সীমায় থেকেই অবদান রেখে যেতে চান মোসাদ্দেক

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক, বার্মিংহাম থেকে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-06-29 20:29:43 BdST

নিজের শক্তি-দুর্বলতা ভালোভাবে জানেন। বোঝেন দলে নিজের ভূমিকা। বাড়তি কিছুর চেষ্টা না করে শুধু সেটুকুতেই নিজের সবটুকু মনোযোগ দিতে চান মোসাদ্দেক হোসেন। নিজের মতো করে অবদান রেখেই হয়ে উঠতে চান দলে অপরিহার্য।

সেই চেষ্টায় বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত যথেষ্টই সফল মোসাদ্দেক। যদিও তার নামের পাশে রান বা উইকেট সংখ্যাগুলো প্রশ্ন তুলতে পারে যথেষ্ট সফল কিনা। তবে দল তাকে যে ভূমিকায় চায়, যেভাবে কাজে লাগিয়েছে, সেখানে তিনি অনেকটাই পূরণ করে চলে চলেছেন দলের চাওয়া। বিশ্বকাপে তাই একাদশে তিনি সুযোগ পাচ্ছেন নিয়মিতই।

অথচ বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার সময় তার জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ছিল অনেকের। তাকে দলে নেওয়াও হয়েছিল মিডল অর্ডার বা লোয়ার মিডল অর্ডারে বিকল্প হিসেবে। কিন্তু আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে সাকিব আল হাসানের চোটের সুযোগে একাদশে জায়গা পেয়ে ম্যাচ জেতানো ইনিংসটি খেলার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বিশ্বকাপেও হয়ে উঠেছেন একাদশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্বকাপের কথা ভেবেই যার নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে ফেরানো হয়েছিল বাংলাদেশ দলে, সেই সাব্বির রহমানকেই একাদশের বাইরে রাখতে বাধ্য হচ্ছে দল।

একাদশের ভাবনায় শুরুতে ছিলেন না, জানতেন মোসাদ্দেকও। তাই অপেক্ষা করছিলেন তিনি সুযোগের।

“আয়ারল্যান্ডে ভালো করেছি। তবে (বিশ্বকাপে আসার পর) আয়ার‍ল্যান্ড নিয়ে আমি চিন্তা করিনি। এখানে যখন আসি, নিয়মিত খেলার মানসিকতা নিয়েই এসেছি। সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। যখন সুযোগ পেয়েছি, চেষ্টা করেছি নিজে যা পারি, সেটাই করার। বাড়তি কিছু করতে চাইনি। সামনে যে ম্যাচগুলি পাব, চেষ্টা করে যাব এভাবেই।”

মানসিকতার কথা বলছিলেন মোসাদ্দেক, দলে তার জায়গা ফিরে পাওয়ার পেছনে বড় অবদান যেটির। বিশ্বকাপের আগে গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ চলার সময়ই ইঙ্গিত পেয়েছিলেন, বিশ্বকাপ দলে থাকতে পারেন। বুঝে নিয়েছিলেন নিজের করণীয়। সেভাবেই গুছিয়ে নিয়েছিলেন নিজের ক্রিকেট।

“বিশ্বকাপে আসার আগে প্রিমিয়ার লিগে সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। মানসিকভাবে ওভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম যেন সহজাত খেলা খেলতে পারি। আমার কাছে দল যা চায়, সেটুকু যেন ভালোভাবে পূরণ করতে পারি। সেটাই চেষ্টা করছি। এর বাইরে কিছু করার চেষ্টা করিনি।”

প্রিমিয়ার লিগে বা ঘরোয়া ক্রিকেটে অবশ্য তিনি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশ দলে খেলতে হচ্ছে সাত নম্বরে, যেখানে রান তুলতে হয় ঝড়ের গতিতে। বোলিংয়েও আছে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা। মোসাদ্দেক জানালেন, এখানেও মানসিক প্রস্তুতি তাকে সাহায্য করেছে সীমার ভেতর থেকেই যতটা সম্ভব আলো ছড়াতে।

“সাতে ব্যাটিং শুধু আমার জন্য নয়, সবার জন্যই চ্যালেঞ্জিং। সময় বেশি থাকে না। দ্রুত মানিয়ে নিয়ে দ্রুত রান তুলতে হয়। আমি চেষ্টা করেছি। ভাবনা ছিল, যখনই উইকেটে যাই, একশর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করব।”

“বোলিংয়ে আমি নিজের ভূমিকা খুব ভালোভাবে জানতাম। হয়তো ৬-৭ ওভার বোলিং পাব, উইকেটের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ রান আটকানো। আমি সেভাবেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। বাড়তি কিছু করতে চাই না। আমি খুশি যে দলের চাওয়া মতো অবদান রাখতে পারছি। চেষ্টা করব সামনে আরও ভালোভাবে করার।”


ট্যাগ:  বাংলাদেশ  মোসাদ্দেক  ক্রিকেট বিশ্বকাপ