পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

ঢাকা ও রাঙামাটি করোনাভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকিতে

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2022-01-12 13:23:16 BdST

bdnews24
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে, ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শনিবার কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা করাতে আসা মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

রাজধানী ঢাকা ও পার্বত্য জেলা রাঙামাটিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; মাঝারি মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সীমান্তবর্তী ছয় জেলা।

সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় সারাদেশকে লাল, হলুদ ও সবুজ- এই তিন ভাগে ভাগ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। লাল রঙকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, হলুদকে মধ্যম এবং সবুজ কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, উচ্চ ঝুঁকির এলাকা ঢাকা ও রাঙামাটি জেলায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১০ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশের মধ্যে।

ইয়েলো জোন অর্থাৎ মধ্যম মাত্রার ঝুঁকিতে থাকা রাজশাহী, রংপুর, নাটোর, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, যশোরে শনাক্তের হার এখন ৫ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে।

আর সংক্রমণের হার শূন্য থেকে চার শতাংশের মধ্যে রয়েছে এমন ৫৪টি জেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে সবুজ রঙে।

এই জেলাগুলো হল- চট্টগ্রাম, বগুড়া, গাজীপুর, কক্সবাজার, কুষ্টিয়া, নীলফামারী, বরগুনা, শেরপুর, মেহেরপুর, ঠাকুরগাঁও, ফেনী, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, পিরোজপুর, বাগেরহাট, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ, ঝালকাঠি, খুলনা, পটুয়াখালী, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, ফরিদপুর, বরিশাল, চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ময়মনসিংহ, রাজবাড়ী, সিলেট, সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, গাইবান্ধা, শরীয়তপুর, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, খাগড়াছড়ি, ঝিনাইদহ, পাবনা, মাদারীপুর, মাগুরা, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা, নেত্রকোণা, ভোলা, টাঙ্গাইল, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং নড়াইল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে ঢাকা জেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ মধ্যম থেকে উচ্চ ঝুঁকির পর্যায়ে রয়েছে। রাঙামাটি জেলা গত সপ্তাহে কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকায় থাকলেও এ সপ্তাহে তা উচ্চ ঝুঁকিতে পড়েছে।

কম ঝুঁকি থেকে মধ্যম ঝুঁকির তালিকায় এসেছে রাজশাহী, রংপুর, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, যশোর। নাটোর জেলা গত সপ্তাহ থেকেই মধ্যম ঝুঁকিতে ছিল, এ সপ্তাহে অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক সপ্তাহে ঢাকা জেলায় ৪৩ হাজার ১৬২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫ হাজার ৫৬৯ জনের করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে, যা শতকরা ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। এর আগের সপ্তাহে ঢাকা জেলায় শনাক্তের হার ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ ছিল।

রাঙামাটি জেলায় ২০০টি নমুনা পরীক্ষা করে ২০ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এ সপ্তাহে। এই জেলায় শনাক্তের হার এখন ১০ শতাংশ, যা আগের সপ্তাহে ১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছিল।

 

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২ হাজার ৪৫৮ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যা ৯ সেপ্টেম্বরের পর সবচেয়ে বেশি।

আর সারা দেশে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার পৌঁছেছে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশে, যা ৮ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ।  

করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটের সময় গতবছর জুলাই-অগাস্ট সময়ে দৈনিক শনাক্তের হার ৩০ শতাংশও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এরপর তা নামতে নামতে জুলাই মাসে ২ শতাংশের নিচে চলে আসে।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু এরমধ্যেই বিশ্বে শুরু হয় ওমিক্রনের ত্রাস। ৩ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্তের হার ৩ শতাংশ এবং ৬ জানুয়ারি তা ৫ শতাংশ ছাড়ায়।

সরকারি হিসেবে দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ৩৮৯ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ১০৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এ ভাইরাস।