পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

ই-কমার্স: বিদ্যমান আইন-কাঠামো পর্যালোচনা হচ্ছে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-10-05 17:51:13 BdST

নতুন আইন প্রণয়নে হাত দেওয়ার আগে বিদ্যমান আইন সংস্কার করে ই-কমার্সকে শুদ্ধাচারের আওতায় আনার বিষয়টি নিরীক্ষা করে দেখবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

পাশাপাশি নতুন কোনো কর্তৃপক্ষ গঠন না করেও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রতিযোগিতা কমিশনকে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে শূন্যতা পূরণ করা যায় কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ডিজিটাল কমার্স আইন প্রণয়ন ও কর্তৃপক্ষ গঠন কমিটির সভা শেষে এসব তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) ও কমিটির আহ্বায়ক এএইচএম সফিকুজ্জামান।

তিনি বলেন, “আজকের আলোচনার মূল বিষয় হল ডিজিটাল ই-কমার্স আইন হবে কিনা সেই বিষয়ে। আমাদের যে এক্সিস্টিং আইনগুলো আছে, ভোক্তা অধিকার আইন, কম্পিটিশন কমিশন অ্যাক্ট, আইসিটি অ্যাক্ট, ব্যাংকিংয়ের জন্য ফিন্যান্সিয়াল যেসব রেগুলেশন রয়েছে, সেগুলো বিস্তারিত বিশ্লেষণ করার জন্য একটি সাব-কমিটি করা হয়েছে। তারা এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট করবে।

"আমরা কি নতুন আইন করব, নাকি এক্সিস্টিং আইনগুলো পর্যালোচনা করে- যদি সে আইনগুলোর সংস্কার করলেই চলবে, সাব কমিটি সেটাই দেখবে।“

ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হলে কিছু সময়ের প্রয়োজন হয়। আমাদের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আছে, এটা এখন ভাইব্রেট একটা কর্তৃপক্ষ। ডিজিটাল কমার্স কর্তৃপক্ষ করতে গেলে লম্বা একটা সময়ের প্রয়োজন। অফিস, অভিজ্ঞতাসহ সার্বিক বিষয়টি দ্রুত করা সম্ভব নাও হতে পারে।

“আমরা যেটা ভাবছি সেটা হচ্ছে ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের অধীনে ই-কমার্স নিয়ে একটি বিশেষ শাখা চালু করা যায় কিনা। পাশাপাশি   কম্পিটিশন কমিশন যেটা আছে, প্রয়োজন হলে সেখানেও প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা যায় কিনা। সাব কমিটি এসব বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে দেখবে।“

ই-অরেঞ্জের মালিকদের বিরুদ্ধে ২৩২ কোটি টাকা পাচারের মামলা

সঙ্কট ‘শাপেবর’ হবে সম্ভাবনার ই-কমার্সে?

ই কমার্সে প্রতারণার শাস্তি অবশ্যই হবে: প্রধানমন্ত্রী

ইভ্যালি, ধামাকাসহ ৪ কোম্পানির সদস্যপদ স্থগিত করল ই-ক্যাব

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সাব-কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, ভোক্তা অধিকার, প্রতিযোগিতা কমিশন, আইন বিভাগ, এটুআই, এফবিসিসিআই, ই-ক্যাব ও বেসিসের প্রতিনিধি থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি ডিজিটাল সেল আছে। সেলটি একটি এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) করেছে। সেটা একটা গাইডলাইন। ফলে সেখানে আইন প্রয়োগের সুযোগ কম। এসওপি প্রয়োগের জন্য যে লিগাল অথরিটি সেটা থাকে না।

“তাই ডিজিটাল কমার্সকে কিভাবে শক্তিশালী করে, টেকনিকাল লোকজন করে একটি সাব কমিটি করে ইমেডিয়েট কিভাবে সমাধান করা যায়, সেটি ভাবছি। টোটাল জিনিসটাকে নিয়ন্ত্রণ নয়, মনিটরিং করব।“

ই-কমার্স খাতে গ্রাহক প্রতারণার বিষয়টি সামনে এলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর এ খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে নতুন আইন প্রণয়ন ও আলাদা নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

সেই আলোকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইআইটি অনুবিভাগের পরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামানকে প্রধান করে ১৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি এখন সাব কমিটি গঠন করল।

বৈঠকে ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার, ব্যারিস্টার তানজীব উল আলমসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।