প্রণোদনা: ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা ‘পাচ্ছে না’ ব্যবসায়ীরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-19 21:57:39 BdST

bdnews24

করোনাভাইরাস সঙ্কট উৎরাতে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার অর্থ ছাড়ে ব্যাংকগুলো অসহযোগিতা করছে বলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছে।

সোমবার ক্ষুদ্র প্রকৌশল খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের এক ভিডিও কনফারেন্সে এই অভিযোগ আসে।

এই সঙ্কটে ক্ষুদ্র শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রণোদনার অর্থ ছাড়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাব থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষায় প্রায় লক্ষ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এসএমই খাতের জন্য দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার কোটি। এই অর্থ এই খাতের উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ হিসেবে পাবেন।

শেখ ফাহিম বলেন, “ব্যাংক মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়েছিল যে, তারা অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশকে সরকারের সার্কুলার অনুযায়ী এসএমই খাতের সহায়তার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলবেন এবং প্রয়োজনে এফবিসিসিআইর চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সহযোগিতা নেবেন।

“কিন্তু এখনও আমরা দৃশ্যমান ফলপ্রসূ কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করছি না। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়গুলো এখনও কোনো হেল্প ডেস্ক চালু করেনি এবং শাখাগুলোকেও কোনো পরিষ্কার নির্দেশনা দেয়নি।”

ক্ষুদ্র প্রকৌশল খাতটি পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে এই খাতের কয়েকজন নেতা বলেন, বর্তমানে এই খাতের পণ্যগুলোর জন্য ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্যাট ও ট্যাক্স মওকুফ করতে হবে।

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ মেটাল প্যাকেজিং ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুবাইর এ জামান, বাংলাদেশ মেটাল ওয়্যার অ্যান্ড ওয়্যারেনেইলস মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল আলম খান, বাংলাদেশ সাব-কন্ট্রাক্টিং শিল্প মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসলাম আলী, ফাউন্ড্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আবদুল মালেক, ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের সভাপতি মির্জা নজরুল গণী শোভন, বাংলাদেশ অটোমোবাইলস ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ রহমান, বাংলাদেশ অটোমোবাইলস অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমদ এবং স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আলী জামান আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।

নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, “দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বর্তমানে না খেয়ে আছে। তাদের দুঃখ-কষ্টের দিকে এখনি নজর দেওয়া উচিৎ।

“সরকারের দেওয়া ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা না খেয়ে মারা যাবে। তাই সিএমএসএমই খাতে দেওয়া প্যাকেজটি মে-জুনের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ফেডারেশনকে নজর দিতে হবে।”

বিষয়টি নিয়ে সরকারের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফাহিম।

তিনি বলেন, “এই অসহযোগিতার বিষয়টি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং সরকারের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দেওয়ার পরও আশানুরুপ কাজ হচ্ছে না। ব্যাংকগুলো এই বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে আসবে এবং খুব তাড়তাড়ি এর সমাধান হবে বলে আশা করি।”

এর আগে বিভিন্ন জেলার নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে উইমেন চেম্বারের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

ঋণ পাওয়া নিয়ে উইমেন চেম্বারদের নেতারা নানা রকমের অভিযোগ তুলে ধরলে তিনি বলেন, “আপনারা যথাযথ কাগজপত্র নিয়ে ঋণের জন্য আবেদন করবেন। যদি কোনো ব্যাংক ঋণ দেওয়ার বিষয়ে গড়িমসি করে তাহলে আমাদের কাছে ওই ব্যাংকগুলো নাম জমা দেবেন। আমরা তাদের সাথে কথা বলব। এছাড়া আপনাদের যে কোনো সমস্যার বিষয়ে আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।”

সিলেট উইমেন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়, চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, বরিশাল উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি অপু আক্তার এসময় উপস্থিত ছিলেন।