২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫

মেহেদি-তৌহিদের ব্যাটে গাজীর জয়

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-03-12 19:36:39 BdST

bdnews24

শক্তিতে দুই দলের তুলনাই চলে না। গাজী গ্রুপ টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট। বিকেএসপি সেখানে উঠতি ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দল। দলের সবার বয়স বিশের নিচে, দু-একজন ছাড়া সবার অভিষেক এই টুর্নামেন্ট দিয়ে। তারপরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বিপাকে ফেলে দিয়েছিল বিকেএসপি। তবে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি। মেহেদি হাসান ও তৌহিদ তারেকের দারুণ দুটি ইনিংসে জিতেছে গাজী গ্রুপ।

প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়া গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বিকেএসপিকে হারিয়েছে ৪ উইকেটে।

ফতুল্লায় মঙ্গলবার ৫০ ওভারে বিকেএসপি তুলেছিল ২৪৯ রান। শুরুটা ভালো করতে না পারলেও গাজী গ্রুপ জিতেছে ৪ বল বাকি থাকতে।

তিনে নেমে মেহেদি করেছেন ৭০ বলে ৭৩। ছয়ে নামা তৌহিদ দলকে জিতিয়ে এনেছেন ৯৩ বলে ৭৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে। শেষ দিকে আবু হায়দারের ক্যামিও ইনিংসটিও ছিল দারুণ গুরুত্বপূর্ণ।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বিকেএসপি প্রথম উইকেট হারায় ৩৫ ওভারের শেষ বলে। তবে রানরেট ছিল বেশ মন্থর।

দুই ওপেনারের ব্যাটে ছিল দুই রকম সুর। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হাসান জয় খেলেছেন দারুণ। আরেক পাশে রাতুল খান গতিই দিতে পারছিলেন না ইনিংসকে। দলের রান একশ ছুঁতেই লেগে যায় ২৭ ওভার।

৮৬ বলে ৩৪ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে রাতুলের চলে যাওয়া অনেকটা স্বস্তিই হয়ে আসে বিকেএসপির জন্য। মাহমুদুল ও তিনে নামা আমিনুলের ব্যাটে সচল হয় রানের চাকা।

৯ চার ও ১ ছক্কায় ৯৩ বলে ৮৬ করে মাহমুদুল আউট হলে ভাঙে এই জুটি। পরের জুটিতে দলকে আরও দ্রুত রান এনে দেন আমিনুল ও শামিম হোসেন।

তবে এই জুটি ভাঙার পর শেষ দিকে পথ হারায় বিকেএসপির ইনিংস। ৩৯ বলে ৪৪ করা শামিমকে ফেরান কামরুল ইসলাম রাব্বি। এক পাশে আমিনুল থাকলেও আরেক পাশ থেকে আসেনি রান।

৯ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ৫ ওভার শুরু করলেও বিকেএসপি তুলতে পারে কেবল ৩১ রান। ৬৯ বলে ৬৩ করে অপরাজিত থাকেন আমিনুল।

ওই রানেও লড়াই ঠিকই করেছে নবীন দলটি। গাজীর দুই অভিজ্ঞ ওপেনার ইমরুল কায়েস ও রনি তালুকদারকে শুরুতেই ফেরান ১৮ বছর বয়সী পেসার মুকিদুল ইসলাম।

তিনে নামা মেহেদির ব্যাটে সেই ধাক্কা সামাল দেয় গাজী গ্রুপ। তৃতীয় উইকেটে শামসুর রহমানের সঙ্গে গড়েন তিনি ৬২ রানের জুটি।

২৩ রান করা শামসুরকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন হাসান মুরাদ। এই বাঁহাতি স্পিনার নিজের পরের ওভারে ফিরিয়ে দেন ভারতীয় অলরাউন্ডার পারভেজ রসুলকেও।

দারুণ কিছুর সম্ভাবনায় বিকেএসপি তখন উজ্জীবিত। কিন্তু তাদের আশাহত করে মেহেদি ও তৌহিদের দারুণ ব্যাটিং।

৭৩ বলে ৭০ রান করা মেহেদিকেও ফেরান মুরাদ। তবে তৌহিদকে থামানো যায়নি। এক পর্যায়ে যখন রান রেটের চাপ বাড়ছে, শামিমের এক ওভারে দুই ছক্কা ও এক চারে চাপ কমান তৌহিদ।

তৌহিদকে দারুণ সঙ্গ দেন আবু হায়দার। এই বাঁহাতি পেসার এ দিন ব্যাট হাতে খেলেন কার্যকর ইনিংস। দুজনের ব্যাটে জিতে যায় গাজী।

টানা দ্বিতীয় ফিফটিতে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন তৌহিদ। দুটি করে চার ও ছক্কায় ২৪ বলে অপরাজিত ৩২ করেন আবু হায়দার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বিকেএসপি: ৫০ ওভারে ২৪৯/৭ (রাতুল ৩৪ (রিটায়ার্ড হার্ট), মাহমুদুল ৮৫, আমিনুল ৬৩*, শামিম ৪৪, আকবর ৩, পারভেজ ১, কাইয়ুম ৩, সুমন ১, মুকিদুল ২; রুয়েল ০/২৮, আব হায়দার ২/৪৬, মেহেদি ০/৪৭, কামরুল রাব্বি ২/৫২, রসুল ০/৩৫, নাসুম ১/৩৫)।

গাজী গ্রুপ: ৪৯.২ ওভারে ২৫২/৬ (রনি ১৫, ইমরুল ৪, মেহেদি ৭০, শামসুর ২৩, রসুল ১, তৌহিদ ৭৬*, শামসুল ১৫, আবু হায়দার ৩২*; মুকিদুল ২/৫৬, আবু নাসের ০/৪৭, সুমন ১/৪১, কাইয়ুম ০/৩৭, মুরাদ ৩/৩২, শামিম ০/৩২)।

ফল: গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ৪ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: তৌহিদ তারেক


ট্যাগ:  বাংলাদেশ  গাজী গ্রুপ  মেহেদি  ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ