জুন পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ডে জরিমানা নয়

  • প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-04-04 14:45:11 BdST

bdnews24
ক্রেডিট কার্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশেও, তবে এর সুদের হার নিয়ে চলছিল অসন্তোষ

নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে নির্ধারিত তারিখে ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ না করলে জুন পর্যন্ত সময়ে তার কাছ থেকে কোনো জরিমানা বা বাড়তি চার্জ নিতে পারবে না ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক শনিবার জরুরিভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার ব্যাংকগুলোতে পাঠিয়ে বলেছে, এরই মধ্যে কোনো ব্যাংক চার্জ আরোপ করে থাকলে গ্রাহককে তা ফেরত দিতে হবে।

এর আগে এক সার্কুলারে গাড়ি, বাড়ি, ব্যবসাসহ অন্য সব ঋণের মত ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহককেও আগামী জুন পর্যন্ত খেলাপি না করতে বলেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন একই সময় পর্যন্ত জরিমানা আদায় না করতে নির্দেশ দেওয়া হল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু ফরাহ মো. নাছের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে দেশের মানুষ এখন জীবন বাঁচাতে ঘরবন্দি।… এ অবস্থায় ক্রেডিট কার্ডের জরিমানা বা বাড়তি চার্জ দেওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ না করলেও খেলাপি না দেখানোর নির্দেশনা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে বিল পরিশোধের নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা নির্ধারিত আছে। কোনো গ্রাহক ওই সময়ের মধ্যে নূন্যতম বিল পরিশোধ না করলে তাকে নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়। এ ছাড়া অপরিশোধিত বিলের ওপর নির্ধারিত হারে সুদ আরোপ করা হয়।

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটের মধ্যে জানুয়ারি থেকে আগামী জুন পর্যন্ত কেউ ঋণের কিস্তি না দিলে তাকে খেলাপি না করার বিষয়ে গত ১৯ মার্চ সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সময়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কিছু বিভাগ ছাড়া সব বন্ধ রাখা হয়। অনেক শাখাও এখন বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ সময়ে খোলা রাখা শাখা থেকে নগদ জমা, উত্তোলন, পে-অর্ডার ইস্যুসহ সীমিত আকারে কিছু লেনদেন চলছে। যে কারণে অনেক ইচ্ছা বা টাকা থাকলেও তার নির্ধারিত শাখায় গিয়ে হয়তো ক্রেডিট কার্ড বা অন্য যে কোনো বিল পরিশোধ করতে পারছেন না। যদিও অন্যসব মাসের মত বিল পরিশোধের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের এসএমএস পাঠানো হচ্ছে।

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যাংক টাকা পাবে, সেটা তো চাইবেই। পারলে ব্যাংকের টাকা দিয়ে দেওয়া ভালো। তবে কেউ না দিলে আগামী জুন পর্যন্ত তাকে খেলাপি করা হবে না। নৈতিক কারণে জরিমানাও আরোপ করা হবে না।”

তিনি বলেন, ব্যাংক এশিয়ায় প্রতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করতে হয়। ইতোমধ্যে সেটা বাড়িয়ে ৮ তারিখ করা হয়েছে। অধিকাংশ ব্যাংক এভাবে সময় বাড়িয়েছে।