পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

ব্যাংকারদের ন্যূনতম বেতন বাস্তবায়নে সময় চায় মালিকরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2022-01-26 19:38:29 BdST

bdnews24

বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আরও সময় চেয়েছেন মালিকরা।

ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (বিএবি) এবং এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রতিনিধিরা বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ উনারা এসেছিলেন বেতন নিয়ে আলোচনা করতে। সেখানে কিছু বিষয় নিয়ে তারা অভিযোগ করেন, আমরা বিষয়গুলো তাদের সামনে খতিয়ে দেখে বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দিয়েছি।

“এছাড়া তারা আমাদের কাছে এই নিয়ম বাস্তবায়নে সময় চেয়েছেন। আমরা বলেছি এই বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করে দেখব।”

গভর্নর ফজলে কবির ছাড়াও ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালকরা এবং বিএবি ও এবিবির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২০ জানুয়ারি বেসরকারি ব্যাংকের নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করে নির্দেশনা জারি করে।

সেখানে বলা হয়, কর্মকর্তাদের শিক্ষানবিশকালে সর্বনিম্ন বেতন-ভাতা হবে ২৮ হাজার টাকা। আর শিক্ষানবিশকাল শেষ হলে মোট বেতন হবে ৩৯ হাজার টাকা। ব্যাংকের অফিস সহায়কদের সর্বনিম্ন বেতন হবে ২৪ হাজার টাকা।

এই নির্দেশনা আগামী ১ মার্চ থেকে বাস্তবায়ন করতে বলা হয় ব্যাংকগুলোকে।

বুধবারের বৈঠকের পর বিএবির ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ১ মার্চ থেকে ওই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা তাদের জন্য কঠিন হবে, সে কথা তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানিয়েছেন।

“আমরা আজকে বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়েছি, আলোচনা করেছি। আমরা বলেছি এটা বাস্তবায়ন করার আগে আরো আলোচনা দরকার। আমরা সেখানে বলেছি হঠাত্ করে এভাবে বেতন বাড়ালে ব্যাংকের কী ক্ষতি হতে পারে আবার মানুষের কী উপকার হতে পারে।”

বিএবির প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন।

ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম আর এফ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বলেছি, যে আমরা চাই ভালো বেতন পাক। আমাদের চেষ্টা সব সময় থাকে।

“আমরা আরো বলেছি যে আমরা ব্যাংকগুলো একটি স্বচ্ছ কর্মক্ষমতা যাচাই ব্যবস্থা গড়ে তুলব, যাতে সবার কর্মক্ষমতা স্বচ্ছভাবে যাচাই কারা যায়।”

এবিবির প্রতিনিধি দলে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার রাশেদ মাকসুদও ছিলেন।

এদিকে আগের সার্কুলারের বিষয়ে গণমাধ্যমে আসা তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে বুধবার আরেকটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সেখানে বলা হয়েছে, ব্যাংক কর্মচারীদের অদক্ষতার কারণে চাকুরিচ্যুত করা যাবে না কিংবা অদক্ষদের পদোন্নতি দিতে হবে- এ ধরনের নির্দেশনা আগের সার্কুলারের কোথাও বলা হয়নি।

“অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিষয়াবলী সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ না করে কোনো কোনো পর্যায় থেকে খণ্ডিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক ব্যাখ্যা প্রদান করায় ব্যাংক কর্তৃক উক্ত সার্কুলারের নির্দেশনা পরিপালনে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, যা কাম্য নয়।”

আগের সার্কুলারে বলা হয়েছিল, “শুধুমাত্র নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারা বা অদক্ষতার অজুহাতে ব্যাংক-কোম্পানির কর্মকর্তাগণকে প্রাপ্য পদোন্নতি হতে বঞ্চিত করা যাবে না। অনুরূপ অজুহাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না, অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে চাকরিচ্যুত করা বা পদত্যাগে বাধ্য করা যাবে না।”