পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

‘শেষের আগেই যেন শেষ’ লকডাউন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-08-09 14:00:12 BdST

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টায় কঠোর লকডাউনের বিধিনিষেধ আর একদিন বাদেই থাকছে না। আগামী বুধবার থেকে প্রায় সবকিছুই স্বাভাবিক হওয়ার কথা।

কিন্তু তার আগেই রাজধানীর রাজপথে দেখা মিলছে চিরচেনা যানজটের। অবশ্য মানুষ-যান চলাচল বেড়েছিল বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই।  

ঢিলেঢালা লকডাউনের মধ্যে সোমবার রাজধানীর রাস্তায় প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, পণ্যবাহী গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি রিকশা-ভ্যান, মোটর সাইকেল দেদার চলেছে।

যাত্রীবাহী বাসের বাইরে অন্য প্রায় সব যানবাহন চলাচল বিভিন্ন মোড়ে মাঝেমধ্যেই সৃষ্টি করেছে যানজটের। কোথাও কোথাও পুলিশের তল্লাশি চৌকি থাকলেও তাতে কড়াকড়ি নেই।

কমলাপুরের বাসিন্দা জনাব আলী বলেন, “গত তিন দিন যাবত যেভাবে রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া নেমেছে তাতে লকডাউন বলে যে একটা বিধিনিষেধ চলছে তা বোঝার উপায় নেই।

”আগে তো দেখতাম পুলিশের কড়াকড়ি। সেটাও এখন আর সেই। দেখবেন চেক পোস্টগুলোতে পুলিশ সদস্যদেরও দেখা যায় না। তারা পুলিশ বক্সে বসে থাকেন।”

রিকশাচালক মনু মিয়ার রামপুরা থেকে যাত্রী নিয়ে মতিঝিলে যেতে সময় লেগেছে পাক্কা এক ঘণ্টা।

“এখন রাস্তায় গাড়ি বেশি। মোড়ে মোড়ে আবার ট্রাফিক সিগন্যালে বসে থাকতে হয়। চারদিন আগেও রাস্তার এই রকম অবস্থা ছিল না। হের থেইক্কা লকডাউন আমাগো জন্য ভালো ছিল। এইডা শেষ মানে আমাগো কপালও মন্দ। আগে যাত্রী পাইতাম না, এখন যাত্রী পাইলেও শান্তি নাই যানজটের কারণে,” বলেন মনু মিয়া।

শাহজাহানপুর মোড়ে যানজটে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী রিফাত রহমান বলেন, “আজকে বেশি জ্যাম। আমি বাড্ডা থেকে আসছি স্ত্রীকে নিয়ে। মতিঝিলে যাব ব্যাংকে। কিন্তু যে অবস্থা দেখছি এমন গত কয়েকদিনে দেখিনি।“

যানজট নিয়ন্ত্রণে মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক সদস্যদেরকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। একদিকে সিগনাল দিলেই অন্যদিকে গাড়ির জটলা লেগে যাচ্ছে।

পুরান ঢাকার আজিমপুর, লালবাগ, পলাশী, চকবাজার, মিটফোর্ড রোড এলাকার চিত্রও প্রায় একই রকম দেখা গেছে।

আর লন্ড্রি, সেলুন, আসবাবপত্রের দোকান, ছাতার দোকানসহ জরুরি প্রয়োজনের বাইরের অনেক দোকানও খুলে গেছে ইতোমধ্যে।

মিরপুরের রূপনগর, পল্লবী, আরামবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের দোকানপাট খুলে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রাস্তার পাশে ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন ফল বিক্রেতা, হাঁক ডেকে বিক্রি করছেন ইঁদুর, তেলাপোকা মারার ও পুরনো ব্যথার ওষুধ। সবমিলে একদম স্বাভাবিক সময়ের মতো হয়ে গেছে এই এলাকার পরিবেশ।

নিত্যপণ্যের দোকান ও হোটেল রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য দোকানের পুরো শার্টার খুলে দিয়ে বেচাকেনা চলছে। রূপনগরের একটি সড়কে দেখা যায়, শুধু ট্রান্সটেকের একটি শো-রুম ছাড়া প্রায় সব দোকানপাট খুলে গেছে।

রূপনগরের বাসিন্দা আলফাজ আহমেদ বলেন, “সাধারণ মানুষের চলাফেরা প্রায় স্বাভাবিক হয়ে গেছে। প্রধান সড়কে শুধু গণপরিবহন ছাড়া অন্য সব গাড়ি চলছে। বোঝাই যাচ্ছে না দেশে লকডাউন আছে।”

কাটাবনের অনেক মার্কেট সকালে খুলেছে। পাশাপাশি নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট এলাকার মার্কেটগুলোতেও বুধবার থেকে খোলার প্রস্তুতি চলছে।

ফার্মগেট, বিজয় সরণি, চন্দ্রিমা উদ্যান ও মহাখালী এলাকাও যানজটের দেখা মিলেছে।

তেজগাঁওয়ের একটি চেকপোস্টে পুলিশের তেমন কড়াকড়ি দেখা যায়নি। সড়কে ব্যারিকেড ফেলে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করলেও দুয়েকটি বাদে বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে দেখা যায়নি।