করোনাভাইরাসের জিন বিন্যাস উন্মোচন এনআইবি গবেষকদের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-20 01:00:56 BdST

নতুন করোনাভাইরাসের জিন বিন্যাস উন্মোচনের দাবি করেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির (এনআইবি) গবেষকরা।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক মো. সলিমুল্লাহ বিস্তারিত তুলে ধরেন বলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সলিমুল্লাহ বলেন, “এনআইবির উন্মোচিত জিনোম সিকোয়েন্স গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড মেথড ‘স্যাঙ্গার ডিডিঅক্সি মেথডে’ করা।এ পদ্ধতিতে নির্ণিত জিনোম সিকোয়েন্স প্রায় শতভাগ নির্ভুল।”

জিনোম হলো প্রাণী বা উদ্ভিদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের বিন্যাস বা নকশা। কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদের জিনোমে নিউক্লিওটাইডগুলো কীভাবে বিন্যস্ত আছে তার লিপিবদ্ধ করাকে বলে জিনোম সিকোয়েন্সিং। এই নকশার ওপরই নির্ভর করে ওই প্রাণি বা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য।

এর আগে নতুন করোনাভাইরাসের (সার্স সিওভি-২) জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করেন বাংলাদেশের চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) গবেষকরা।

বিশ্বে মহামারী বাঁধিয়ে দেওয়া এই ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের ফলে এর গতি-প্রকৃতি ও ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে, যা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা বা ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে সুফল দেবে।

যে কোনো জীবের জীনগত বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে তার ডিএনএ কিংবা আরএনএ। মানুষের ক্ষেত্রে ডিএনএ এর নির্ধারক হলেও করোনাভাইরাসের মতো জীবাণুর ক্ষেত্রে এর নির্ধারক আরএনএ।

আরএনএ সাধারণভাবেই ডিএনএর তুলনায় পরিবর্তনপ্রবণ বলে করোনাভাইরাস বিভিন্ন স্থানে সংক্রমণের ক্ষেত্রে তার রূপ বদলাচ্ছে। ফলে তার ধরন বোঝাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

সলিমুল্লাহ বলেন, “আমরা মাত্র ১টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স সম্পন্ন করতে পেরেছি। আরও ৭ টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স নির্ণয়ের কাজ প্রক্রিয়াধীন।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাগারে অনুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা নতুন করোনাভাইরাস

যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাগারে অনুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা নতুন করোনাভাইরাস

“প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে প্রতীয়মান হয়েছে যে এনআইবি’র সিকোয়েন্সকৃত জিনোম ইউএসএ, স্পেন ও ইতালির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এনআইবিতে প্রাপ্ত সিকোয়েন্সে কিছু পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে এবং অধিকতর এনালাইসিসের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।”

মহাপরিচালক মো. সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে এ গবেষক দলে কাজ করেছেন এনআইবির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কেশব চন্দ্র দাস, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, মো. হাদিসুর রহমান, ইরফান আহমেদ, মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন, নজরুল ইসলাম, তাহিয়া আনান রহমান।

এছাড়া চিকিৎসক রুহুল আমিন ও আসিফ  রাশেদ এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. চমন আরা কেয়া ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অরিত্র ভট্টাচার্য গবেষক দলে কাজ করেছেন।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সারা বিশ্বে এখন নেক্সট জেনারেশন মেশিনের মাধ্যমে সিকোয়েন্সিংয় করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের কাছে সে মেশিন নেই। তাই আমরা আগের স্বীকৃত পদ্ধতি স্যাঙ্গার ডিডিঅক্সিতেই নমুনা পরীক্ষা করেছি।”

এই গবেষণায় বায়োমেডিকেল অ্যান্ড মেডিকেল বায়োটেকনোলজি বিভাগ, মাতুয়াইল শিশু মাতৃসদন হাসপাতাল নমুনা দিয়ে সহায়তা করেছে বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি বলেন, ভাইরাসের গঠনের উপর ভিত্তি করে তারা সম্ভাব্য কয়েকটি প্রতিষেধকের মডেল তৈরি করেন, যা প্রকাশনার জন্য বিশ্বখ্যাত জার্নাল ‘নেচার’ এ রিভিউ পর্যায়ে আছে। 

এদিকে বাংলাদেশে সংক্রমিত নতুন করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিংসহ আক্রান্তদের এক্সোম (মোট জিনের সমন্বয়) সিকোয়েন্সিংয়ের বিস্তৃত গবেষণা শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকরা।

প্রাথমিক পর্যায়ে সংগ্রহ করা নমুনা থেকে প্রায় ১০০টি ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচনের কাজ শুরু করেছেন তারা।