মহামারীকালে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্য

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-07-16 18:35:51 BdST

bdnews24
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ জোগায় তৈরি পোশাক; মহামারীতে সেখানেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা

করোনাভাইরাস মহামারীর এই সময়ে চলতি অর্থবছরে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ও সেবা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে সরকার, যা গেল অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার এ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে নতুন অর্থবছরের এই রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরে মহামারীর ধাক্কার পর শেষ পর্যন্ত ৪০ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পেরেছে বাংলাদেশ। সেই হিসেবে এবারের লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ বিলিয়ন ডলার কম।

টিপু মুনশি জানান, নতুন অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে ৪১ বিলিয়ন ডালার এবং সেবা খাতে ৭ বিলিয়ন ডলার আয়ের প্রত্যাশা করছে সরকার। 

“রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, সেটা আমার অর্জন করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।”

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর ধাক্কায় গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় কমেছে ২৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর আগের অর্থবছরের চেয়ে আয় কমেছে ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি খাতে ৪৬ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছিল ৪০ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার, আর সেবা রপ্তানি থেকে ৩৩ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল।

চলতি অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গত দুই বছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা এবং এর বিপরীতে অর্জন ও প্রবৃদ্ধির হার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব বাণিজ্যে মহামারীর নেতিবাচক প্রভাবের ফলে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে পণ্য খাতে রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় যথাক্রমে ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ, ৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও ৬১ দশমিক ৮৭ শতাংশ কমেছে। তবে জুন মাসে কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ, যা থেকে অনুমান করা যায়, সঠিক নীতি অনুসরণ ও সময়ানুগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।”

কোভিড-১৯ মহামারীর পা্রকোপ এ বছরের শেষে ‘কমে আসবে’- এমন আশা প্রকাশ করে টিপু মুনশি বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতি ২০২১ সালের মধ্যেই প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে। ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে চাহিদার উল্লম্ফন ঘটবে, ফলে আমাদেরও রপ্তানি বাড়বে।”

বাণিজ্যমন্ত্রী আশা করছেন, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশি পণ্যের বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ‘সাপ্লাই চেইনে’ যে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ বাড়বে।

“আইটি খাতেও দেশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, ই-কমার্সের প্রসার ঘটবে এবং দেশের ব্যবসা বাণিজ্যে আইটির ব্যবহার বাড়ার ফলে আমাদের রপ্তানিও বাড়বে।”

এর আগে পোশাক শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য রপ্তানিমুখী কারখানা মালিকদের প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে ইংগিত করে বিজিএমইএ সভাপতি ‍রুবানা হক বলেন, “জুলাই অগাস্ট সেপ্টেম্বর এ তিন মাসে স্বল্পসুদে আমরা যদি আরেকটি জায়গা পাই, তাহলে আমাদের জন্য ভাল হবে এবং আমরা এগিয়ে যেত পারব। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, তাদের কথা ব্যাংক চিন্তা করছে না।”

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, করোনাভাইরাস সঙ্কট মোকাবেলায় শিল্প খাতের জন্য সরকার যে ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তা থেকে ইতোমধ্যে ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।

“আমি মনে করি আগামী তিন মাসের স্যালারি সাপোর্ট যদি দরকার হয়, সেটা আপনারা কিন্তু... ৩০ হাজার থেকে যেহেতু ৮ হাজার খরচ হয়েছে, সেখানে আরও টাকা আছে, ওখান থেকে আমার মনে হয় আগামী ৩ মাসের স্যালারি নেওয়া যেতে পারবে।

“তারপরও ‍যদি দেখা যায় ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য টাকা আরও দরকার, তখন আমরা সরকারের কাছ থেকে বিবেচনা করতে পারব ৩০ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়ানো যায় কিনা।”

আর প্রণোদনার আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ দিয়ে ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে আছে ব্যাংক।

“ব্যাংকাররা বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ক্রেটিড ইন্স্যুরেন্স স্কিম করে দিলে তারা এসএমই খাতে টাকা দেবে।... অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এক হাজার কোটি টাকার একটি ইন্স্যুরেন্স স্কিম দেওয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই টাকা ব্যাংকগুলোকে দিয়ে দেবে।

“বিশ্ব ব্যাংকের সাথে কথা হয়েছে আরও ৪ হাজার কোটি টাকার ইন্স্যুরেন্স স্কিমের জন্য। এই ৫ হাজার কোটি টাকার ইন্স্যুরেন্স ক্রেডিট স্কিম করলে এসএমই খাতের জন্য হয়ে যায়।”

মহামারীর সঙ্কট চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি কিছু সুযোগও এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন সালমান এফ রহমান।

তিনি বলেন, “সরকার ও বেসরকারি খাতগুলোকে একসাথে কাজ করে সুযোগগুলো ধরতে হবে। চীন আমাদের যে সুযোগ দিয়েছে তা কাজে লাগাতে হবে, ওই মার্কেটে যদি ঢুকতে পারি, সেটা বিরাট বড় মার্কেট... সেটা বুঝতে হবে কীভাবে ব্যবসা করা যায়।”  

এক সাংবাদিকের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়া সংগ্রহের জন্য এবার কোনো অর্থ সঙ্কট থাকবে না। এবার প্রয়োজনে সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির বিষয়টিও মাথায় রেখেছে। গতবছরের মত পরিস্থিতি কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না।

কয়েকদিনের মধ্যে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে কোরবানির ঈদের সময় চামড়া সংগ্রহের দাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা আশাবাদী, এ বছর কোরবানির চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

বাণিজ্যসচিব মো. জাফর উদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সহ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বেসিস সভাপতি আলমাস কবীর, চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম এবং বিকেএমইএ-এর প্রথম সহসভাপতি মো. হাতেম সংবাদ সম্মেলেন বক্তব্য দেন।