শামসুরের সেঞ্চুরি, রকিবুল-বাটের ব্যাটে ঝড়

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2018-02-15 18:03:38 BdST

bdnews24
শামসুর রহমান

আগের দুই ম্যাচে হারতে হয়েছে ব্যাটসম্যানরা জ্বলে উঠতে না পারায়। এদিনও লক্ষ্য ছিল কঠিন। তবে এবার সেই চ্যালেঞ্জ জিতল মোহামেডান। ওপেনিংয়ে কার্যকর ইনিংস খেললেন সালমাট বাট, মিডল অর্ডারে রকিবুল হাসান। দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরিতে দলকে জিতিয়ে ফিরলেন অধিনায়ক শামসুর রহমান।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। বৃহস্পতিবার শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে হারিয়েছে ৫ উইকেটে।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে শেখ জামালের ২৮৭ রান তাড়ায় মোহামেডান জেতে ১১ বল বাকি থাকতে। তিনে নেমে ১২৪ বলে ১২৩ রানের অপরাজিত ইনিংসে জয়ের নায়ক শামসুর।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা শেখ জামালের শুরুটা হয়েছিল দারুণ। সৈকত আলি ও হাসানুজ্জামান উদ্বোধনী জুটিতে দলকে এনে দেন ৬৪ রান।

মারকুটে হাসানুজ্জামান ৫ চারে ৩৩ রানে করে ফেরেন কাজি অনিকের বলে। ৫ চার ও ২ ছক্কায় সৈকত ৫৩ বলে করেন ৫০।

ভালো শুরুর পরও শেখ জামালের ইনিংস খানিকটা পথ হারায় মিডল অর্ডারে। চারে নেমে ভারতীয় দিগ্বিজয় রাঙ্গি ও পাঁচে নামা ইলিয়াস সানি রান পাননি। তিনে নেমে ৯১ বলে ৬৪ রান করে ফিরে যান রাকিন আহমেদ।

৪০ ওভার শেষে শেখ জামালের রান ছিল ৫ উইকেটে ২০৫। সেখান থেকে তারা তিনশর কাছে যেতে পারে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে। এবারের লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নুরুল ৫৯ বলে ৭৭ রানে হন রান আউট। শেষ দিকে নিয়মিত উইকেট হারালেও নুরুলের সৌজন্যে শেষ ১০ ওভারে শেখ জামাল তোলে ৮২ রান।

মোহামেডান রান তাড়ার শুরুটা ভালো করতে পারেনি। ওপেনিংয়ে জনি তালুকদার ১৮ বল খেলেও রান না করে বোল্ড হয়েছেন সোহাগ গাজীর বলে। দলের রান তখন ৫ ওভারে ১০।

তবে শুরুর সেই জড়তা কেটে যায় এরপরই। দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটি গড়েন সালমান বাট ও শামসুর রহমান। দুজনের ১১৯ রানের জুটি দলকে জোগায় বড় রান তাড়ার সাহস।

১২ চারে বাটের ৭৫ বলে ৮১ রানের ইনিংস দলের ইনিংসে করে গতিময়। এরপর রনি তালুকদার দ্রুত ফিরলেও শামসুর আরেকটি জুটি গড়ে তোলেন রকিবুল হাসানকে নিয়ে।

পাঁচে নেমে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৯ বলে ৬৩ করেন রকিবুল। পঞ্চম উইকেটে শামসুরের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৯২ বলে ১১২ রানের।

রকিবুল ও এনামুলকে এক ওভারে আউট করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল শেখ জামাল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি তারা শামসুরের সঙ্গে। শেষ দিকে দ্রুত তিনটি ছক্কায় ম্যাচ শেষ করে দেন শামসুর। চতুর্থ লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরিতে অপরাজিত থাকেন ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ১২৩ রান করে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শেখ জামাল: ৫০ ওভারে ২৮৭/৯ (সৈকত ৫০, হাসানুজ্জামান ৩৩, রাকিন ৬৪, রাঙ্গি ১৪, ইলিয়াস সানি ৩, নুরুল ৭৭, তানবীর ৮, সোহাগ ৩, জিয়াউর ২, রবিউল ১১*, কাজী কামরুল ২*; তাইজুল ২/৪০, শামসুর ০/২৮, শুভাশিস ২/৬৫, অনিক ১/৭৫, এবাদত ১/৫০, এনামুল ১/২০)।

মোহামেডান: ৪৮.১ ওভারে ২৯০/৫ (জনি ০, বাট ৮১, শামসুর ৮১, রনি ৫, রকিবুল ৬৩, এনামুল ০, শুক্কুর ২*; সোহাগ ১/৪০, রবিউল ২/৫৫, কাজী কামরুল ০/১৬, রাঙ্গি ০/১৭, তানবীর ১/৬০, জিয়াউর ০/৪৮, ইলিয়াস সানি ১/৫৩)।

ফল: মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: শামসুর রহমান


ট্যাগ:  শামসুর  বাংলাদেশ  ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ