পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

জীবন বীমায় নিয়োগ ‘বাণিজ্য’ অনুসন্ধানে দুদক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-09-13 20:50:21 BdST

জীবন বীমা করপোরেশনের তিনটি পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে ‘নিয়োগ বাণিজ্যের’ অভিযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

সোমবার দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজীর নেতৃত্বে একটি দল করপোরেশনে পরিদর্শন করে এসব নথিপত্র সংগ্রহ করে বলে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানিয়েছেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জীবন বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), পরিচালকসহ (প্রশাসন) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।

“সত্যতা উদঘাটনের জন্য এ সংক্রান্ত আরও তথ্য প্রমাণ ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহ এবং বিস্তারিত পর্যালোচনা করে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদকের অভিযান টিম।”

দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর করপোরেশনের উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও অফিস সহায়ক পদে ৫১২ জন নিয়োগের জন্য এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহুরুল হক এই নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে ‘নিয়োগ বাণিজ্যে’ জড়িত বলে অভিযোগ পায় দুদক।

আগামী শনিবার এই নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কথা রয়েছে।

এই নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অন্তত ৪০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলেও দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, এমডি জহুরুল তার পছন্দের লোকদের দিয়ে একটি নিয়োগ কমিটি করে প্রশ্ন তৈরি করে করেন। সেগুলো ৫১২ জন পরীক্ষার্থীর কাছে বিলি করা হয়।

এমডির সাথে করপোরেশনের আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত বলেও অভিযোগে বলা হয়।

প্রশ্ন ফাঁস করে নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে রাষ্ট্রীয় এই বিমা প্রতিষ্ঠানটির এমডি (অতিরিক্ত সচিব) জহুরুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এগুলো সব মিথ্যা-বানোয়াট অভিযোগ। একটা চক্র চেয়েছিল পরীক্ষা বানচাল করতে। তাদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষভাবে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।”

একটি ইন্টারনেট সংবাদপত্রে এনিয়ে ‘বানোয়াট’ সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “হয়ত সেই নিউজের বিষয়ে দুদক দেখে কর্মকর্তা এসেছিলেন। তাদের সাথে আমরা কথা বলেছি, কাগজপত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছি।”

ওই সংবাদপত্রে প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন কি না- জানতে চাইলে জহুরুল বলেন, “এই নিউজের প্রতিবাদ দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না। ঘটনা যা সত্য, এমনিতে ক্লিয়ার হবে।”

চুক্তি থাকা সত্বেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সরকারের নিয়োগ নীতিমালায় ১৩ থেকে ২০তম (তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণী) গ্রেডে আউটসোর্সিংয়ে মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো কথা নেই। এসব নিয়োগ অফিস নিয়োগ কমিটি গঠন করে নিতে পারে, এখানেও আইন অনুসারে তা করা হয়েছে।”

গত বছরের জানুয়ারিতে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় জীবন বীমা করপোরেশন। এরপর গত ১৩ নভেম্বর এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়ার সময়সূচি ঘোষণা করেও অনিয়মের অভিযোগে দুই দিন আগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

ওই সময় করপোরেশনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব ওমর ফারুক। তিনি অবসরে গেলে গত ১৮ ফেব্রুয়ারিতে এ পদে যোগ দেন জহুরুল হক।