ওষুধের দোকানেও ভিড়

  • কামাল হোসেন তালুকদার ও সুমন মাহমুদ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-21 23:18:39 BdST

নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় লোকজন নিত্যপণ্যের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করতেও হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।

শনিবার দেশে ওষুধের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার মিটফোর্ড ও বাবুবাজারের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।

দোকানিরা বলছেন, প্যারাসিটামল, গ্যাস্ট্রিকের মতো সাধারণ ওষুধ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধও বেশ বিক্রি হচ্ছে।

বাবুবাজারের নইড়াশাহ মার্কেটের সাইফুল মেডিসিন কর্নারের মালিক সাইফুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগের চেয়ে অনেক বিক্রি বেড়েছে। সব সময় ক্রেতা থাকছে।

“বাজারে শত শত ধরনের ওষুধ থাকলেও কয়েকটি ওষুধ বেশি বিক্রি হচ্ছে।”

ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ফার্মেসির দোকানিরা মূলত পাইকারি বাজারে আসেন জানিয়ে সাইফুল বলেন, “সবাই প্যারাসিটামল, ইনসুলিন, কার্ডিয়াক প্রডাক্ট, ডায়াবেটিসের ওষুধ ও সাপোজিটর বেশি চাইছেন।”

এসব ওষুধের দাম বাড়েনি কিন্তু বিক্রির চাপ বেড়েছে জানিয়ে পাশের শাহাদাত ড্রাগ হাউজের দোকানি বলেন, “বাজারের দিকে নজর দেওয়া উচিত। তা না হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাস্ক, স্যানিটাইজার ও নিত্যপণ্যের মতো ওষুধের বাজারও অস্থির করবে।”

ওষুধের বাজারে নজরদারি রাখার কথা বলেছেন র‌্যাব সদরদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওষুধের মার্কেট ও দোকানে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। কেউ এখানে অতিরিক্ত দাম নিলে বা সংকট তৈরি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনসাধারণকে অতিরিক্ত ওষুধ ও পণ্য না কেনার আহ্বান জানান তিনি।

ইমাম হোসেন নামে ‘বিল্লাহ শাহ মার্কেটের’ এক দোকানি জানান, ইনসুলিন কলম (পেন) বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়। আর নাপা সিরাপ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা দরে।

এছাড়া জি-ম্যাক্স, সেফ-৩, এজিথ, ওরসেফ ও সেফুরক্সিম জাতীয় এন্টিবায়োটিক বেশি বিক্রি হচ্ছে।

এই মার্কেটের আলিফ লাম মিম ফার্মেসির মালিক জাকির হোসেন রনি বলেন, ঠাণ্ডাজনিত রোগের ওষুধ যেমন ফেনাড্রিন, ফেক্সো জাতীয় ওষুধের চাহিদা ‘খুব বেড়ে গেছে’।

পলাশী ও শ্যামপুর থেকে দুজন ফার্মেসির দোকানিকে বাবুবাজারে লম্বা তালিকা ধরে ওষুধ কিনতে দেখা যায়। সর্দিকাশিজনিত রোগের ওষুধই তারা বেশি কিনছেন।

মাহমুদুল হাসান মিরপুর-১ নম্বর থেকে মিটফোর্ডে এসেছেন বৃদ্ধ বাবার জন্য ওষুধ কিনতে।

অনেক ওষুধ কেনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাবার ঠাণ্ডা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ রয়েছে। তাছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে চলাফেরা বেশি করছি না। এজন্য বেশি ওষুধ কিনে গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের সৈয়দপুরে পাঠাব।”

শাহবাগের লাইফ মেডিসিন সেন্টারের দোকানি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল সংলগ্ন হলেও পাড়া-মহল্লার দোকানের মতো বিক্রি তাদের হচ্ছে না।

আজিমপুরের আল নূর ফার্মেসির মালিক বলছেন, তার দোকানে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি ওষুধ বিক্রি হচ্ছে না। যে কেউ অন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের সঙ্গে নাপা বা যে ওষুধগুলো সচরাচর লাগে, সেই ওষুধগুলোই কিনে নিচ্ছেন।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুজ্জামান সুমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা অন্য বছরের এই সময় যেমন থাকে তেমনই রয়েছে।

“জনগণ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে খামোখা বেশি ওষুধ কিনছে। সরকারি হাসপাতালেও যথেষ্ট ওষুধ রয়েছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাও রয়েছে।”

রাজধানীর গুলশান, বনানী, মহাখালীসহ কয়েকটি এলাকার ফার্মেসিতেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।

গুলশানের আল-মদিনা ফার্মেসি, সাফারি ফার্মেসি, ইসলাম ফার্মাসহ সাতটি ফার্মেসিতে দেখা গেছে মানুষের প্রচণ্ড ভিড়।

গুলশান এভিনিউর বাসিন্দা আবিদুর রহমান বলেন, “আমি হৃদরোগী। যে পরিস্থিতি শুনছি তাতে ওষুধ কিনে রাখা ভালো। তা না হলে পরে তো পাওয়া যাবে না। আমার ওষুধ একদিন মিস হলে বিপদে পড়তে পারি। এই আশঙ্কায় কিনছি।”

বনানীর এ ব্লকের বাসিন্দা সুমনা হক বলেন, “ওষুধের দাম প্রতিদিন বাড়ছে। সংকটও আছে। আমি যে ওষুধ প্রতিদিন সেবন করি তা বিদেশ থেকে আমদানি করা। করোনাভাইরাসের কারণে বিদেশ থেকে সামনের দিনগুলোতে আমদানি হবে কি না আমি সন্দেহে আছি।”

তবে গুলশানের চারটি বড় ফার্মেসিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনতে গিয়ে পাননি অনেকে।

গুলশানের আল-মদিনা ও সাফারি ফার্মেসির বিক্রেতারা জানিয়েছেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের প্রচুর চাহিদা, আনার সঙ্গে সঙ্গে তা শেষ হয়ে যায়।
“তাছাড়া বাজারে এটির সাপ্লাইও সেভাবে নেই।”