেঁয়াজও আসা শুরু করেছে বাজার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, “আমরা যে পেঁয়াজ আনব তা ভর্তুকি দিয়ে নিয়ে আসা হবে। বিমান করে নিয়ে আসায় অনেক খরচ হবে। নিজস্ব পেঁয়াজ উঠার সাথে সাথে কৃষক যেন ভালো দাম পায় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটে পণ্যের দাম আরও বাড়ার শঙ্কা করছেন কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের সাথে কথা বলব। সবগুলো সমাধান তো আমার হাতে নেই। যারা আন্দোলনে যাচ্ছে তারাও তো এদেশের মানুষ, তাদেরকেও তো বলতে পারি অন্তত ১০ দিন পেঁয়াজটা ক্যারি করে দাও।”

চামড়া সমস্যার সমাধানে উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “চামড়া বরাবরই দাম নির্ধারণ করা হয়, ব্যবসায়ীরা দাম নির্ধারণ করে তারা সেটা কেনেনি। তাদের কথায় ভরসা করেছিলাম, আগামীবার আমরা নিজেরাই চামড়া কিনব টিসিবির মাধ্যেমে যাতে কোনোভাবেই তাদের কথায় না ঠকে যাই।”

এ সময় বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।