কোভিড-১৯: ‘সুযোগের ট্রেন’ হারাতে চান না বাণিজ্যমন্ত্রী

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-20 20:15:55 BdST

bdnews24

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্বের অনেক বড় বড় কোম্পানি বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নেবে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ টানতে হবে।

তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া গেলে সুযোগের ওই ট্রেন ‘মিস হয়ে যাবে’ বলে সতর্ক করেছেন তিনি। 

বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্য সহায়ক পরামর্শক কমিটির ৭তম সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

সভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

সভার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে অনেক বড় বড় কোম্পানি অনেক দেশ থেকে তাদের বিনিয়োগ স্থানান্তর করবে। সেই সুযোগটা যদি নিতে পারি তাহলে করোনা পরিস্থিতি থেকে কিছু সুযোগও আমরা পেয়ে যাব। পাশাপাশি কর্মহীনতার ধাক্কাটাও আমাদের সামলাতে হবে।

“প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান যে কথা আমার বলা দরকার তিনিই সবটাই বলেছেন। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন আলোচনা বিভিন্ন কিছু করছি কিন্তু হয়ত মূল ট্রেনটাই আমরা ফেল করব। সব কিছুই হয়ত করব আমরা যখন সব শেষ হবে তখন সেই ট্রেনে উঠতে পারব না।”

অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে, অনেক আলোচনা হয়েছে, ইজি অব ডুয়িং বিজনেসে সূচকের দুর্বলতার কথা বলা হয়েছে। নতুন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কিন্তু দেশের বাইরে বসে বসেই ইজ অব ডুয়িং বিজনেসের সূচকের পরিস্থিতির কথা জানতে চায়। সেখানে যদি তারা নেগেটিভ চিত্র পায় তাহলে তারা নিরুৎসাহিত হয়।

“এই মুহূর্তে দরকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা রিলোকেশন হওয়া কোম্পানিগুলোকে কতটা ধরতে পারি। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের বড় বড় কোম্পানির সাথে এ বিষয়ে কথা বলছেন। ব্যবসায়ীদেরও কথা বলা শুরু করতে বলেছেন। শিল্পমন্ত্রীও বলেছেন আমরা পজিটিভ।

“আমরা বলতে চাই যারা আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে আসবে, আমাদের যেসব প্রতিযোগী দেশ আছে তাদের তুলনায় আমরা বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধা বেশি দেব না কি সমান সমান দেব। তারা কী সুবিধা পাবে, আর আমরা কী দেব?”

উদাহরণ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় ‘বড় রকমের’ সুবিধা দেওয়ার কথা তুলে ধরে টিপু মুনশি বলেন, “ইন্দোনেশিয়ায় ৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলে তারা পাঁচ বছরের জন্য ৫০ শতাংশ ট্যাক্স হলিডে দিচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া আমাদের বড় প্রতিযোগী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে ৬০ শতাংশ শ্রমিকের বয়স ৪০ বছরের নিচে। তাদের এটা একটা বড় সুযোগ। বেতনও মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি। ইন্দোনেশিয়ায় বড় রকমের সুবিধা রয়েছে।

“আমরা বলতে চাই যে, তাদের কাগজপত্র দেখে আমরা কাগজ তৈরি করব, যাতে করে বিনিয়োগকারীরা চোখ ফিরিয়ে আমাদের দেশে চলে আসে। যে বাংলাদেশ ইজ বেটার, সেজন্য আমাদের কাজ করতে হবে।”

বৈঠকের আলোকে একটা কার্যপত্র তৈরি করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বিনিয়োগকারীদের আমাদের পরিষ্কার কাগজ দেখাতে হবে যে আমরা এসব সুবিধা দেব। মুখে সুন্দর সুন্দর কথা বলি, কাজ করতে এসে যখন তারা দেখে যে একদিনের কাজ এক মাসেও হয় না তখন তারা নেগেটিভ পিকচার নিয়ে ফিরে যায়। নতুন করে কেউ আসতে চায় না।”

ঈদের ছুটির পর অফিস খুললে এসব বিষয়ে একটা টাক্সফোর্স গঠন করা হবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বিশেষ করে রি-লোকেশন হতে যাওয়া যে ব্যবসা তা কী কী পদক্ষেপ নিলে নিয়ে আসা যায়, এজন্য ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরাতে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।”