১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৫

নেট বোলার থেকে বিপিএলের আলোয় আলিস আল ইসলাম

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-01-11 22:05:37 BdST

bdnews24

প্রথম বিভাগ-দ্বিতীয় বিভাগ পেরিয়ে এখনও প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে খেলার সুযোগ হয়নি আলিস আল ইসলামের। আনকোরা এই অফ স্পিনার হঠাৎ করেই সুযোগ পেয়ে গেলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে বিপিএলে খেলার। তিন বলের মধ্যে দুটি ক্যাচ ছেড়ে যেন মাটির সাথে মিশে যেতে চেয়েছিলেন এই তরুণ। ধংসস্তুপ থেকে জেগে উঠলেন যেন ফিনিক্স পাখির মতো। দারুণ বোলিংয়ে করলেন হ্যাটট্রিক, জায়গা করে নিলের রেকর্ডের পাতায়।

বিপিএলে তৃতীয় বোলার হিসেবে টানা তিন বলে উইকেট নিলেন আলিস। এর আগে প্রথম আসরে দুরন্ত রাজশাহীর হয়ে মোহাম্মদ সামি হ্যাটট্রিক করেছিলেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে। তৃতীয় আসরে বরিশাল বুলসের হয়ে সিলেট সুপার স্টার্সের বিপক্ষে টানা তিন বলে উইকেট নিয়েছিলেন আল আমিন হোসেন।

তাদের চেয়ে একটা জায়গায় এগিয়ে আলিস। প্রথমবারের মতো বিপিএলে খেলতে নেমে হ্যাটট্রিক করলেন এই অফ স্পিনার।

রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ২ রানের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান এই তরুণের। ২৬ রানে ৪ উইকেট নেওয়া আলিস একেবারে অচেনা ছিলেন না মাশরাফি মর্তুজাদের। রংপুর অধিনায়ক জানান, স্থানীয় ক্রিকেটারদের কেউ কেউ চিনতেন এই অফ স্পিনারকে।

সাভারের বলিয়ারপুরের ছেলে আলিস সংবাদ সম্মেলেনে এসে শোনান তার উঠে আসার গল্প।

“আমি ক্রিকেট খেলা শুরু করি কাঠালবাগান গ্রিন ক্রিসেন্ট ক্লাব থেকে। তারপর কয়েক বছর দ্বিতীয় বিভাগে খেলার পর গত মৌসুমে প্রথম বিভাগে খেলি। এবার বিপিএলে সুযোগ পেয়ে গেলাম।”

সুযোগটা এসে যায় ঢাকার নেটে তার বোলিং দলের প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদের নজরে পড়ায়।   

“নেট বোলিং করার সময় সুজন (খালেদ মাহমুদ) স্যার আমাকে দেখেন। দেখে উনার বিশ্বাস হয় যে, আমি ভালো করতে পারব। তারপর আমাকে দলে নেন তিনি। তারপর টিম ম্যানেজমেন্ট, খেলোয়াড়রা আমাকে যথেষ্ট সহায়তা করে। তারপর আমি সেরা একাদশে।”

“গতকাল সন্ধ্যায় জানতে পারি খেলব। স্যার আমাকে ডেকে বলেন, শারীরীক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে। আমি প্রস্তুতই ছিলাম। এতো বড় স্টেডিয়ামে, এতো বড় টুর্নামেন্টে প্রথম খেলা নার্ভাস হওয়ারই কথা। আমি প্রথমে নার্ভাসই ছিলাম, তারপরও ভালো হয়েছে।”

সপ্তম ওভারে বল হাতে নেন আলিস। শুভাগত হোমের করা পরের ওভারে তিন বলের মধ্যে শর্ট ফাইন লেগে ছাড়েন মোহাম্মদ মিঠুনের দুটি ক্যাচ। আলিস জানান, ভীষণ নার্ভাস থাকায় হাতছাড়া হয়েছিল সহজ ক্যাচ।

“বিপিএলে এটা আমার প্রথম ম্যাচ। সত্যি বলতে, এই স্টেডিয়ামেই এটা আমার প্রথম ম্যাচ। আমি আসলে অনেক নার্ভাস ছিলাম। তবে ক্যাচ দুটি ছাড়ার পর সতীর্থরা অনেক সহায়তা করেছে আমাকে। সবাই অনেক সাহস দিয়েছেন। তাতে আমার মনে হয়েছে যে, ভালো জায়গায় যদি বলটা করতে পারি তাহলে ভালো কিছু হতে পারে। আমি শুধু ভালো জায়াগায় বল করতে চেয়েছি।”

সেই চেষ্টায় এলো দারুণ সাফল্য। ২০১৫ সালের পর প্রথম হ্যাটট্রিক দেখলো বিপিএল। শেষ ওভারে ডিফেন্ড করার জন্য ১৪ রান পেয়েছিলেন আলিস। প্রথম দুই বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সমীকরণ সহজ করে ফেলেছিলেন শফিউল ইসলাম। শেষ ৪ বলে প্রয়োজন ছিল ৬ রান। দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ৩ রান দেন আলিস।

“আসলে প্রথম দুটি বল স্টাম্পের বাইরে করেছি। তারপর ভাবলাম স্টাম্পের মধ্যে করি। প্রথম দুই বলে চার হলেও আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, মনে হচ্ছিল পারব।”

খালি চোখেই বোঝা যাচ্ছিল আলিসের বোলিং অ্যাকশনে সমস্যা আছে। ম্যাচ শেষে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে তার বোলিং নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে রংপুর।

কোনো পর্যায়ে বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল কি না এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে যেন একটু থমকে গেলেন আলিস।  

“না, আসলে কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। তবে সবাই আসলে ভাবছিলেন... । না, আসলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি।”

তবে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিসিবির কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস জানান, আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে কমিটি তার বোলিং অ্যাকশনে কোনো ত্রুটি না পাওয়ায় আলিসের খেলতে বাধা নেই।


ট্যাগ:  আলিস  বাংলাদেশ  বিপিএল  ঢাকা ডায়নামাইটস