চালের দাম বেঁধে দিল সরকার

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-09-29 18:58:56 BdST

পঞ্চাশ কেজি ওজনের ভালো মানের এক বস্তা মিনিকেট চালের দাম মিল গেটে ২৫৭৫ টাকা এবং মাঝারি মানের চালের দাম ২১৫০-২২৫০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

খাদ্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার চালকল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠক শেষে কয়েকজন চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পর খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার চালের এই দাম নির্ধারণ করে দেন।

তিনি বলেন, “আগামীকাল (বুধবার) সকাল থেকে এই দাম কার্যকর হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে ১০ দিনের মধ্যে সরু চাল আমদানি করা হবে৷ একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কোনো ক্রমেই আগামী এক মাস চালের দাম বাড়ানো যাবে না বলে ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ার করেন সাধন মজুমদার, পারিবারিকভাবে যিনি নিজেও চালকলের মালিক।

অর্ধশতাধিক চালকল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রথম বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী ১৫ দিন আগে বাজারে চালের যে দাম ছিল, সেই দামে পুরো অক্টোবর মাস এই খাদ্যশস্য বিক্রি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

পরের বৈঠকের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে চালের দাম নির্ধারণ করে দেন তিনি।

সভায় চাল ব্যবসায়ীরা খাদ্যমন্ত্রীকে জানান, ১৫ দিন আগে তারা চালকলগুলো থেকে ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চাল ২৫৫৫ টাকায় কিনেছেন।

কিন্তু মিল মালিকরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে মিল গেটে চাল বিক্রির তথ্য-উপাত্ত মন্ত্রীকে দেন।

দ্বিতীয় দফার সভার পর চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “১৫ দিন আগের দামে ফিরে আসতে হবে। পাইকারি বাজারে ৫১ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে মিনিকেট চাল সর্বোচ্চ ২৫৭৫ টাকা বস্তা। আর আটাশ বা মাঝারি মানের চাল প্রতি বস্তা ২১৫০ থেকে ২২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।”

মোটা চাল পর্যাপ্ত মজুদ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষ এখন মোটা চাল খায় না। যারা খায় তাদের জন্য ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে দিচ্ছি। আড়ৎদার ও খুচরা বাজারের দামটা কৃষি বিপণন ও ভোক্তা অধিকার নির্ধারণ করে দেবে। প্রতিদিন তারা সকালে এটা নির্ধারণ করে থাকে।

সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে চাল ব্যবসায়ীরা মন্ত্রীকে মোটা চালের উৎপাদন কমে যাওয়া, করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ট্রাক ভাড়া বেড়ে যাওয়া এবং বন্যা ও মহামারীর কারণে বিপুল পরিমাণ মোটা চাল রিলিফ দেওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

চালকল মালিকরা নিজেদের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় চাল ব্যবসায়ীরা তার প্রতিবাদ জানান। আবার চাল ব্যবসায়ীরা যখন কথা বলছিলেন তখন চালকল মালিকরা তার প্রতিবাদ জানান। কিছু কিছু সময় মন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করে উভয় পক্ষকে থামাতে হয়েছে।

কারণ ছাড়া বিভিন্ন সময় চালকলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চালকল মালিকরা।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “র‌্যাব, ভোক্তা অধিদপ্তর, এনএসআই অভিযানে গেলে আপনাদের মানসম্মান নষ্ট হয়। কিন্তু নওগাঁয় যারা চাল স্টক করে রেখেছিল, তারা ডিসির সঙ্গে বসে বলেছেন, এসব ধান বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করছি অভিযান বন্ধ রাখুন। ধান তো মজুদ আছে, এই ধান বের করতে হবে। বাজার বাড়ানো যাবে না।”

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মিলারদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “যখন যে দামে ধান কিনবেন তখন সেই দামে চাল বিক্রি করবেন। দুই শতাংশ ধানও কৃষকের কাছে নেই, গ্যারান্টি দিলাম, আমি খোঁজ নিয়েছি।”

অনুমোদন না থাকলেও অনেক হাস্কিং মিল ধান মজুদ রেখেছে জানিয়ে সাধন বলেন, “এই ধান কেনা বন্ধ করুন। মধ্যস্বত্বভোগীরা ধান মজুদ রেখেছে। যেহেতু আপনারা ধরিয়ে দিচ্ছেন না, গোপনে আপনরাই ধান কিনে রেখেছেন কি না, তা বিশ্বাস করব কীভাবে?”

সেসব মিল অবৈধভাবে ধান মজুদ রেখেছে সেই তথ্য যে মিল মালিক সরকারকে দেবে সেই সরকার সরকার নির্ধারিত দামে ওই মিল মালিকের কাছে সেই ধান বিক্রি করবে বলে সভায় ঘোষণা দেন খাদ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “অভিযানের সময় আমাদের সঙ্গে যেতে হবে না, গোপনে আমাদের খবর দিলেই হবে। আমাদের সচিবকে বা আমাকে জানাবেন, আমার মোবাইল সব সময় খোলা থাকে, এসএমএস করবেন।”

অটো রাইস মিলগুলো পক্ষিক ক্ষমতার পাঁচগুণ এবং হাস্কিং মিলগুলো পাক্ষিক ক্ষমতার তিনগুণ ধান মজুদ করতে পারে। কোন মিল কী পরিমাণ ধান মজুদ রাখতে পারবে তা সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়।

খাদ্য সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল মুঈদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ সভায় বক্তব্য দেন।