পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

জাকিরের ব্যাটে গাজীকে হারাল প্রাইম ব্যাংক

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2017-05-21 18:22:04 BdST

আগের ম্যাচে বিধ্বস্ত হওয়া গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স হেরেছে আবার। ব্যাটিং ব্যর্থতায় লড়াইয়ের পুঁজি না পাওয়া দলটিকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।

প্রথম নয় ম্যাচে জেতা গাজী টানা দুই পরাজয়ের পরও ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। অষ্টম জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে রয়েছে প্রাইম ব্যাংক। রান রেটে দলটি আবাহনী ও প্রাইম দোলেশ্বরের পিছনে পড়েছে।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শেষ বলে ২১৪ রানে অলআউট হয়ে যায় গাজী। জবাবে ৪৬ ওভার ৫ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় প্রাইম ব্যাংক।

লক্ষ্য তাড়ায় স্বভাববিরুদ্ধ ৩৭ বলে ১৬ রানের ইনিংস খেলে ফিরেন অধিনায়ক মেহেদী মারুফ। অভিমান্যু ঈশ্বরণকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন জাকির হাসান। ৫০ ওভার কিপিংয়ের পর ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে ঝকঝকে এক অর্ধশতক করা এই তরুণ ফিরেন তীব্র গরমে টিকতে না পেরে। ৭৯ বলে ৫টি চার ও তিনটি ছক্কায় ৬৬ রানের ইনিংসে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

দলীয় ১৩০ রানে জাকির মাঠ ছাড়ার পর বেশিক্ষণ টিকেননি ঈশ্বরণ। ৬৬ বলে তিনটি চারে ফিরেন ৫২ রান করে। দুই নতুন ব্যাটসম্যানকে চেপে ধরার চেষ্টা করে গাজী। তবে ঠাণ্ডা মাথায় তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন আল আমিন জুনিয়র ও তাইবুর রহমান।

দুই জনে গড়েন ৬৪ রানের চমৎকার এক জুটি। ৩৩ রান করে তাইবুরের বিদায়ের পর তরুণ সালমান হোসেনকে নিয়ে বাকিটা শেষ করেন আল আমিন। ৪৬ বলে চারটি চারে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

এর আগে ৩ রানের মধ্যে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে শুরুতেই বিপদে পড়ে গাজী। জহুরুল ইসলামের সঙ্গে ১৪৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান জহুরুল ইসলাম।

৩৩তম ওভারে এক পর্যায়ে গাজীর স্কোর ছিল ১৫২/২। জোড়া আঘাতে মুমিনুল ও পারভেস রসুলকে বিদায় করে খেলার চিত্রটা পাল্টে দেন নাজমুল ইসলাম।

১০৬ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ৭৯ রান করে ফিরেন মুমিনুল। রানের খাতাই খুলতে পারেননি ভারতীয় অলরাউন্ডার রসুল। সেই ওভারটি শেষ হতেই মাঠ ছাড়েন জহুরুল। ৮৪ বলে ৬৬ রান করা এই ব্যাটসম্যান আর মাঠে নামতে পারেননি।

দুই থিতু ব্যাটসম্যানের সঙ্গে রসুলকে হারানো গাজীকে দুইশ রানের কাছে নিয়ে যান নাদিফ চৌধুরী ও সোহরাওয়ার্দী শুভ। এক সময়ে দলের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১৯৮ রান, সেখান থেকে ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ২১৪ রানে।

গাজীর শেষ চার ব্যাটসম্যানের কেউ দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। নাদিফ, শুভ নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি।

৪৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে প্রাইম ব্যাংকের সেরা বোলার নাজমুল। দুটি করে উইকেট নেন আল আমিন ও তাইবুর।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স: ৫০ ওভারে ২১৪/৯ (এনামুল ১, মেহেদী ২, মুমিনুল ৭৯, জহুরুল ৬৬ আহত অনুপস্থিত, রসুল ০, নাদিফ ২৬, শুভ ১৫, আলাউদ্দিন ৮, ফারুক ০, হায়দার ০, হোসেন আলী ০; আল আমিন ২/২০, নাজমুল ৩/৪৫, আসিফ ১/৩০, রায়হান ০/২৭, আল আমিন জুনিয়র ০/৩২, আরিফুল ০/২০, সালমান ০/১৬, তাইবুর ২/২২)

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব: ৪৬.৫ ওভারে ২১৮/৩ (মারুফ ১৬, জাকির ৬৬ আহত অবসর, ঈশ্বরণ ৫২, আল আমিন জুনিয়র ৪১*, তাইবুর ৩৩, সালমান ১; মেহেদী ০/৩১, হায়দার ০/৪৬, হোসেন আলী ১/২৮, রসুল ১/৪৪, শুভ ০/৩৫, মুমিনুল ১/৩৪)

ফল: প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: জাকির হাসান