রহমতের স্বপ্ন পূরণের আনন্দ

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম থেকে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-09-05 19:50:50 BdST

bdnews24

যে কোনো টেস্ট সেঞ্চুরিই স্পেশাল কিছু। প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তো আরও স্মরণীয়। আর যদি হয় দেশের টেস্ট ইতিহাসেরই প্রথম সেঞ্চুরি? একটি দেশের কেবল একজন ক্রিকেটারের সৌভাগ্য হয় সেই ইতিহাসের অংশ হওয়ার। অনির্বচনীয় সেই স্বাদ পেয়ে উচ্ছ্বসিত রহমত শাহ।

উইকেটে রহমতের উদযাপনে অবশ্য সেই আনন্দের প্রকাশ ততটা ছিল না। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনের শেষ সেশনে নাঈম হাসানের বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে স্পর্শ করলেন সেঞ্চুরি। আফগানিস্তান পেল প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। কিন্তু রহমতকে দেখে সেটি বোঝা উপায়ই ছিল না।

না দেখা গেল কোনো খ্যাপাটে দৌড়, না লাফ দিয়ে আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা। ছুটে চলাতেও নেই গতি। বল বাউন্ডারি পেরিয়ে যাওয়ার পর আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলেন উইকেটে সঙ্গী আসগর আফগানের দিকে।

এরপর অবশ্য ধীরে ধীরে হেলমেট খুললেন। ব্যাট উঁচিয়ে দর্শকের অভিনন্দনের জবাব দিলেন। সেটিও ক্ষনিকের জন্য। ইতিহাস গড়ার উদযাপন বলতে ওইটুকুই!

আগের টেস্টেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্টাম্পের বাইরের বল টেনে এনে বোল্ড হয়েছিলেন ৯৮ রানে। এরপর আর দেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারতেন। সেই হতাশা মুছে ফেলে ঠিকই করলেন সেঞ্চুরি। উদযাপনটা আরও উচ্ছ্বাসে ভরা হতে পারত এ কারণেও।

বিস্ময়টা অবশ্য অনেকটা কমে এলো দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে। ভালোলাগার প্রকাশ মাঠে তীব্র হয়ে ফুটিয়ে না তুললেও তার ভেতরটা আন্দোলিত হয়েছে যথেষ্টই। শোনালেন স্বপ্ন পূরণের গল্প।

“আফগানিস্তানের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার স্বপ্ন ছিল আমার। আগের টেস্টে ৯৮ রানে আউট হওয়ার পর তাই স্বাভাবিকভাবেই আমি খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। আজকে আবার সুযোগ পেয়েছি, এবার হাতছাড়া করিনি।”

“আমার জন্য এটি দারুণ গর্বের মুহূর্ত। দেশের হয়ে প্রথম টেস্ট ফিফটির রেকর্ডও আমার। এখন দেশের প্রথম সেঞ্চুরিও করলাম আমিই।”

তার উদযাপন যতটা মার্জিত, ব্যাটিংও ততটা পরিশীলিত।নিজের ঘরানার বাইরে যান না। ফাঁদে পা দেওয়ার আসক্তি নেই। এক মনে, একই গতিতে খেলে যান নিজের মতো। সাত স্পিনারে গড়া বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ তাই চিড় ধরাতে পারেনি তার মনোসংযোগে। খুঁত বের করতে পারেনি তার ব্যাটিংয়ে। টলাতে পারেনি তার ধরন থেকে।

সেঞ্চুরির পরের বলেই অবশ্য আউট হয়ে গেছেন ১০২ রান করে। অভিজ্ঞতার সঙ্গে হয়তো শিখবেন সেঞ্চুরিকে বড় করতে, ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে। তবে তিন টেস্টেই যা করেছেন, টেস্ট ব্যাটিংয়ের যে ছাপ এর মধ্যেই রাখতে পেরেছেন, বড় ক্যারিয়ারের স্বপ্ন রহমত দেখতেই পারেন!


ট্যাগ:  বাংলাদেশ-আফগানিস্তান  আফগানিস্তান  রহমত