২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫

রান উৎসবের ম্যাচে দুই নাঈম ও সাব্বিরের সেঞ্চুরি

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-03-11 19:47:38 BdST

bdnews24

দুজনই নাঈম। দেশের ক্রিকেটে একজনের বিচরণ প্রায় ১৫ বছর ধরে। আরেকজনের পথচলা শুরু হয়েছে মাত্র কদিন। মোহাম্মদ নাঈম ও নাঈম ইসলাম, দুই প্রজন্মের দুজন ঝড় তুললেন একই ২২ গজে। রূপগঞ্জ গড়ল রানের পাহাড়। সাব্বির হোসেনের দুর্দান্ত ইনিংসে সেই পাহাড় ছোঁয়ার সম্ভাবনাও জাগাল শাইনপুকুর। তবে পেরে উঠল না শেষ পর্যন্ত।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে রান বন্যার ম্যাচে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে ২৩ রানে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।

বিকেএসপিতে সোমবার দুই নাঈমের সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৫৭ রান তোলে রূপগঞ্জ। সাব্বিরের সেঞ্চুরিতে জবাবটা জুতসই দিচ্ছিল শাইনপুকুর। তবে মাঝে পথ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত করতে পারে তারা ৩৩৪।

ঢাকা লিগের গত আসরে সাড়ে পাঁচশর বেশি রান করলেও সেঞ্চুরি ছিল না মোহাম্মদ নাঈমের। এবার প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংসে ১২২ করেছেন ১০৮ বলে। অভিজ্ঞ নাঈম ইসলাম ১০৮ করেছেন ৯৮ বলে।

এই দুজন জুটি বাঁধার আগেই রূপগঞ্জ আরেকটি দারুণ জুটি পায় শুরুতে। টস হেরে ব্যাটিং পাওয়া দলকে মাত্র ১৭.২ ওভারেই ১৩২ রানের ভিত গড়ে দেন মোহাম্মদ নাঈম ও আজমির আহমেদ।

৪৭ বলে ৪৮ রান করে আজমির আউট হওয়ার পর জুটি বাঁধেন দুই নাঈম। এই জুটিতে আসে ৯৩ রান।

মোহাম্মদ নাঈম ইনিংসটি গড়েছেন প্রায় একই গতিতে। ৪০ বলে ছুঁয়েছিলেন ফিফটি। ঘরোয়া ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে সব সংস্করণ মিলিয়েই প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন ৮১ বলে। ১৯ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনারের ইনিংসে চার ছিল ৮টি, ছক্কা ৬টি।

নাঈম ইসলাম সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ৯৩ বলে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের নবম সেঞ্চুরিতে চার ১১টি, ছক্কা দুটি।

চারে নেমে ভারতীয় অলরাউন্ডার রিশি ধাওয়ান দুটি করে চার ও ছক্কায় ২৩ বলে করেন ৩২। এছাড়া শেষ দিকে কেউ আর সেভাবে রান করতে পারেননি।

তারপরও নাঈমের সৌজন্যে শেষ ১০ ওভারে ৯৬ রান তুলেছে রূপগঞ্জ। স্পর্শ করেছে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তাদের আগের সর্বোচ্চ স্কোর। ২০১৪ সালের নভেম্বরে ওল্ডডিওএইচএস ক্লাবের বিপক্ষেও রূপগঞ্জ করেছিল ঠিক ৩৫৭।

সেই ম্যাচে ২৪৭ রানে জিতেছিল রূপগঞ্জ। এবার তাদেরকে পড়তে হয় কঠিন চ্যালেঞ্জে। বড় রান তাড়ায় ভড়কে না গিয়ে শাইনপুকুর শুরু করে দুর্দান্ত। ভারতীয় উদয় কাউলের সঙ্গে সাব্বিরের উদ্বোধনী জুটি একশ ছুঁয়ে ফেলে দল ১৩ ওভারেই।

জুটিতে বেশি আগ্রাসী ছিলেন সাব্বির। ডানহাতি ওপেনার ২২ বলেই করে ফেলেন ফিফটি। ৩৫ বলে ২৯ রান করে যখন উদয় আউট হলেন, সাব্বিরের রান তখন ৭৩।

তিনে নেমে অধিনায়ক আফিফ হোসেন বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তবে দলের ইনিংস গতিময় ছিল সাব্বিরের ব্যাটে। ২১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেন ৮৬ বলে।

তবে ৮ চার ও ৩ ছক্কার ইনিংসটি থেমে যায় সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পরের বলেই। হোঁচট খায় রূপগঞ্জের রান তাড়া।

তৌহিদ হৃদয় এরপরও চেষ্টা করে গেছেন। মিডল অর্ডারে সঙ্গ পাননি শুভাগত হোম, ধীমান ঘোষদের কাছ থেকে।

ষষ্ঠ উইকেটে সোহরাওয়ার্দী শুভর সঙ্গে হৃদয়ের জুটিতে আবার ম্যাচে ফেরে উত্তেজনা। ৬৩ বলে দুজন যোগ করেন ৮০ রান। ২৮ বলে ৩৪ করে আউট হন শুভ।

শেষ ৬ ওভারে শাইনপুকুরের প্রয়োজন ছিল ৭২ রান। কিন্তু ৮১ বলে ৮৩ করে হৃদয় আউট হয়ে গেলে শেষ হয়ে যায় তাদের সম্ভাবনা। শেষ দিকে সুজন হাওলাদারের ১০ বলে ২২ রানের ইনিংসে কমে হারের ব্যবধান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রূপগঞ্জ: ৫০ ওভারে ৩৫৭/৭ (আজমির ৪৮, মোহাম্মদ নাঈম ১২২, নাঈম ইসলাম ১০৮, থাওয়ান ৩২, আসিফ আহমেদ ১১, জাকের ৯, মুক্তার ১৩, শাহরিয়ার ২*, শহিদ ২*; সুজন ২/৭৫, দেলোয়ার ২/৬৭, শুভাগত ০/৩০, হামিদুল ২/৪৫, আফিফ ০/৩৩, শুভ ০/৪৪, সাব্বির ১/৩৭, টিপু ০/২৬)।

শাইনপুকুর: ৪৯ ওভারে ৩৩৪ (উদয় ২৯, সাব্বির ১০০, আফিফ ১৫, হৃদয় ৮৩, শুভাগত ৫, ধীমান ১৩, শুভ ৩৪, দেলোয়ার ১৮, সুজন ২২, হামিদুল ৩, টিপু ০*; শহিদ ১/৮৬, নাবিল ৩/৫১, ধাওয়ান ১/৬৬, আসিফ হাসান ২/৬৬, মুক্তার ১/৫৯)।

ফল: লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ২৩ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মদ নাঈম


ট্যাগ:  বাংলাদেশ  নাঈম  মোহাম্মদ নাঈম  শাইনপুকুর  ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ  রূপগঞ্জ