পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

মুরগির দাম বাড়ছে লাফিয়ে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-10-15 17:00:15 BdST

bdnews24
ছবি- আসিফ মাহমুদ অভি

রাজধানীর বাজারগুলোতে মুরগির দাম বৃদ্ধি অব্যাহত আছে; এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে আরও অন্তত ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮৫ টাকা থেকে ১৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায়; লেয়ার মুরগি ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা।

সোনালি মুরগি ৩৬০ টাকা, পাকিস্তানি কর্ক ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায়।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় মুরগির সরবরাহ অনেক কম, যে কারণে দাম বাড়ছে। কেউ কেউ বলছে, বাচ্চার দাম বাড়ায় খামারিরা মুরগির দাম বাড়িয়েছেন।

তাদের এই দাবির সত্যতা যাচাই করা না গেলেও নগরীর বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে যাওয়া নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজারে গিয়ে তাদের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে পাকিস্তানি কর্ক বা সোনালী মুরগির দাম রাখা হচ্ছে ৩৪০ টাকা। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

কারওয়ান বাজারে পাকিস্তানি কর্ক বা সোনালী মুরগির দাম রাখা হচ্ছে ৩৪০ টাকা। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

শান্তিনগরের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম রনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শুধু মুরগি নয়, বাজারে এমন কোনো জিনিস নেই যে দাম বাড়েনি। বাসায় মেহমান এসেছে, মুরগি ছাড়া তো উপায় নেই।

“দাম এতো বেশি যে প্রয়োজন থাকা সত্বেও অল্প পরিমাণ মুরগি কিনেছি।”

আড়তদারদের কাছ থেকে এখন তাৎক্ষণিকভাবে মুরগি কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান রামপুরা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আব্দুল আলিম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মুরগি আনতে হলে এখন আগের দিন ফোনে অর্ডার করে রাখতে হয়। প্রতিদিনই দাম বাড়ছে।”

এক সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে বলে জানান কাপ্তান বাজারের পাইকার শাহিনুর হেন্স হাউজের মালিক ওমর ফারুক।

তিনি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সোনালী মুরগি ৩১০ টাকা থেকে ৩৩০ টাকায়, ব্রয়লার ২৭০ টাকা থেকে ২৭৫ টাকা, লেয়ার লাল ২১০ থেকে ২২০ টাকা, লেয়ার প্যারেন্টস ২৫০ টাকায় বিক্রি করছেন বলে জানালেন।

হাতিপুল বাজারে প্রতি কেজি লেয়ার মুরগির দাম ২৫০ টাকা। আর কারওয়ান বাজারে রাখা হচ্ছে ২৪০ টাকা। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

হাতিপুল বাজারে প্রতি কেজি লেয়ার মুরগির দাম ২৫০ টাকা। আর কারওয়ান বাজারে রাখা হচ্ছে ২৪০ টাকা। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

মুরগির দাম বাড়ার পেছনে বাচ্চা উৎপাদনকারী ‘বড় কোম্পানিগুলোর সিকিন্ডকেট’ দায়ী বলে মনে করেন ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, তারা মুরগির বাচ্চার দাম বাড়িয়েছে। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ের খামারিদের ব্যয় বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে।

তেজগাঁওয়ের সাদেক খান এন্টারপ্রাইজের হাঁস-মুরগির আড়ৎদার অদুদ মিয়া বলেন, “একদিকে বাজারে চাহিদা বেশি, অপরদিকে সরবরাহ কম। যে কারণে দাম বাড়ছে। তবে বাজারে যদি শাকসবজি বেশি পরিমাণে থাকতো তাহলে মুরগির দামটা এতো বেশি হত না।”

বড়দানার ভারতীয় মশুর ডাল ১০০ টাকা এবং মাঝারি দানার মশুর ডাল ১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

তারা জানান, এক সপ্তাহের মশুর ডালের দাম কেজিতে অন্তত পাঁচ টাকা বেড়েছে।  

তুরস্ক, মিয়ানমার ও মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে; ফলে দাম কমায় কিছুটা উদ্বিগ্ন ঢাকার কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতারা। ছবি: কাজী সালাহউদ্দিন রাজু

তুরস্ক, মিয়ানমার ও মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে; ফলে দাম কমায় কিছুটা উদ্বিগ্ন ঢাকার কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতারা। ছবি: কাজী সালাহউদ্দিন রাজু

বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার পেঁয়াজের আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণার পরের দিন শুক্রবার বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহ আগে পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। কাঁচামরিচের কেজি ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বাজারে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে বলে কাঁচামরিচের দাম কমছে বলে জানান তারা।