সৌদির জরিমানার ৩ বছর পর বিমানের তদন্ত কমিটির কারণ ব্যাখ্যা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-07-16 03:50:14 BdST

স্বাস্থ্য বিধি ভঙ্গের জন্য সৌদি আরব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে জরিমানা করার তিন বছর পর ওই ঘটনা তদন্তে কমিটি করার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে বিমানকে ৪ লাখ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা গুণতে হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতেই ঘটনার তিন বছর পর বিমান তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

গত শনিবার বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দীন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিমানের এয়ারক্রাফটে ওষুধ স্প্রে না করে সৌদি আরবের স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করায় বিমানকে ৪ লাখ ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। জরিমানার এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এক্ষেত্রে প্রকৃত বিষয় হল, যে ঘটনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে উক্ত পরিমাণ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল, তা ২০১৭ সাল ও তার নিকটবর্তী সময়ে সংঘটিত পুরাতন ঘটনা।

“যে বা যাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে এই জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছিল, ওই ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মূলত বিমানের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি আসা মাত্রই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের জেদ্দা হেলথ ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পরিচালিত ফ্লাইটে ‘ওয়ান শট স্প্রে’ নামের একটি জীবাণুনাশক দিতে হয়, যা বিমানের ফ্লাইটেও যথাযথভাবে দেওয়া হয়। নির্ধারিত এই জীবাণুনাশক দেওয়ার পর তার খালি টিউবগুলো নিয়ম অনুযায়ী জেদ্দা হেলথ ডিপার্টমেন্টের কাছে পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপন করার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় বিমানের ওই ফ্লাইটে কর্মরত কারো কারো অবহেলার দরুণ তা যথাযথভাবে ও নির্দিষ্ট সংখ্যায় উপস্থাপন না করার কারণে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালের মার্চ ও তার নিকটবর্তী সময়ে এ রকম বেশ কয়েকটি ঘটনায় ওই জরিমানা আরোপ করে।

“জরিমানার টাকা ওই সময়েই পরিশোধ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি তখন তদন্ত কার্যক্রম এর বাইরে রয়ে গিয়েছিল।”

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে বিদ্যমান সব অনিয়ম দূর করার আন্তরিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তারই অংশ হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কর্মরত কারো অবহেলার কারণে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধ করতে এই তদন্ত আবশ্যক। প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের সনাক্ত করে শাস্তির মুখোমুখি করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধ করা সম্ভব হবে।”