১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬

আর্চারের আগুনে বোলিংয়ে পুড়ল অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-08-23 01:07:07 BdST

দিনভর বৃষ্টি ঝরেছে থেমে থেমে। জফরা আর্চারের বোলিংয়ের আগুন তাতে নেভেনি। বৃষ্টির ফাঁকে যখনই খেলা হয়েছে, সময়ের আলোচিত এই ফাস্ট বোলার যেন তোপ দেগেছেন। সঙ্গে অভিজ্ঞ স্টুয়ার্ট ব্রড দেখিয়েছেন সুইংয়ের জাদু। তাতে বিধ্বস্ত অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং। এই দুজনের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে লড়াই করতে পেরেছেন কেবল ডেভিড ওয়ার্নার ও মার্নাস লাবুশেন।

অ্যাশেজের হেডিংলি টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম দুই সেশনে ছিল বৃষ্টির দাপট। শেষ সেশনের শুরুটা ওয়ার্নার-লাবুশেন করেছিলেন দুর্দান্ত। কিন্তু পরে আর্চারের বিধ্বংসী বোলিং গুঁড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং। প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেছে তারা ১৭৯ রানেই।

এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ২ উইকেটে ১৩৬। আর্চারের খুনে বোলিংয়ে শেষ ৮ উইকেট হারিয়েছে তারা ৪৩ রানের মধ্যে।

প্রথম দুই টেস্টে প্রায় ঘুমিয়ে থাকা ওয়ার্নারের ব্যাট জেগে উঠেছে কিছুটা। বাঁহাতি ওপেনার করেছেন ৬১ রান।

এই উইকেটসহ আর্চার নিয়েছেন আরও পাঁচ উইকেট। টেস্ট জগতে বহুল আলোচিত পদার্পণে ৫ উইকেটের স্বাদ পেলেন দ্বিতীয় টেস্টেই। গতিময় ও আগ্রাসী বোলিংয়ে সব মিলিয়ে ৪৫ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট।

জাদুকরী এক ডেলিভারিতে ট্রাভিস হেডকে ফেরানো ব্রড নিয়েছেন দুই উইকেট।

ওয়ার্নারের পর অস্ট্রেলিয়ার আশা হয়ে ছিলেন লাবুশেন। আগের টেস্টে ছিলেন তিনি ‘সুপার সাব।’ স্টিভেন স্মিথের ‘কনকাশন’ বদলি হিসেবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে করেছিলেন ম্যাচ বাঁচানো ফিফটি। এই টেস্টে স্মিথের বিশ্রামই লাবুশেনকে সুযোগ করে দিয়েছে একাদশে। ২৫ বছর বয়সী অলরাউন্ডার আবারও বিপর্যয়ে দাঁড়িয়ে দলকে টেনেছেন ৭৪ রানের ইনিংসে।

ওয়ার্নার ও লাবুশেনের জুটিতে এসেছে ১১১ রান। আর কোনো জুটি স্পর্শ করতে পারেনি ২৫ রানও। ফিফটি করা এই দুই ব্যাটসম্যান ছাড়া দু অঙ্ক ছুঁয়েছেন আর কেবল টিম পেইন, ১১!

সকালে বৃষ্টির জন্য খেলা শুরু হয় সোয়া ১ ঘণ্টা দেরিতে। পেস সহায়ক কন্ডিশনে টস জিতে বোলারদের হাতে বল তুলে দেন জো রুট। ইংলিশ অধিনায়ককে হতাশ করেননি তার নতুন বলের দুই বোলার।

প্রথম সেশনে খেলা হয়েছে কেবল চার ওভার। প্রথম ব্রেক থ্রু আসে এর মধ্যেই। আগের দুই টেস্টে ব্যর্থ ক্যামেরন ব্যানক্রফটের জায়গায় সুযোগ পেয়ে মার্কাস হ্যারিস ফিরেছেন ৮ রানেই। আর্চারের দুর্দান্ত ডেলিভারির জবাব ছিল না বাঁহাতি বাটসম্যানের।

বৃষ্টিতে দ্বিতীয় সেশনেও খেলা হতে পেরেছে কেবল ১৪ ওভার। এই সেশনে অস্ট্রেলিয়া হারায় তিনে নামা উসমান খাওয়াজার উইকেট।

ওয়ার্নার ও লাবুশেনের ব্যাটে শুরুর সেই ধাক্কা দারুণভাবে সামাল দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে একটু নড়বড়ে থাকলেও ওয়ার্নার ছন্দ খুঁজে পান পরে। লাবুশেন ছিলেন দারুণ গোছানো ও মনোযোগী। চা বিরতির পরে প্রথম ঘণ্টায় এক পর্যায়ে ১১ ওভারেই ৭০ রান তুলে ফেলেন দুজন। জুটি পেরিয়ে যায় শতরান।

সেখান থেকে ইংলিশদের ম্যাচে ফেরান আর্চার। এই জুটি ভাঙেন আরেকটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে। ৯৪ বলে ৬১ রান করে ওয়ার্নার ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে।

জুটি ভাঙার পর ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন আপ। অসাধারণ এক সুইঙ্গিং ডেলিভারিতে হেডকে শূন্য রানে ফেরান ব্রড। আর্চারকে ঠিকমতো খেলতে না পেরে ম্যাথু ওয়েডও ফেরেন শূন্যতে।

ইংলিশদের দুর্দান্ত বোলিং অন্যদের কাবু করলেও লাবুশেন খেলছিলেন দারুণ নির্ভরতায়। কিন্তু তার দারুণ ইনিংসটি শেষ হলো বিস্ময়করভাবে। বেন স্টোকসের স্টাম্প সোজা ফুলটসে লাইন মিস করে হয়ে গেলেন এলবিডব্লিউ।

আর্চার-ব্রডের দুর্দান্ত বোলিংয়ের দিনে স্টোকস ও ক্রিস ওকস ছিলেন না নিজেদের সেরা চেহারায়। তার পরও স্টোকসের মতো একটি উইকেটের দেখা পেয়েছেন ওকস। আর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের লেজ মুড়িয়ে দিয়ে আর্চার মাতিয়েছেন হেডিংলির গ্যালারি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৫২.১ ওভারে ১৭৯ (ওয়ার্নার ৬১, হ্যারিস ৮, খাওয়াজা ৮, লাবুশেন ৭৪, হেড ০, ওয়েড ০, পেইন ১১, প্যাটিনসন ২, কামিন্স ০, লায়ন ১, হেইজেলউড ১*; ব্রড ১৪-২-৩২-২, আর্চার ১৭.১-৩-৪৫-৬, ওকস ১২-৪-৫১-১, স্টোকস ৯-০-৪৫-১)।


ট্যাগ:  ইংল্যান্ড  ম্যাচ রিপোর্ট  আর্চার  অস্ট্রেলিয়া  টেস্ট