পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

করোনাভাইরাস: বিপর্যস্ত সপ্তাহের শেষ দিনে সর্বনিম্ন রোগী শনাক্ত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-07-17 21:40:24 BdST

bdnews24
লকডাউন শিথিলের পর শুক্রবার সকালে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে পদ্মা নদী পার হতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল। এভাবে গাদাগাদি ভ্রমণ সংক্রমণ বাড়িয়ে তুলবে বলে বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা।

দেশে মহামারী আকারে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও শনাক্ত রোগী দেখেছে দেশ।

তবে সপ্তাহের শেষ দিন শনিবার শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নেমে এসেছে অনেকটা। এদিন ৮ হাজার ৪৮৯ জন রোগীর দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যা গত দুই সপ্তাহে সর্বনিম্ন।

এর আগে গত ৩ জুলাই ৬ হাজার ২১৪ রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

তারপর দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে গত পাঁচ দিন ধরে তা ১২ হাজারের উপরে ছিল। এর মধ্যে দৈনিক ১৩ হাজার ৭৬৮ রোগী শনাক্তের রেকর্ডও হয়।

আবার গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষাও নেমে এসেছে ৩০ হাজারের নিচে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় ২৯ হাজার ২১৪ টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।

এর আগেরদিন শুক্রবার ৪১ হাজার ৯৪৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সে হিসাবে একদিনে সাড়ে ১২ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা কমেছে।

নমুনা পরীক্ষা কমে যাওয়ার মধ্যে শনাক্তের হার বেড়ে আবার ২৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। শুক্রবার তা ছিল ২৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ, বৃহস্পতিবার ছিল ২৭ দশমিক ২৩ শতাংশ।

৪-১০ জুলাই থেকে ১১-১৭ জুলাইয়ের তুলনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এক সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ; তাতে শনাক্তের হার বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।

মৃত্যুর হার প্রায় ১৬ শতাংশ বাড়ার সঙ্গে সুস্থতার হারও বেড়েছে ৪১ শতাংশ।

কোভিড: সংক্রমণের চক্র ভাঙবে কেমন করে  

মহামারীর সর্বশেষ সপ্তাহের প্রথম ছয় দিনই (১১-১৬ জুলাই) ৪০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়।

সপ্তাহের প্রথম দিন ১১ জুলাই প্রথমবার নমুনা পরীক্ষা ৪০ হাজার ছাড়ায়। এদিন ৪০ হাজার ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরপর গত ১৫ জুলাই সর্বোচ্চ ৪৪ হাজার ৯৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

গত ১১ জুলাই ৪০ হাজার ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১ হাজার ৮৭৪ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।

এরপর ১২ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই  প্রতিদিন দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি ছিল। এর মধ্যে ১২ জুলাই ৪৪ হাজার ৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৭৬৮ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীকে শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীকে শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের স্থানীয় সংক্রমণে মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন জারি করেছিল সরকার।

তবে ১৪ দিন বাদে কোরবানির ঈদের জন্য বিধি-নিষেধ প্রায় তুলে নেওয়া হয়েছে। এরপর রোগী শনাক্তও কমতে দেখা যাচ্ছে।

লকডাউন তুলে নেওয়ায় ‘ঝুঁকি বাড়ল’  

গত ৬ জুলাই দেশে শনাক্তের হার ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। সেদিন দেশে ৩১ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়। ১২ জুলাই পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩১ শতাংশ বা তার বেশি ছিল। ১৩ জুলাইয়ের পর তা নেমে আসে ২৯ শতাংশ বা তার নিচে।

ঢাকার রায়েরবাজার কবরস্থানে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত একজননের দাফনের পরে মোনাজাতে স্বজনেরা। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

ঢাকার রায়েরবাজার কবরস্থানে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত একজননের দাফনের পরে মোনাজাতে স্বজনেরা। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

গত সপ্তাহের ছয়দিনই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২০০ এর বেশি। এর মধ্যে ১১ জুলাই দেশে সর্বোচ্চ ২৩০ জন রোগীর মৃত্যু হয় করোনাভাইরাসে।

শুক্রবার দৈনিক মৃত্যু নেমে আসে ১৮৭ জনে। তবে শনিবার আবার ২০৪ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর মহামারীর ২৭তম সপ্তাহে (৪-১০ জুলাই) সারা দেশে নমুনা পরীক্ষা হয় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭১টি।

এই সময়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা মোট ৭৩ হাজার ৫৯ জন, আর মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৭৭ জনের।

পরে ২৮তম সপ্তাহে অর্থাৎ, ১১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত মোট দুই লাখ ৮৪ হাজার ৪২৯টি নমুনা পরীক্ষা করে মোট ৮৩ হাজার ৯৬ জন রোগী শনাক্ত করা হয়। এ সময়ে সারাদেশে মারা গেছে মোট ১ হাজার ৪৮০ জন।

এই হিসাব অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে শনাক্তের হার বেড়েছে ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার বেড়েছে ১৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।