পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

নতুন সূচকে যাচ্ছে ডিএসই

  • রিয়াজুল বাশার ও ফারহান ফেরদৌস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2013-01-24 13:22:47 BdST

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক পরিমাপ পদ্ধতি আগামী সোমবার থেকে বদলে যাচ্ছে।

বর্তমান ডিএসই সূচক ভুলভাবে গণনা হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত জানানোর পর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা তা পরিবর্তনের কথা বলে আসছিলেন।

বৃহস্পতিবার ডিএসই পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সোমবার থেকে নতুন পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সোমবার থেকে দুধরনের সূচক থাকবে ডিএসইতে। এর একটি হবে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত সূচক, যার নাম হবে ডিএসইএক্স।

আর অন্যটি হবে বাছাই করা ৩০টি কোম্পানির সমন্বয়ে সূচক, যার নাম হবে ডিএস৩০।

ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সঠিক পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মানের সূচক চালু হতে যাচ্ছে ডিএসইতে। এটি হবে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও আস্থাপূর্ণ সূচক।”

ডিএসইতে বর্তমানে তিন ধরনের সূচক চালু রয়েছে। এগুলো হলো- ডিএসই সাধারণ সূচক (ডিজিইএন), সব শেয়ার সূচক (ডিএসআই) এবং বাছাই শেয়ার সূচক (ডিএস২০)।

এই পদ্ধতিতে সূচক ভুলভাবে গণনা হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত জানালে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে লেনদেনযোগ্য শেয়ারের (ফ্রি ফ্লোট) ভিত্তিতে সূচক গণনার সিদ্ধান্ত নেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসইসি।

এরপর শুধু ফ্রি ফ্লোটের হিসাব ধরে সঠিকভাবে সূচক গণনার পদ্ধতি ঠিক করতে গত অগাস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর (এসঅ্যান্ডপি) এর সঙ্গে চুক্তি করে ডিএসই।

গত ডিসেম্বরের শুরু থেকেই ডিএসইতে এসঅ্যান্ডপি প্রণীত পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চালানো শুরু হয়।

তবে নতুন সূচক ডিএসইএক্স কোন ভিত্তি থেকে চালু হবে, তা অবশ্য ডিএসইর পক্ষ থেকে এদিন জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আশা করছি রোববার বিএসইসির একটা সিদ্ধান্ত পাব।”

তবে ডিএসইর একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বর্তমান সূচকের সঙ্গে ব্যবধান যেন বেশি না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই ভিত্তি ধরা হচ্ছে।

“আর ডিএস৩০ এর ভিত্তি হবে এক হাজার পয়েন্ট।”

এর আগে ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে ডিএসআই শুরু হয়েছিল ৩৫০ ভিত্তি থেকে, ২০০১ সালের নভেম্বরে ডিজিইএন ৮১৭ পয়েন্ট এবং ২০০১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিএস২০ শুরু হয়েছিল ১০০০ ভিত্তি থেকে।

নতুনভাবে তৈরি করা ডিএস৩০ তে স্থান পাওয়া কোম্পানিগুলো হলো- স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, তিতাস গ্যাস, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, ইউনাইডেট কমার্সিয়াল ব্যাংক, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

সামিট পাওয়ার, ইউনাইটেড ওয়ারওয়েজ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, যমুনা অয়েল, বিএসআরএম স্টিলস, পদ্মা অয়েল কোম্পানি, পাওয়ার গ্রিড, আরএন স্পিনিং, ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, আফতাব অটোমোবাইলস, স্কয়ার টেক্সটাইল, খুলনা পাওয়ার, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, এমজেএল, পিপলস্ লিজিং ও কেয়া কসমেটিক্স লিমিটেড।

এদিকে দেশের অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সিএসই৩০ ইনডেক্স পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে রোববার থেকে।

নতুন সূচকের কোম্পানিগুলো হল- স্কয়ার টেক্সটাইল, অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালস , বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস্, কেয়া কসমেটিকস্, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট,  কনফিডেন্স সিমেন্ট, আফতাব অটোমোবাইলস, সিংগার বাংলাদেশ, এপেক্স টেনারি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল, তিতাস গ্যাস, উত্তরা ব্যাংক।

ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ইর্স্টার্ন ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, উত্তরা ফাইন্যান্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, বে লিজিং, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো লিমিটেড, জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ।

আগের ৩০ ইনডেক্স থেকে আটটি কোম্পানি বাদ পড়েছে। এগুলো হলো- এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, নাভানা সিএনজি, সামিট এ্যালাইন্সপোর্ট, আইএফআইসি ব্যাংক, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, পিপলস্ লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল।