যার হাত ধরে ‘নষ্ট সময়’ থেকে স্বপ্নের সময়ে আফগান ক্রিকেট

  • আরিফুল ইসলাম রনি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-09-13 13:50:54 BdST

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে তখন সবে ক্রিকেট শুরু হয়েছে। লোকে ভীষণ বিরক্ত। হাসাহাসিও করেন কেউ কেউ। অনেকের কাছেই এটি আফগানদের খেলা নয়। খামাখা সময় নষ্ট করছে বলে নিয়মিতই তিরষ্কার করা হতো ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের। আজ ক্রিকেটই আফগানদের দিয়েছে নতুন পরিচয়। গোটা দেশ ভাসছে ক্রিকেট জোয়ারে। সেই ‘নষ্ট’ সময়গুলোই আজ উপহার দিয়েছে স্বপ্নময় সময়। এই স্বপ্নযাত্রার অন্যতম সারথি, ধ্বংসস্তুপ থেকে আফগান ক্রিকেটের আজকের পর্যায়ে উঠে আসার পুরো পথচলায় ছিলেন ও আছেন যিনি, সেই নওরোজ মঙ্গল শোনালেন তাদের রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প।

একজন নওরোজ মঙ্গল

বৃহস্পতিবার মিরপুর একাডেমি মাঠে অনুশীলন করছিল আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। একের পর এক বাটসম্যান নেটে যাচ্ছেন। অনুশীলন করে এসে খানিকটা জিরিয়ে নিচ্ছেন। একজনের বিশ্রাম নেই। নেটে ক্লান্তিহীন বল ছুঁড়ে যাচ্ছেন আর্ম থ্রোয়ারে। ব্যাটসম্যানদের দেখিয়ে দিচ্ছেন নানা দিক। সবার অনুশীলন যখন শেষ হলো, তখনই কেবল ক্ষান্তি দিলেন। তিনি নওরোজ মঙ্গল, আফগানিস্তানের ব্যাটিং কোচ।

একটু পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের জন্য এসেই বললেন, “বেশ ক্লান্ত লাগছে…।” তবে মুখে ঠিকই হাসি। কথাও বললেন প্রাণখুলে, শ্রান্তির রেশ তাতে থাকল সামান্যই।

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্ট নিয়ে কথা হচ্ছিল। নিজে থেকেই বললেন, “আমি কিন্তু ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট ম্যাচ দেখেছিলাম মাঠে বসে (পেশোয়ারে)! আজ আমাদের দল সেই বাংলাদেশকে টেস্টে হারিয়ে দিয়েছে…!”

মঙ্গলের চোখে-মুখে তখন তৃপ্তির রেশ। দৃষ্টিতে ফুটে ওঠে গত গত ১৬ বছরের ছবি।

পেশোয়ারের শরনার্থী শিবিরে থাকতেন একসময়। নিয়মিত মাঠে গিয়ে খেলা দেখতেন। আর স্বপ্ন দেখতেন আফগানিস্তানের হয়ে খেলার। সেই স্বপ্ন ঠিকই পূরণ করেছেন। আদতে, স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে গেছেন অনেক জায়গায়। ছাড়িয়েছে তার দেশ।

আফগানিস্তানের প্রথম বড় ম্যাচে তিনি খেলেছেন। পরে অধিনায়কত্ব পেয়েছেন। দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক অধিনায়কও তিনি। তার নেতৃত্বেই দেশ প্রথমবার খেলেছে বিশ্বমঞ্চে। বড় বড় দলগুলির সঙ্গে লড়াই করেছে, জিততে শিখেছে।

দেশকে মোটামুটি এক ভিতে দাঁড় করিয়ে পরে অবসর নিয়েছেন। হয়েছেন জাতীয় নির্বাচক। এখন দলের ব্যাটিং কোচ। টি-টোয়েন্টি ঘরানার আফগান ব্যাটিং যে টেস্টেও মানিয়ে নিচ্ছে দারুণভাবে, সেটির বড় কৃতিত্ব এই ব্যাটিং কোচের।

সব মিলিয়ে, মঙ্গলের ক্রিকেট জীবনকেই বলা যায় আফগানিস্তান ক্রিকেটের সমান! 

ধ্বংসস্তুপ থেকে আফগান রূপকথা

আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড গঠিত হয় ১৯৯৫ সালে। তালেবান রাজত্বের সময় অন্য সব খেলার মতো ক্রিকেটও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল আফগানিস্তানে। পরে ক্রিকেটের প্রতি সদয় হয় তালেবানরা, কেবল এই একটি খেলারই অনুমতি ছিল।

২০০১ সালে তারা আইসিসির ‘অ্যাফিলিয়েট’ সদস্যপদ পায়। ২০০৩ সালে পায় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সদস্যপদ।

পাকিস্তানের বিভিন্ন শরনার্থী শিবিরে যারা থাকতেন, তারাই আফগানিস্তানে গিয়ে মূলত খেলতেন তখন। মঙ্গল ছিলেন সেই দলেই। পাকিস্তানে থাকার সময়ই ক্রিকেটের প্রেমে পড়েন। খেলতেন নিয়মিত, খেলা দেখতেন। নিজ দেশের হয়ে খেলবেন, ছবি আঁকতেন মনে।

প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তান সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল আফগান ক্রিকেটে। আফগানিস্তান দলকে আমন্ত্রণ জানানো হতো পাকিস্তানের বিভিন্ন ঘরোয়া দলগুলোর সঙ্গে খেলতে। মঙ্গল সেসব দলে খেলতেন।

২০০৪ এসিসি ট্রফি দিয়ে আফগানদের প্রথম বড় কোনো আসরে যাত্রা শুরু। কুয়ালা লামপুরে সেই ম্যাচে ওপেন করে সেঞ্চুরি করেছিলেন মঙ্গল। এখনকার দলের আসগর আফগান (তখন আসগর স্টানিকজাই), শাপুর জাদরান, মোহাম্মদ নবিরা ছিলেন সেই দলেও।

ম্যাচে অবশ্য ওমানের কাছে হেরে গিয়েছিল আফগানিস্তান। তবে শেষ পর্যন্ত চার দলের গ্রুপে তারা হয়েছিল দ্বিতীয়। প্রথম আসর হিসেবে খারাপ নয়!

এরপর আফগান ক্রিকেট এগিয়ে গেছে তরতর করে। ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডে গিয়ে কাউন্টির দ্বিতীয় সারির দলগুলির সঙ্গে খেলার সুযোগ পায় তারা। ২০০৭ সালে মঙ্গল পান নেতৃত্ব। এসিসি ট্রফি জিতে আফগানিস্তান পায় প্রথম শিরোপার স্বাদ।

২০০৮ সালে তারা খেলে আইসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগ ডিভিশন ফাইভে। সেখান থেকে ডিভিশন ফোর, থ্রি হয়ে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় এগিয়ে যায় সামনে। এই পথচলায় মঙ্গল নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে।

২০০৯ সালেই আফগানিস্তান খেলে ফেলে প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে। মঙ্গলের নেতৃত্বে প্রথম ম্যাচেই আফগানরা হারিয়ে দেয় ক্রিকেট ঐতিহ্যে অনেক সমৃদ্ধ স্কটল্যান্ডকে। ২০১০ সালে মঙ্গলের নেতৃত্বেই আফগানরা খেলে প্রথম টি-টোয়েন্টি।

আফগানদের স্বপ্নতরী দ্রুতই ভিড়ে বিশ্বমঞ্চের তীরে। ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তারা বাছাইপর্ব পেরিয়ে। বিশ্ব ‌আসরেও প্রথম অধিনায়ক ছিলেন মঙ্গল।

পরের গল্পটা ক্রিকেট অনুসারীদের অনেকটাই জানা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, বড় দলগুলোকে কাঁপিয়ে এগিয়ে চলা এবং টেস্ট মর্যাদা পাওয়া।

তবে আফগান ক্রিকেটের ছুটে চলার যে ছবি বাইরে থেকে দেখা গেছে, ভেতরের বাস্তবতা অবশ্যই ততটা মসৃণ ছিল না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে অসংখ্য সঙ্কট, বেঁচে থাকার নিত্য লড়াই, যেখানে মৃত্যু ওঁত পেতে ছিল প্রায় প্রতি পদক্ষেপে, সেখানে ক্রিকেট ছিল বিলাসিতার চেয়েও বেশি কিছু।

মঙ্গল স্মৃতিতে ফিরে এলো লড়াইয়ের সেই দিনগুলি।

“শুরুতে আমাদের কোনো অবকাঠামোই ছিল না। মাঠ ছিল না, অনুশীলনের সুযোগ সুবিধা ছিল না। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ, হাজারও সমস্যা ছিল। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল, লোকে ক্রিকেট সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানত না। তারা মনে করত, এটা আমাদের দেশের খেলা হতে পারে না। অনেকেই আমাদেরকে বলেছে যে আমরা সময় নষ্ট করছি। হাসাহাসি করতো, বিরক্ত হতো।”

সেই চিত্র পাল্টে দিল মাঠের ক্রিকেটে আফগানদের সাফল্য। নানা সঙ্কটের মধ্যে মানুষ একটু হাসি, একটু বিনোদনের উপলক্ষ্য পেল ক্রিকেটে। অনেক নেতিবাচকতার ভিড়ে আফগানদের ইতিবাচক পরিচয়ে তুলে ধরতে শুরু করল ক্রিকেট। জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকল খেলার। একটি জাতির নতুন পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া আর উৎসবের উপলক্ষ্য হয়ে উঠল ক্রিকেট।

সাফল্যের সঙ্গে আসতে থাকল অর্থ ও খ্যাতি। মঙ্গলের মতে, সবকিছু মিলিয়ে বদলে গেল আফগানদের ক্রিকেটীয় দৃষ্টিভঙ্গি।

“আমরা জিততে শুরু করার পর সব বদলাতে শুরু করে। ক্রিকেটে আগ্রহ জন্মাতে থাকে সবার। লোকের ভালোবাসা পেতে শুরু করি। এরপর যখন দেখা গেল, ক্রিকেট খেলে নাম হচ্ছে, টাকা পয়সা আসছে, মোহাম্মদ নবির মতো তারকা উঠে এসেছে, ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা তখন দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকল। পরে তো রশিদ, মুজিবরা এলো, বড় তারকা হয়ে উঠল। সবাই দেখছে ক্রিকেট খেলে অনেক টাকা আয় করা যায়। অভিভাবকরাও ভাবে, তাদের ছেলেরাও খেলুক, টাকা আয় করুক।”

শুরুতে মঙ্গল নিজের পরিবার থেকেও বাধা পেয়েছিলেন প্রবল। তার বাবা চাননি ছেলে ক্রিকেটে আসুক। সেই সময়ের বাস্তবতায় কোনো বাবাই ছেলেকে অনিশ্চয়তায় যেতে দেওয়ার কথা নয়। মঙ্গলের কোচ অনেক বুঝিয়ে তবেই রাজী করান পরিবারকে। সেই ছেলেই পরে কেবল জাতীয় দলের  অধিনায়ক নন, হয়ে ওঠেন যেন একটি জাতির এগিয়ে চলার নায়ক!

উত্তরসূরিদের মাঝেই টেস্ট স্বপ্ন পূরণ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুর পথচলাও সহজ ছিল না। তবে মানিয়ে নিতে খুব সময় নেয়নি আফগানরা। ভয়ডরহীন ক্রিকেট দিয়ে লড়িয়ে দল হিসেবে দ্রুতই নিজেদের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলে বিশ্ব ক্রিকেটে। মঙ্গল জানালেন, তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন কিছু করে দেখাতে।

“শুরুতে অবশ্যই আমাদের ধুঁকতে হয়েছে। অনেক লড়াই করতে হয়েছে। আমরা এক সময় টি-টোয়েন্টি খেলা শুরু করলাম। বাছাইপর্ব উতরে ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেললাম। আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন ছিল। একসময় আমি পাকিস্তানের মাঠে বসে নিয়মিত খেলা দেখেছি। সেই পাকিস্তানের বিপক্ষে খেললাম। সবকিছু ছিল স্বপ্নের মতো। আসলে তখন ওই পর্যায়ে খেলতে পারাই ছিল বড় ব্যাপার।”

“২০১২ সাল থেকে যখন আমরা বড় বড় দলগুলির সঙ্গে খেলা শুরু করলাম, তখন থেকে দ্রুত উন্নতি হয়েছে। বড় দলগুলোকে নিয়মিত বিপদে ফেলেছি আমরা। বড় ক্রিকেটারদের ভুগিয়েছি। ক্রমে বুঝিয়ে দিয়েছি, আমরা দুর্বল নই। ওদেরকে কঠিন সময় উপহার দিয়ে আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি যে আমরা উঠে আসছি।”

একসময় টেস্ট ক্রিকেট তার স্বপ্নের সীমানাতেও ছিল না। টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে নিয়মিত খেলার সময় টেস্টের স্বপ্নও উঁকি দিতে শুরু করে। কিন্তু তার ক্যারিয়ারের সময়ও ফুরিয়ে আসছিল। ধুঁকে ধুঁকে টিকে থাকার সময় পর্যন্ত থাকতে চাননি। তাই ২০১৭ সালের শুরুতেই ইতি টানেন ক্রিকেট ক্যারিয়ারে।

৪৯ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে ২ সেঞ্চুরি ও ৪ ফিফটিতে করেছেন ১ হাজার ১৩৯ রান। ৩২ টি-টোয়েন্টিতে রান করেছেন ৫০৫। অনিয়মিত স্পিনে আছে ১২টি আন্তর্জাতিক উইকেট।

ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করা মাত্র পেয়ে যান জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব।

নিজে টেস্ট খেলতে পারেননি। তবে একসময়ের সতীর্থরা ও উত্তরসূরিরা খেলছেন, এতেও তৃপ্তি কম নয় মঙ্গলের।

“এক পর্যায়ে টেস্ট খেলাটাও ছিল আমার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে আমার দেশ টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে, আমাদের ছেলেরা খেলছে, এটাও কম তৃপ্তিদায়ক নয়।”

“২০০৩ সালে পেশোয়ারে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের টেস্ট দেখেছিলাম আমি। টেস্ট খেলার স্বপ্নও তখন দেখতাম না। তবে মনে হতো, যদি ক্রিকেট খেলতে পারতাম দেশের হয়ে! আজ সেই বাংলাদেশকে টেস্টে হারিয়েছে আমার দল। আমি খেলতে না পারলেও কোচ হিসেবে আছি, এটা জীবনের অনেক বড় পাওয়া।”

টেস্ট মানসিকতার চ্যালেঞ্জ

মঙ্গল যে ঘরানার ব্যাটসম্যান ছিলেন, টেস্টের জন্য হতে পারতেন আদর্শ। ঠাণ্ডা মাথায় ধৈর্য্য ধরে উইকেট আঁকড়ে রাখা, ইনিংস গড়ে তোলা ছিল তার খেলা। তার সৌভাগ্য হয়নি টেস্ট খেলার। এখন উত্তরসূরিদের মাঝে গেঁথে দিতে চাইছেন টেস্ট মানসিকতার ছাপ। 

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আগ্রাসী ও অপ্রথাগত ক্রিকেট দিয়ে আফগানরা নজর কেড়েছিল। কিন্তু টেস্টে তো প্রয়োজন লম্বা সময় উইকেটে থাকা। সেশন বাই সেশন খেলা। টেস্টে আফগানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এটিই।

বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে আফগানরা জানিয়ে দিয়েছে, এই চ্যালেঞ্জও জয় করতে তারা প্রস্তুত। তাদের টেস্ট ঘরানার ব্যাটিং চমকে দিয়েছে অনেককেই। কৃতিত্বের দাবিদার অনেকটাই মঙ্গল। প্রধান নির্বাচক থেকে এখন যিনি ব্যাটিং কোচ।

মঙ্গল জানালেন, টেস্টের দাবি মেটাতেই কাজ করছেন তারা।

“খেয়াল করলেই দেখবেন, আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। আগের চেয়ে আরও পোক্ত ও আঁটসাঁট ব্যাটিং করে ছেলেরা। ওরা খুবই প্রতিভাবান ও দ্রুত উন্নতি করতে পারে। এজন্যই মানিয়ে নিচ্ছে।”

“আগে আমরা শুধু সংক্ষিপ্ত সংস্করণই খেলতাম। অনেক বেশি খেলেছি। তাই ব্যাটিং ওরকম ছিল। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনেই পরে ডিফেন্স পোক্ত করতে হয়েছে। বল ছাড়া শিখতে হয়েছে। ওরা খুব দ্রুত শিখেছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটও খুব সাহায্য করেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ওরা নিয়মিত খেলছে ও শিখছে। ওরা খুবই স্মার্ট, মানিয়ে নিতে পারে। ধৈর্য্যও বাড়ছে।”

নিজেদের প্রথম টেস্টে ভারতের কাছে স্রেফ উড়ে গিয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু পরের দুই টেস্টেই জিতল আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিপক্ষে। মঙ্গল জানেন, সামনে চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হবে। তারাও প্রস্তুতও হচ্ছেন সেভাবেই।

“প্রথম টেস্ট ভালো কাটেনি। আমরা জানতাম, মূল চ্যালেঞ্জ হবে চাপ সামলানো। চাপ সামলাতে পারলেই আমরা এগিয়ে যাব। আমরা স্কিল নিয়ে কাজ করছি, মানসিকতা উন্নতির চেষ্টা করছি। আশা করছি ভবিষ্যতে টেস্টে আরও ভালো করব।”

তৃপ্তির ছায়া

আফগান ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে, দেখতে খুব ভালো লাগে মঙ্গলের। আরও বেশি তৃপ্তি পান, পেছন ফিরে তাকালে। শুরুর ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময় পেরিয়ে আজ যে অবস্থানে আফগান ক্রিকেট, অক্লান্ত শ্রম আর নিবেদনের যে মূল্য তারা পেয়েছেন, দিন শেষে ভাবলে তৃপ্তিতে ভরে যায় মঙ্গলের মন।

“অনেক অনেক তৃপ্তিদায়ক। অনেক অনেক ধুঁকে, অনেক লড়াই করার পর স্বপ্ন সত্যি হয়ে ধরা দেয়, সেই তৃপ্তি অনন্য। আমি সন্তুষ্ট। একসময় কোনো মাঠ ছিল না আমাদের, অনেক ছোট জায়গায় কোনোরকমে খেলেছি। এখন আমরা নিয়মিত সিরিজ খেলছি ক্রিকেট বিশ্ব জুড়ে।”

“ক্রিকেট বোর্ড শক্ত ভিত পেয়ে গেছে। অনেক ভালো কাজ করছে। ভালো মাঠ আছে, একাডেমি আছে, এসব দেখে অনেক ভালো লাগে। মন থেকে কিছু চাইলে ও কঠোর পরিশ্রম করলে সাফল্য মিলবেই। আফগান ক্রিকেট সেটিরই প্রমাণ।”

আফগান ক্রিকেটের সামনের পথচলায়ও থাকতে চান মঙ্গল। প্রায় শূন্য থেকে যেভাবে এগিয়ে নিয়েছেন দেশের ক্রিকেটকে, সেভাবেই এগিয়ে নিতে চান শিখর পানে।

“অবশ্যই ক্রিকেটে থাকতে চাই। আমি আমার সিনিয়রদের কাছ থেকে শিখেছিলাম। এখন উত্তরসূরিদের শেখানোর চেষ্টা করছি। জীবনের প্রতিটি ধাপ আমি উপভোগ করছি। যখন ক্রিকেটার ছিলাম অধিনায়ক হলাম, পরে নির্বাচক, এখন কোচ, সবই ছিল ভিন্ন অভিজ্ঞতা, আমি উপভোগ করেছি।”

“এই দেশ আমাদের সুনাম দিয়েছে, সম্মান দিয়েছে। আমরাও দেশকে কিছু দিতে চাই। দেশের জন্য অনেক কিছু করতে চাই।”


ট্যাগ:  ফিচার-বিশ্লেষণ  মঙ্গল  আফগানিস্তান