মহামারীর আঁচ এমএনপিতেও

  • শামীম আহমেদ, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-18 19:09:07 BdST

করোনাভাইরাস মহামারীর আঁচ লেগেছে নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদল বা মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবায়ও। 

স্বাভাবিক সময়ে দিনের কয়েক হাজারের উপর গ্রাহক এ সেবা নিলেও বতর্মানে সেবা গ্রহণ দিনে ১০০ এর নিচে নেমেছে।

এমএনপি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইনফোজিলিয়ন বিডি-টেলিটেকের সিইও মোহাম্মদ জুলফিকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,“স্বাভাবিক সময়ে নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলে সর্বোচ্চ ৭ হাজার গ্রাহকও ছিল, কিন্তু বর্তমানে এ সংখ্যা ১০০ এর নিচে চলে এসেছে।”

গত মাসের শুরু থেকে এ সেবা নেওয়া কমতে থাকে জানিয়ে জুলফিকার বলেন, “মে মাসে লকডাউন শিথিল করলেও তেমন পরিবর্তন হয়নি। খুব কম সংখ্যক গ্রাহকই এখন এ সেবা নিচ্ছেন।”

সেবা শুরু থেকে এপ্রিল শেষ নাগাদ ১০ লাখের বেশি গ্রাহক এ সেবা নিয়েছে বলে জানান জুলফিকার।

এই সঙ্কটকালে এমএনপি নতুন গ্রাহক না হওয়াতে প্রতিষ্ঠানের তেমন আক্ষেপ নেই জানিয়ে জুলফিকার বলেন, “আমরা চাই সবাই সুস্থ থাকবেন, কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকে এ সেবা নিতে এসে কেউ অসুস্থ হয়ে যাক আমরা চাই না।”

টেলিকম অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকে এ সেবা নিতে হয় গ্রাহকদের। গতমাসে বেশিরভাগ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার বন্ধ থাকলেও লকডাউন শিথিলের পর তার বেশিরভাগ খুলে দিয়েছে অপারেটররা।

অপারেটর রবি তাদের সারা দেশে ৭৬টি কাস্টমার কেয়ারে মধ্যে ৭৩টি এবং বাংলালিংক ৮৫টির মধ্যে ৭৫টি খোলা রেখেছে। তবে গ্রামীণফোন তাদের কতটি কাস্টমার কেয়ার খোলা রেখেছে, তা জানাতে পারেনি।

সেবা নেওয়া কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি কী পরিমাণ দাঁড়াবে তা না জানিয়ে জুলফিকার বলেন, “এমএনপি সেবা গ্রহণ কম হলেও প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতাতে তেমন সমস্যা হবে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ঠিক সময়ে পরিশোধ করা হচ্ছে।”

 

যারা ইচ্ছা থাকার পরও নম্বর পরিবর্তনের ঝক্কি এড়াতে অপারেটর বদলাতে পারছিলেন না, তাদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে শুরু হয় ‘মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি’ বা এমএনপি সেবা।

শুরুতে নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলাতে একজন গ্রাহককে ৫০ টাকা ফির সঙ্গে সিম রিপ্লেসমেন্ট ট্যাক্স এবং ভ্যাটসহ মোট ১৫৮ টাকা দিতে হত। তবে সরকার পরে এ খরচ কমিয়ে ৫৮ টাকা নির্ধারিত করে।

লাইসেন্স পাওয়া বাংলাদেশ ও স্লোভেনিয়ার কনসোর্টিয়াম ইনফোজিলিয়ন বিডি-টেলিটেক এই সেবার জন্য ‘নম্বর পোর্টেবিলিটি ক্লিয়ারিং হাউজের’ কাজ করছে।

বিটিআরসির হিসাবে, মার্চ মাস নাগাদ চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের মোট গ্রাহক সংখ্যা ১৬ কোটি ৫৩ লাখ ৩৭ হাজার। সাত কোটি ৫৩ লাখ ৩৩ হাজার গ্রাহক নিয়ে শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণফোন। তাদের পরে রয়েছে রবি, চার কোটি ৯৭ লাখ ১৮ হাজার গ্রাহক নিয়ে।

বাংলালিংকের গ্রাহক তিন কোটি ৫৩ লাখ ৭৩ হাজার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ৪৯ লাখ ১৩ হাজার।