পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

‘টাকা না দিয়ে উল্টো মামলা’ করেছে ই-অরেঞ্জ, অভিযোগ ভেন্ডরদের

  • লিটন হায়দার ও গোলাম মর্তুজা, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-09-07 20:08:04 BdST

bdnews24
দীর্ঘ সময় পরও পণ্য কিংবা অগ্রিম অর্থ ফেরত না পেয়ে ই-অরেঞ্জ অফিসের সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ।

গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগে আলোচনায় থাকা ই কমার্স কোম্পানি ই-অরেঞ্জ মোটরসাইকেল সরবরাহকারী সাতটি ভেন্ডরের বিরুদ্ধে ৬৬৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা করলেও ভেন্ডররা বলছেন উল্টো কথা।

ভেন্ডররা যে হিসাব পুলিশকে সরবরাহ করেছে, তা সঠিক হলে ভেন্ডররাই উল্টো টাকা পাবে ই- অরেঞ্জের কাছ থেকে।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব থাকা সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের  (উত্তর) যুগ্ন কমিশনার হারুণ অর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা তদন্ত করে দেখছি এটা। ‘ফেইক’ হলে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে দিব। এটাতে কোনো সমস্যা নাই। প্রথমত তারা (ই অরেঞ্জ) অভিযোগ করেছে, তাদের টাকা আত্মসাৎ করেছে। এখন যদি মনে হয় ওরা টাকা নিয়েছে তা হলে উল্টা চার্জশিট হবে।”

বাজার দরের চেয়ে অনেক কম দামে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের নজর কেড়েছিল ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম ই-অরেঞ্জ। সেই লোভে পড়ে অনেকে লাখ লাখ টাকার পণ্যের অর্ডার করেন পরে বেশি দামে বিক্রি করে লাভ পাওয়ার আশায়।

কিন্তু দীর্ঘ সময় পরও পণ্য কিংবা অগ্রিম অর্থ ফেরত না পাওয়ায় অগাস্টে ই-অরেঞ্জ অফিসের সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর শুরু হয় ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের মামলা।

গ্রাহকদের ওই আন্দোলনের মধ্যেই গত ১১ অগাস্ট তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ভেন্ডরদের বিরুদ্ধে ওই মামলাটি করেন ই-অরেঞ্জের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) আমান উল্লাহ চৌধুরী।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে এই সাতজন সরবরাহকারীর মাধ্যমে ৩৬ হাজার ২৮১টি বিভিন্ন ব্রান্ডের মোটরসাইকেল কেনার জন্য চুক্তি করে ই-অরেঞ্জ।

এসব মোটরসাইকেলের মূল্য হিসেবে সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৬৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু সরবরাহকারীরা ক্রয়ের রশিদ, ডেলিভারি চালানসহ কোনো কাগজপত্র ই-অরেঞ্জকে দেয়নি বলে অভিযোগ করা হয় মামলায়।

ওই মামলায় ইতোমধ্যে দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এছাড়া সরবরাহকারীদের (ভেন্ডর) কয়েকজন ‘পালিয়ে বেড়াচ্ছেন’ বলেও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন সেসব কোম্পানির কর্মকর্তারা।

আমানউল্লাহ এবং ই-অরেঞ্জের দুই মালিক এখন এক গ্রাহকের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। ওই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ১১শ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আমান উল্লাহর করা মামলায় ই-অরেঞ্জের সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) নাজমুল আলম রাসেল, রাসেলের স্ত্রী ফারিয়া সুবহা, বাবা খলিলুর রহমান, ভাই মঞ্জুরুল আলম পারভেজ এবং বোন শাহনাজ পারভীন কেয়াকে আসামি করা হয়।

পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ‘আরপি এন্টারপ্রাইজের’ মাধ্যমে ই-অরেঞ্জে মোটরসাইকেল ও পণ্য সরবরাহ করতেন রাসেল। মামলায় রাসেল ও তার বাবা খলিলুরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তারা এখন কারাগারে রয়েছেন।

মামলার আসামি বাকি ছয় ভেন্ডর হলেন- মোহাম্মদপুরের ‘বাজাজ কালেকশন’ শোরুমের মালিক সুলতান উদ্দীন, তেজগাঁওয়ের মোটরসাইকেল বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ‘অল জোন’ এর মালিক মাহাদি হাসান।

এছাড়া বছিলার হোন্ডা মোটরসাইকেলের শোরুম ‘বাইক ভ্যালি’র মালিক পার্থ প্রতিম রায়, তেজগাঁওয়ের টিভিএস মোটরসাইকেলের সরবরাহকারী মাহাদী আবিদ, তানভীর হাসান ও আবরার মো. ফাহিম।

আমান উল্লাহ চৌধুরী মামলায় বলেছেন, গত জুলাই মাসে তিনি ই-অরেঞ্জের সিওও হিসেবে নিয়োগ পান। তার আগে নাজমুল আলম রাসেল এ দায়িত্বে ছিলেন। রাসেল সিওও থাকা অবস্থায় ভেন্ডরদের সঙ্গে ওই লেনদেনগুলো হয়।

রাসেল ওই চুক্তির আওতায় একটি অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে ৪ কোটি ১ লাখ টাকার ১২টি চেক কোম্পানিকে (ই-অরেঞ্জ) দিয়েছেন। ওই চেকগুলোর মধ্যে মাত্র ৩৫ লাখ টাকা কোম্পানি তুলেছে বলে দাবি করা হয় এজাহারে।

ভারতে আটক পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানা বরখাস্ত  

সোহেল রানাকে শিগগিরই ফেরানোর আশা কম: পুলিশ কমিশনার  

পণ্য-টাকা ফেরত দিচ্ছে না ই-অরেঞ্জ, গ্রাহকদের বিক্ষোভ  

ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা, আত্মসমর্পণের পর কারাগারে দুই মালিক  

ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া ও তার স্বামী রিমান্ড শেষে কারাগারে  

ই-অরেঞ্জের সিওও গ্রেপ্তার  

ই-অরেঞ্জের মালিকসহ ৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা  

রাসেল তার পরিবারের সদস্য ও ভেন্ডরদের নিয়ে আরেকটি ই-কমার্স কোম্পানি চালু করেছেন বলেও এজাহারে লেখা হয়েছে।

ই-অরেঞ্জ লেনদেনের যেসব হিসাব দিয়েছে এবং ভেন্ডরদের কাছ থেকে যেসব হিসাব পুলিশ পেয়েছে, তাতে দেখা যায় জুনের মাঝামাঝি সময় থেকেই ভেন্ডররা পণ্য (মোটর সাইকেল) সরবরাহ বন্ধ রাখে।

ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকে ই-অরেঞ্জের হিসাবে (স্টেটমেন্ট) দেখা গেছে, রাসেলের স্ত্রীর নামে থাকা কোম্পানির (আরপি এন্টারপ্রাইজ) অ্যাকাউন্টে ই-অরেঞ্জ ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা দিয়েছে।

রাসেল পুলিশকে যে হিসাব দিয়েছেন, তাতে দেখা যায়, ওই টাকার বিপরীতে ‘আরপি এন্টারপ্রাইজ’ এক কোটি ৪২ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ করেছে।

পরে একটি অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে রাসেলের কাছ থেকে আরও ৩৫ লাখ টাকা নিয়েছে ই-অরেঞ্জ। তাতে হিসেব মিলিয়ে দেখা যায়, ই-অরেঞ্জের কাছেই রাসেল এখন উল্টো ৩১ লাখ টাকা পাবেন।

পুলিশের কাছে ‘বাজাজ কালেকশন’ নামে সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের দেওয়া হিসাবে দেখা যায়, গত ১৬ জুন পর্যন্ত ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের মোট ২৬ হাজার ২৬টি বাজাজ মোটরসাইকেল সরবরাহ করা হয়েছে।

এর মূল্য বাবদ কোম্পানির পাওনা দাঁড়ায় ৩৮৫ কোটি দুই লাখ টাকা। কিন্তু ই-অরেঞ্জ পরিশোধ করেছে ৩৮২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সেই হিসেবে ই-অরেঞ্জের কাছে বাজাজ কালেকশন এখন দুই কোটি ৪৮ লাখ ৯৭ হাজার টাকা পায়।

এ কোম্পানির মালিক সুলতান উদ্দীন পলাতক থেকে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করছেন জানিয়ে এর ব্যবস্থাপক মাসুদ আলম বলেন, ই-অরেঞ্জের মামলায় তারা ‘বিস্মিত’।

“আমাদের সঙ্গে তাদের (ই অরেঞ্জের) লেনদেনের নিয়মটা ছিল তারা আগে আমাদের টাকা দেন, সঙ্গে কোন গ্রাহককে কোন মডেলের মোটরসাইকেল দিতে হবে তার একটা তালিকা দেন।

“সেই তালিকা অনুযায়ী শোরুম থেকে গ্রাহকদের মোটরসাইকেল দেওয়া হতো। সাধারণত টাকা দেওয়ার এক-দেড় মাসের মধ্যে ডেলিভেরি পেতেন গ্রাহকরা।”

মাসুদ আলম বলেন, তাদের শোরুম থেকে চাহিদা মাফিক মোটরসাইকেল ডেলিভারি করা হয়েছে। ডেলিভারির পরে নিজেদের ওয়েবসাইটে ওই পণ্যগুলোকে ‘ডেলিভারড’ হিসেবেও দেখিয়েছে ই-অরেঞ্জ।

“বাজাজ কালেকশন থেকে প্রাপ্য পণ্য বুঝে পাননি এরকম একজন গ্রাহকও দেখাতে পারবে না ই-অরেঞ্জ। কিন্তু এরপরও পাওনা টাকা না দেওয়ার ফন্দি করে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ভেন্ডরদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।”

মাসুদ আলম দাবি করেন, তারা এখনও ই-অরেঞ্জের কাছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা পাবেন। জুনের পর থেকে টাকা না পাওয়ায় তারা আর ডেলিভারি দেননি। তা নিয়ে ই-অরেঞ্জ চাপাচাপিও করেছে।

“আমাদের মালিক বয়স্ক ব্যক্তি, তিনি মুক্তিযোদ্ধাও। তিনি এখন জামিনের জন্য ঘুরছেন।”

বছিলা এলাকার মোটরসাইকেলের শোরুম ‘বাইক ভ্যালি’ থেকে হোন্ডা মোটরসাইকেল কিনেছে ই-অরেঞ্জ। বাইক ভ্যালি পুলিশকে যে হিসাব দিয়েছে, তাতে দেখা যায়, তারা ই অরেঞ্জকে ৪ হাজার ৫৭২টি মোটরসাইকেল সরবরাহ করেছে।

সে হিসেবে মোটরসাইকেলের দাম বাবদ বাইক ভ্যালির পাওনা ৭৫ কোটি ২২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। ই-অরেঞ্জ পরিশোধ করেছে ৭৪ কোটি ২৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ই-অরেঞ্জের কাছে ৬০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা পাবে বলে দাবি ওই কোম্পানির।

১৭ জুনের পর তারাও ই-অরেঞ্জকে আর কোনো মোটরসাইকেল দেয়নি। নথিতে বলা হয়েছে, ই-অরেঞ্জের শেষ ২৭টি অর্ডার ডেলিভারি করেনি ‘বাইক ভ্যালি’।

সোমবার ‘বাইক ভ্যালি’ শোরুমে গেলে একজন কর্মী জানান, মালিক পার্থ প্রতিম রায় এখন দেশের বাইরে। পরে কোম্পানির এক কর্মীর কাছ থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে অন্যতম অংশীদার হাসান মাহমুদের সঙ্গে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমরা ই-অরেঞ্জের কাছে টাকা পাই, উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করে রেখেছে। ৫০টির ওপরে বাইকের দাম আমরা পাব ই-অরেঞ্জের কাছে।”

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকশিনার ওয়াহিদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ই-অরেঞ্জ ও মামলার আসামি ভেন্ডরদের সকল ব্যাংক লেনদেনের তথ্য আমরা খতিয়ে দেখছি। এছাড়া মামলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কেও বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”

চার মাসে ১৬ বার টাকা তুলেছেন পুলিশ পরিদর্শক সোহেল রানা

এ মামলার আসামি আরেক ভেন্ডরের সঙ্গে ই-অরেঞ্জের অন্যতম ‘পৃষ্ঠপোষক’ বনানী থানার বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক শেখ সোহেল রানার টেলিফোন আলাপ সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ভেন্ডরের একজন প্রতিনিধি জানান, ভেন্ডর নিজেই একটি অ্যাপের মাধ্যমে কলটি রেকর্ড করেছেন।

ওই কথোপকথনে সোহেল রানাকে বলতে শোনা যায়, তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না। তার বাড়ি একটি বিশেষ জেলায়। তার ‘রাজনৈতিক যোগাযোগ’ অনেক গভীরে।

গ্রাহকের মামলায় আসামি হওয়ার পর সোহেল রানা ভারতে পালাতে গিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগে দেশটির সীমান্তরক্ষীদের হাতে গ্রেপ্তার হন। এখন তিনি ভারতের কারাগারে।

ই-অরেঞ্জ ওই মামলার সঙ্গে যে হিসাব দিয়েছে, তাতে দেখা গেছে, সিটি ব্যাংকে কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকে চার মাসে দুই কোটি ৩৮ লাখ টাকা তুলেছেন বনানী থানার বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক শেখ সোহেল রানা।

নিজের নামে ১৬টি চেকের মাধ্যমে সোহেল ওই টাকা তোলেন। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ই-অরেঞ্জের মালিক সোহেলের বোন সোনিয়া মাহজাবিনও টাকা তুলেছেন।

এছাড়া ফজলু, মিলন, অদিতি, জোবায়ের, রেজা চৌধুরী, মোহসিন রেজার নামে চেকের মাধ্যমে একশর বেশি বার সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়েছে।

১ জানুয়ারি থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে সিটি ব্যাংকে ই-অরেঞ্জের অ্যাকাউন্ট থেকে ৬২০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা তোলা হয়েছে। সর্বশেষ স্থিতি ছিল এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

আর ব্রাক ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে ই-অরেঞ্জ ৩৮৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা তুলেছে। ওই অ্যাকাউন্টে এই সময়ে জমা পড়েছে মোট ৩৯১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

ব্যাংকের হিসাব বলছে, বিভিন্ন ভেন্ডরদের মূল্য পরিশোধ, কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য খরচ বাবদ ওই টাকার একটা অংশ খরচ হয়েছে।

এছাড়া শেখ সোহেল রানা এবং তার বোন ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মাহজাবিন নিজেদের নামে ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো থেকে কয়েক কোটি টাকা তুলেছেন।