ভোজ্যতেলের দাম ঠিক করতে কমিটি গঠন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-01-24 16:22:05 BdST

bdnews24

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোজ্যতেলের যৌক্তিক মূল্য কোন তারিখে কেমন হওয়া উচিত, তা ঠিক করতে একটি কমিটি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রোববার মন্ত্রণালয়ে দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেলের সপ্তাহিক বৈঠকে ভোজ্যতেল আমদানিকারদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “ভোজ্যতেল ৯০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যায়, সেটার প্রভাব পড়ে। জুলাই মাসে প্রতিটন ৭০০ ডলার ছিল, সেটা ১১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে, মাঝখানে ১১৯০ ডলারও হয়েছিল। তার মানে অলমোস্ট ৭৫ শতাংশের ওপরে দাম বেড়েছে। আমাদের দেশেও তার দামের প্রভাব পড়েছে।”

দেশের বাজারে এখন প্রতিকেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৩০ টাকা, যা তিনমাস আগে ছিল ৯০ টাকা (দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ)। প্রতিলিটার ৯৫ টাকার সয়াবিন তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্যতেলের এতো মূল্যবৃদ্ধি আগে ঘটেনি। 

মন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে কী দাম হওয়া উচিত সেটা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের রেজাল্ট হল, কী প্রাইস হলে যৌক্তিক হয়, তার একটা ওয়েআউট করব। দেশীয় বাজার ও আন্তর্জাতিক বাজারের মধ্যে নজরদারি রাখার জন্য একটা কমিটি করা হয়েছে। ট্যারিফ কমিশন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে একটা চুলচেরা বিশ্লেষণ করার জন্য একটা কমিটি করার সিদ্ধান্ত এই মিটিং থেকে আমরা নিয়েছি।”

ভোজ্যতেল আমদানিতে আগে এক স্তরে ডিউটি থাকলেও চলতি অর্থবছরে সেটা চার স্তর করা হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানান। হয়রানি ও ঝামেলা এড়ানোর জন্য ডিউটি আবার এক স্তরে নিয়ে আসতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানান ব্যবসায়ীরা।

মন্ত্রী বলেন, “ব্যবসায়ীরা বলেছেন, যে চার স্তরে ডিউটিটা নেওয়া হয় সেটা এক জায়গায় হলেই তাদের জন্য সুবিধা হয়। সেটার ব্যাপারে আমরা এনবিআরকে চিঠি দিয়েছি, উত্তর আসেনি। এখন আবার চিঠি দেব।”

সারা বছর বাজারে ৭০ থেকে ৭২ শতাংশ খোলা ভোজ্যতেল আর বাকিটা প্যাকেটজাত তেল বিক্রি হয় বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়। তেলের মান ও সরবরাহ ব্যবস্থা শৃঙ্খলায় রাখতে আরও বেশি পরিমাণ বোতলজাত তেল বাজারজাত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

“আরও বেশি বোতলজাত করা গেলে দামের হেরফের কম হবে। শুধু দামের জন্য না, কোয়ালিটির জন্যও বোতলজাত হওয়া জরুরি। শিল্প মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে চেষ্টা করছে। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এটা একটা পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। ৭০ শতাংশ যেন বোতলজাত করা যায়। নকল মাল থেকেও মানুষ রেহাই পাবে,” বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা মন্ত্রীকে জানান, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল কেনার পর তা ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে তিনমাস সময় লেগে যায়। দাম নির্ধারণে এই সময়কে বিবেচনায় নিতে হয়।